খবর | ভ্রূণের ডায়াপজ প্রক্রিয়া বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় নতুন দিশা দিতে পারে
খাদ্যের সংকট বা কঠোর পরিবেশগত পরিস্থিতিতে গর্ভধারণ বজায় রাখা কঠিন। তাই অনেক স্তন্যপায়ী প্রাণীর ভ্রূণ পরিবেশগত চাপের সময় বৃদ্ধি সাময়িকভাবে থামিয়ে দিতে পারে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার বিকশিত হয়। বিকাশের এই বিরতিকে ভ্রূণীয় ডায়াপজ বলা হয়। এর প্রক্রিয়া বোঝা ভ্রূণ সংরক্ষণের মতো বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। সাংহাইয়ে চীনা বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির Center for Excellence in Brain Science and Intelligence Technology-এর গবেষকেরা খাদ্যবঞ্চিত গর্ভবতী ইঁদুরের ভ্রূণ কীভাবে পুষ্টির ঘাটতি শনাক্ত করে ডায়াপজে প্রবেশ করে, তা আবিষ্কার করেছেন। তাদের ফলাফল Development-এ প্রকাশিত হয়েছে।
খাদ্যবঞ্চনা ভ্রূণীয় ডায়াপজের একটি পরিচিত উদ্দীপক, তবে মায়ের খাদ্যে পুষ্টির ঘাটতি ভ্রূণ কীভাবে শনাক্ত করে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গবেষণাটির নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক Qiang Sun ব্যাখ্যা করেন, "প্রকৃতিতে ঋতুভিত্তিক ক্ষুধা একটি সাধারণ পরিবেশগত চাপ। তবে প্রাথমিক ভ্রূণে ডায়াপজের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তাই পুষ্টির ঘাটতি ভ্রূণীয় ডায়াপজ ঘটায় কি না, তা অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিই।"
খাদ্যবঞ্চিত ও স্বাভাবিকভাবে খাওয়ানো গর্ভবতী ইঁদুরের তুলনা করে দলটি দেখেছে, খাদ্যবঞ্চিত ইঁদুরের ভ্রূণ জরায়ুতে প্রতিস্থাপিত হয়নি এবং প্রাথমিক ফাঁপা কোষগোলক পর্যায়ে বৃদ্ধি থেমে গেছে। ভালোভাবে পুষ্ট স্ত্রী ইঁদুরে স্থানান্তর করার পরও ভ্রূণগুলো জীবিত ছিল এবং বিকাশ আবার শুরু করে।
ডায়াপজ ঘটাতে কোন পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ তা শনাক্ত করতে গবেষকেরা বিভিন্ন পুষ্টিসমৃদ্ধ পাত্রে প্রাথমিক ইঁদুরের ভ্রূণ কালচার করেন। প্রোটিন বা কার্বোহাইড্রেট ছাড়া বেড়ে ওঠা ভ্রূণের বিকাশ থেমে যায়, আর স্বাভাবিক পুষ্টির মাত্রায় থাকা ভ্রূণ বিকশিত হতে থাকে। পরে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, ভ্রূণের পুষ্টি-সংবেদকগুলো প্রোটিন বা কার্বোহাইড্রেটের কমে যাওয়া মাত্রা শনাক্ত করে এবং ডায়াপজে প্রবেশের সংকেত দেয়।
ফলাফল ইঙ্গিত করে, প্রোটিন বা কার্বোহাইড্রেট থেকে বঞ্চিত ভ্রূণ পরীক্ষাগারে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। ভবিষ্যতে এটি ভ্রূণ সংরক্ষণসহ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা উন্নত করতে পারে। অধ্যাপক Sun বলেন, "আমরা মনে করি, আমাদের গবেষণা ভ্রূণ সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি তৈরিতে অনুপ্রেরণা দিতে পারে। ক্রায়োপ্রিজারভেশন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও হিমায়িত ভ্রূণ কখন গলিয়ে স্থানান্তর করা উচিত সে বিষয়ে ঐকমত্য নেই। অনেক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, প্রচলিত হিমায়িত ভ্রূণ স্থানান্তরে গর্ভাবস্থার জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ভ্রূণ সংরক্ষণের বিকল্প পদ্ধতি প্রয়োজন।"
ডায়াপজ নিয়ে গবেষণার ক্যানসার চিকিৎসায়ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকতে পারে।
অধ্যাপক Qiang Sun আরও বলেন, "কেমোথেরাপির পর টিকে থাকা সুপ্ত ক্যানসার কোষ ডায়াপজে থাকা ভ্রূণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই আমরা অনুমান করি, ডায়াপজের প্রক্রিয়া আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে ক্যানসার চিকিৎসায় উপকার হতে পারে এবং পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।"
খবর | ভ্রূণের ডায়াপজ প্রক্রিয়া বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় নতুন দিশা দিতে পারে
খবর | ভ্রূণের ডায়াপজ প্রক্রিয়া বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় নতুন দিশা দিতে পারে
খাদ্যের সংকট বা কঠোর পরিবেশগত পরিস্থিতিতে গর্ভধারণ বজায় রাখা কঠিন। তাই অনেক স্তন্যপায়ী প্রাণীর ভ্রূণ পরিবেশগত চাপের সময় বৃদ্ধি সাময়িকভাবে থামিয়ে দিতে পারে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার বিকশিত হয়। বিকাশের এই বিরতিকে ভ্রূণীয় ডায়াপজ বলা হয়। এর প্রক্রিয়া বোঝা ভ্রূণ সংরক্ষণের মতো বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। সাংহাইয়ে চীনা বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির Center for Excellence in Brain Science and Intelligence Technology-এর গবেষকেরা খাদ্যবঞ্চিত গর্ভবতী ইঁদুরের ভ্রূণ কীভাবে পুষ্টির ঘাটতি শনাক্ত করে ডায়াপজে প্রবেশ করে, তা আবিষ্কার করেছেন। তাদের ফলাফল Development-এ প্রকাশিত হয়েছে।
খাদ্যবঞ্চনা ভ্রূণীয় ডায়াপজের একটি পরিচিত উদ্দীপক, তবে মায়ের খাদ্যে পুষ্টির ঘাটতি ভ্রূণ কীভাবে শনাক্ত করে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গবেষণাটির নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক Qiang Sun ব্যাখ্যা করেন, "প্রকৃতিতে ঋতুভিত্তিক ক্ষুধা একটি সাধারণ পরিবেশগত চাপ। তবে প্রাথমিক ভ্রূণে ডায়াপজের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তাই পুষ্টির ঘাটতি ভ্রূণীয় ডায়াপজ ঘটায় কি না, তা অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিই।"
খাদ্যবঞ্চিত ও স্বাভাবিকভাবে খাওয়ানো গর্ভবতী ইঁদুরের তুলনা করে দলটি দেখেছে, খাদ্যবঞ্চিত ইঁদুরের ভ্রূণ জরায়ুতে প্রতিস্থাপিত হয়নি এবং প্রাথমিক ফাঁপা কোষগোলক পর্যায়ে বৃদ্ধি থেমে গেছে। ভালোভাবে পুষ্ট স্ত্রী ইঁদুরে স্থানান্তর করার পরও ভ্রূণগুলো জীবিত ছিল এবং বিকাশ আবার শুরু করে।
ডায়াপজ ঘটাতে কোন পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ তা শনাক্ত করতে গবেষকেরা বিভিন্ন পুষ্টিসমৃদ্ধ পাত্রে প্রাথমিক ইঁদুরের ভ্রূণ কালচার করেন। প্রোটিন বা কার্বোহাইড্রেট ছাড়া বেড়ে ওঠা ভ্রূণের বিকাশ থেমে যায়, আর স্বাভাবিক পুষ্টির মাত্রায় থাকা ভ্রূণ বিকশিত হতে থাকে। পরে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, ভ্রূণের পুষ্টি-সংবেদকগুলো প্রোটিন বা কার্বোহাইড্রেটের কমে যাওয়া মাত্রা শনাক্ত করে এবং ডায়াপজে প্রবেশের সংকেত দেয়।
ফলাফল ইঙ্গিত করে, প্রোটিন বা কার্বোহাইড্রেট থেকে বঞ্চিত ভ্রূণ পরীক্ষাগারে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। ভবিষ্যতে এটি ভ্রূণ সংরক্ষণসহ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা উন্নত করতে পারে। অধ্যাপক Sun বলেন, "আমরা মনে করি, আমাদের গবেষণা ভ্রূণ সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি তৈরিতে অনুপ্রেরণা দিতে পারে। ক্রায়োপ্রিজারভেশন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও হিমায়িত ভ্রূণ কখন গলিয়ে স্থানান্তর করা উচিত সে বিষয়ে ঐকমত্য নেই। অনেক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, প্রচলিত হিমায়িত ভ্রূণ স্থানান্তরে গর্ভাবস্থার জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ভ্রূণ সংরক্ষণের বিকল্প পদ্ধতি প্রয়োজন।"
ডায়াপজ নিয়ে গবেষণার ক্যানসার চিকিৎসায়ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকতে পারে।
অধ্যাপক Qiang Sun আরও বলেন, "কেমোথেরাপির পর টিকে থাকা সুপ্ত ক্যানসার কোষ ডায়াপজে থাকা ভ্রূণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই আমরা অনুমান করি, ডায়াপজের প্রক্রিয়া আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে ক্যানসার চিকিৎসায় উপকার হতে পারে এবং পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।"
সংবাদের উৎস:
অনলাইনে সংগৃহীত