সংবাদ | C. elegans গবেষণা মানব প্রজননক্ষমতা ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে
ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা Caenorhabditis elegans (C. elegans)-এর সিন্যাপটোনেমাল কমপ্লেক্স (SC)-এর মধ্যে জটিল আন্তঃক্রিয়া প্রকাশের একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি করেছেন। SC হলো জিপারের মতো একটি প্রোটিন কাঠামো, যা মিয়োসিসের সময় পিতামাতার ক্রোমোজোম-জোড়াগুলোকে দৃঢ়ভাবে যুক্ত করে এবং জিনগত তথ্যের সফল বিনিময় সম্ভব করে। এই গবেষণা এসব প্রোটিন কীভাবে ক্রোমোজোমের আন্তঃক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে তা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ; প্রক্রিয়াটি জননকোষ গঠনের জন্য অপরিহার্য হলেও আগে পরীক্ষাগারে পুনরুৎপাদন করা কঠিন ছিল।
নতুন পদ্ধতিতে ক্রোমোজোমের গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃক্রিয়া উন্মোচিত
দলটি তিনটি প্রোটিন অংশ শনাক্ত করেছে, যা ক্রোমোজোমগুলোর মধ্যে আন্তঃক্রিয়া পরিচালনা করে, এবং তারা কোথায় পারস্পরিক ক্রিয়া করে তা নির্ধারণ করেছে। গবেষকেরা জেনেটিক সাপ্রেসর স্ক্রিনিং নামে একটি কৌশল ব্যবহার করেছেন; প্রচলিত কাঠামোগত বিশ্লেষণে পরীক্ষা করা কঠিন এমন বৃহৎ কোষীয় কাঠামো নিয়ে গবেষণায় এই পদ্ধতি ব্যবহারের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ লেখক ওফার রোগ বলেন, “এই পদ্ধতি এমন কোষীয় সিস্টেমকে লক্ষ্য করতে পারে যেগুলো স্ফটিকীকরণের মাধ্যমে অধ্যয়ন করা যায় না। অনেক কোষীয় আন্তঃক্রিয়া শিথিলভাবে আবদ্ধ থাকে এবং সবকিছু ক্রমাগত নড়াচড়া করায় ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে সেগুলো দেখা যায় না।”
কোষের ভেতরের জটিল প্রক্রিয়া
মিয়োসিসের সময় ক্রোমোজোমগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে সারিবদ্ধ হতে এবং সঠিকভাবে জিনগত তথ্য বিনিময় করতে হয়। C. elegans-এ গবেষণা দেখায়, এই প্রক্রিয়ায় হোমোলগাস ক্রোমোজোমগুলোর মধ্যে SC গঠিত হয়, যা নির্ভুল জিনগত বিনিময় নিশ্চিত করে। গবেষণাটি প্রথমবারের মতো শনাক্ত করেছে SC নিজের সঙ্গে কোথায় আন্তঃক্রিয়া করে, যা মিয়োসিসে ক্রোমোজোম কীভাবে সফলভাবে জিন বিনিময় করে তা বোঝার জন্য অপরিহার্য।
গবেষকেরা তাপমাত্রা-সংবেদনশীল মিউট্যান্ট C. elegans ব্যবহার করেছেন, যেগুলো উচ্চ তাপমাত্রায় অপরিহার্য SC প্রোটিন জিপার গঠন করতে পারে না, ফলে জিনগত বিনিময় ব্যাহত হয়। রাসায়নিকভাবে উদ্দীপিত মিউটেশনের মাধ্যমে দলটি এমন সাপ্রেসর মিউটেশন শনাক্ত করেছে যা মিউট্যান্ট কৃমিগুলোর প্রজননক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে।
গবেষকেরা তিনটি SC প্রোটিন—SYP-1, SYP-3 এবং SYP-4—এর মধ্যেও আন্তঃক্রিয়া খুঁজে পেয়েছেন। বিপরীত চৌম্বক মেরুর আকর্ষণের মতো, এসব আন্তঃক্রিয়া ক্রোমোজোমগুলোকে একসঙ্গে ধরে রাখতে সহায়তা করে।
মানব প্রজননক্ষমতা গবেষণার তাৎপর্য
মিয়োসিসে SC-এর ভূমিকা বোঝা মানব প্রজননক্ষমতার সমস্যা সম্পর্কে ধারণা উন্নত করতে পারে। কৃমি ও ছত্রাক থেকে উদ্ভিদ ও মানুষ পর্যন্ত সব ইউক্যারিওটে SC একই ধরনের ভূমিকা পালন করে। প্রজাতিভেদে এর কাঠামো একই রকম হলেও প্রোটিন উপাদানগুলোর প্রকৃত অনুক্রম ভিন্ন। দলটি বিভিন্ন প্রজাতিতে SC-এর বিবর্তন এবং প্রচলিত বিবর্তনীয় ধরন অনুসরণ না করা অন্যান্য কোষীয় কাঠামো নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করছে।
সংবাদ | C. elegans গবেষণা মানব প্রজননক্ষমতা ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে
সংবাদ | C. elegans গবেষণা মানব প্রজননক্ষমতা ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে
ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা Caenorhabditis elegans (C. elegans)-এর সিন্যাপটোনেমাল কমপ্লেক্স (SC)-এর মধ্যে জটিল আন্তঃক্রিয়া প্রকাশের একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি করেছেন। SC হলো জিপারের মতো একটি প্রোটিন কাঠামো, যা মিয়োসিসের সময় পিতামাতার ক্রোমোজোম-জোড়াগুলোকে দৃঢ়ভাবে যুক্ত করে এবং জিনগত তথ্যের সফল বিনিময় সম্ভব করে। এই গবেষণা এসব প্রোটিন কীভাবে ক্রোমোজোমের আন্তঃক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে তা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ; প্রক্রিয়াটি জননকোষ গঠনের জন্য অপরিহার্য হলেও আগে পরীক্ষাগারে পুনরুৎপাদন করা কঠিন ছিল।
নতুন পদ্ধতিতে ক্রোমোজোমের গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃক্রিয়া উন্মোচিত
দলটি তিনটি প্রোটিন অংশ শনাক্ত করেছে, যা ক্রোমোজোমগুলোর মধ্যে আন্তঃক্রিয়া পরিচালনা করে, এবং তারা কোথায় পারস্পরিক ক্রিয়া করে তা নির্ধারণ করেছে। গবেষকেরা জেনেটিক সাপ্রেসর স্ক্রিনিং নামে একটি কৌশল ব্যবহার করেছেন; প্রচলিত কাঠামোগত বিশ্লেষণে পরীক্ষা করা কঠিন এমন বৃহৎ কোষীয় কাঠামো নিয়ে গবেষণায় এই পদ্ধতি ব্যবহারের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ লেখক ওফার রোগ বলেন, “এই পদ্ধতি এমন কোষীয় সিস্টেমকে লক্ষ্য করতে পারে যেগুলো স্ফটিকীকরণের মাধ্যমে অধ্যয়ন করা যায় না। অনেক কোষীয় আন্তঃক্রিয়া শিথিলভাবে আবদ্ধ থাকে এবং সবকিছু ক্রমাগত নড়াচড়া করায় ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে সেগুলো দেখা যায় না।”
কোষের ভেতরের জটিল প্রক্রিয়া
মিয়োসিসের সময় ক্রোমোজোমগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে সারিবদ্ধ হতে এবং সঠিকভাবে জিনগত তথ্য বিনিময় করতে হয়। C. elegans-এ গবেষণা দেখায়, এই প্রক্রিয়ায় হোমোলগাস ক্রোমোজোমগুলোর মধ্যে SC গঠিত হয়, যা নির্ভুল জিনগত বিনিময় নিশ্চিত করে। গবেষণাটি প্রথমবারের মতো শনাক্ত করেছে SC নিজের সঙ্গে কোথায় আন্তঃক্রিয়া করে, যা মিয়োসিসে ক্রোমোজোম কীভাবে সফলভাবে জিন বিনিময় করে তা বোঝার জন্য অপরিহার্য।
গবেষকেরা তাপমাত্রা-সংবেদনশীল মিউট্যান্ট C. elegans ব্যবহার করেছেন, যেগুলো উচ্চ তাপমাত্রায় অপরিহার্য SC প্রোটিন জিপার গঠন করতে পারে না, ফলে জিনগত বিনিময় ব্যাহত হয়। রাসায়নিকভাবে উদ্দীপিত মিউটেশনের মাধ্যমে দলটি এমন সাপ্রেসর মিউটেশন শনাক্ত করেছে যা মিউট্যান্ট কৃমিগুলোর প্রজননক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে।
গবেষকেরা তিনটি SC প্রোটিন—SYP-1, SYP-3 এবং SYP-4—এর মধ্যেও আন্তঃক্রিয়া খুঁজে পেয়েছেন। বিপরীত চৌম্বক মেরুর আকর্ষণের মতো, এসব আন্তঃক্রিয়া ক্রোমোজোমগুলোকে একসঙ্গে ধরে রাখতে সহায়তা করে।
মানব প্রজননক্ষমতা গবেষণার তাৎপর্য
মিয়োসিসে SC-এর ভূমিকা বোঝা মানব প্রজননক্ষমতার সমস্যা সম্পর্কে ধারণা উন্নত করতে পারে। কৃমি ও ছত্রাক থেকে উদ্ভিদ ও মানুষ পর্যন্ত সব ইউক্যারিওটে SC একই ধরনের ভূমিকা পালন করে। প্রজাতিভেদে এর কাঠামো একই রকম হলেও প্রোটিন উপাদানগুলোর প্রকৃত অনুক্রম ভিন্ন। দলটি বিভিন্ন প্রজাতিতে SC-এর বিবর্তন এবং প্রচলিত বিবর্তনীয় ধরন অনুসরণ না করা অন্যান্য কোষীয় কাঠামো নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করছে।
সংবাদের উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত