গাইড | গর্ভাবস্থায় রক্তমিশ্রিত স্রাবের অর্থ কী? বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর
রক্তমিশ্রিত স্রাব—যোনিপথ থেকে শ্লেষ্মার সঙ্গে রক্ত বের হওয়া—প্রসব এগিয়ে আসার একটি স্বাভাবিক লক্ষণ। সাধারণত এটি নির্দেশ করে যে জরায়ুমুখ প্রসারিত হতে শুরু করেছে। এর চেহারা ও সম্ভাব্য কারণ জানা থাকলে গর্ভবতী নারীরা কী আশা করবেন তা বুঝতে পারেন।
রক্তমিশ্রিত স্রাব কী?
জরায়ুমুখের ক্ষুদ্র রক্তনালি ফেটে গেলে এবং রক্ত শ্লেষ্মার প্লাগের সঙ্গে মিশলে রক্তমিশ্রিত স্রাব হয়। গর্ভাবস্থায় জরায়ুমুখে শ্লেষ্মার প্লাগ তৈরি হয় এবং এটি ভ্রূণকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে। প্রসবের কয়েক দিন আগে বা প্রসব শুরু হলে এটি বেরিয়ে আসে, কখনও রক্তসহ।
এটি কীভাবে চেনা যায়?
এর চেহারা বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন:
রক্তের দাগযুক্ত ঘন শ্লেষ্মা
বাদামি, গোলাপি, স্বচ্ছ বা সামান্য রক্তমিশ্রিত স্রাব
পরিমাণ সাধারণত এক বা দুই টেবিল-চামচের বেশি নয় এবং সাধারণত প্যাড বা প্যান্টি লাইনারের প্রয়োজন হয় না। রক্তপাত বেশি হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
রক্তমিশ্রিত স্রাব বনাম শ্লেষ্মার প্লাগ
দুটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও এগুলো আলাদা:
শ্লেষ্মার প্লাগ মূলত শ্লেষ্মা দিয়ে তৈরি ঘন পদার্থ, যা প্রসবের আগে বের হয়।
রক্তমিশ্রিত স্রাব হলো জরায়ুমুখের রক্তনালি ফেটে সামান্য রক্তপাত হওয়া, যা প্রায়ই শ্লেষ্মার প্লাগের সঙ্গে মিশে থাকে।
অন্যান্য উপসর্গ
যোনিপথের স্রাবের পাশাপাশি গর্ভবতী নারীর হতে পারে:
শ্রোণিতে চাপ বা ভারী লাগা;
মাঝে মাঝে মাসিকের মতো ব্যথা;
জরায়ুর সংকোচন।
এটি কতক্ষণ স্থায়ী হয়?
এটি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়। কারও ধীরে ধীরে দেখা যায়, আবার কারও একবারে লক্ষণীয় পরিমাণ রক্তমিশ্রিত স্রাব বের হয়। সাধারণত অন্তর্বাসে বা টয়লেট টিস্যুতে এটি দেখা যায়।
এরপর কী করা উচিত?
বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন নেই; এটি প্রসবের জন্য শরীরের প্রস্তুতির স্বাভাবিক অংশ। স্রাবের রং, পরিমাণ ও ঘনত্ব নোট করে রাখলে চিকিৎসককে দরকারি তথ্য দেওয়া যায়। নিয়মিত সংকোচন, গর্ভফুলের পানি ভেঙে যাওয়া বা তীব্র কোমরের নিচের ব্যথাসহ প্রসবের অন্যান্য লক্ষণ খেয়াল করুন। এগুলো দেখা দিলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সম্ভাব্য কারণ
যৌনসম্পর্ক: গর্ভাবস্থার শেষ দিকে যৌনক্রিয়ায় সামান্য রক্তপাত হতে পারে বা শ্লেষ্মার প্লাগ আলগা হয়ে যেতে পারে।
জরায়ুমুখ পরীক্ষা: জরায়ুমুখ কতটা প্রসারিত ও নরম হয়েছে তা পরীক্ষা করলে সামান্য রক্তপাত হতে পারে।
মেমব্রেন সুইপ: প্রসব উদ্দীপিত করতে চিকিৎসক আঙুল দিয়ে জরায়ুমুখ থেকে অ্যামনিয়োটিক থলি আলাদা করেন; এতে রক্তমিশ্রিত স্রাব হতে পারে।
আঘাত: গাড়ি দুর্ঘটনা বা গুরুতর পড়ে যাওয়ায় রক্তপাত বা সময়ের আগে প্রসব হতে পারে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন।
কখন রক্তপাত সতর্কসংকেত?
অতিরিক্ত রক্তপাত বা নিচের মতো গুরুতর অবস্থায় অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন:
গাইড | গর্ভাবস্থায় রক্তমিশ্রিত স্রাবের অর্থ কী? বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর
গাইড | গর্ভাবস্থায় রক্তমিশ্রিত স্রাবের অর্থ কী? বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর
রক্তমিশ্রিত স্রাব—যোনিপথ থেকে শ্লেষ্মার সঙ্গে রক্ত বের হওয়া—প্রসব এগিয়ে আসার একটি স্বাভাবিক লক্ষণ। সাধারণত এটি নির্দেশ করে যে জরায়ুমুখ প্রসারিত হতে শুরু করেছে। এর চেহারা ও সম্ভাব্য কারণ জানা থাকলে গর্ভবতী নারীরা কী আশা করবেন তা বুঝতে পারেন।
রক্তমিশ্রিত স্রাব কী?
জরায়ুমুখের ক্ষুদ্র রক্তনালি ফেটে গেলে এবং রক্ত শ্লেষ্মার প্লাগের সঙ্গে মিশলে রক্তমিশ্রিত স্রাব হয়। গর্ভাবস্থায় জরায়ুমুখে শ্লেষ্মার প্লাগ তৈরি হয় এবং এটি ভ্রূণকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে। প্রসবের কয়েক দিন আগে বা প্রসব শুরু হলে এটি বেরিয়ে আসে, কখনও রক্তসহ।
এটি কীভাবে চেনা যায়?
এর চেহারা বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন:
রক্তের দাগযুক্ত ঘন শ্লেষ্মা
বাদামি, গোলাপি, স্বচ্ছ বা সামান্য রক্তমিশ্রিত স্রাব
পরিমাণ সাধারণত এক বা দুই টেবিল-চামচের বেশি নয় এবং সাধারণত প্যাড বা প্যান্টি লাইনারের প্রয়োজন হয় না। রক্তপাত বেশি হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
রক্তমিশ্রিত স্রাব বনাম শ্লেষ্মার প্লাগ
দুটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও এগুলো আলাদা:
শ্লেষ্মার প্লাগ মূলত শ্লেষ্মা দিয়ে তৈরি ঘন পদার্থ, যা প্রসবের আগে বের হয়।
রক্তমিশ্রিত স্রাব হলো জরায়ুমুখের রক্তনালি ফেটে সামান্য রক্তপাত হওয়া, যা প্রায়ই শ্লেষ্মার প্লাগের সঙ্গে মিশে থাকে।
অন্যান্য উপসর্গ
যোনিপথের স্রাবের পাশাপাশি গর্ভবতী নারীর হতে পারে:
শ্রোণিতে চাপ বা ভারী লাগা;
মাঝে মাঝে মাসিকের মতো ব্যথা;
জরায়ুর সংকোচন।
এটি কতক্ষণ স্থায়ী হয়?
এটি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়। কারও ধীরে ধীরে দেখা যায়, আবার কারও একবারে লক্ষণীয় পরিমাণ রক্তমিশ্রিত স্রাব বের হয়। সাধারণত অন্তর্বাসে বা টয়লেট টিস্যুতে এটি দেখা যায়।
এরপর কী করা উচিত?
বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন নেই; এটি প্রসবের জন্য শরীরের প্রস্তুতির স্বাভাবিক অংশ। স্রাবের রং, পরিমাণ ও ঘনত্ব নোট করে রাখলে চিকিৎসককে দরকারি তথ্য দেওয়া যায়। নিয়মিত সংকোচন, গর্ভফুলের পানি ভেঙে যাওয়া বা তীব্র কোমরের নিচের ব্যথাসহ প্রসবের অন্যান্য লক্ষণ খেয়াল করুন। এগুলো দেখা দিলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সম্ভাব্য কারণ
যৌনসম্পর্ক: গর্ভাবস্থার শেষ দিকে যৌনক্রিয়ায় সামান্য রক্তপাত হতে পারে বা শ্লেষ্মার প্লাগ আলগা হয়ে যেতে পারে।
জরায়ুমুখ পরীক্ষা: জরায়ুমুখ কতটা প্রসারিত ও নরম হয়েছে তা পরীক্ষা করলে সামান্য রক্তপাত হতে পারে।
মেমব্রেন সুইপ: প্রসব উদ্দীপিত করতে চিকিৎসক আঙুল দিয়ে জরায়ুমুখ থেকে অ্যামনিয়োটিক থলি আলাদা করেন; এতে রক্তমিশ্রিত স্রাব হতে পারে।
আঘাত: গাড়ি দুর্ঘটনা বা গুরুতর পড়ে যাওয়ায় রক্তপাত বা সময়ের আগে প্রসব হতে পারে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন।
কখন রক্তপাত সতর্কসংকেত?
অতিরিক্ত রক্তপাত বা নিচের মতো গুরুতর অবস্থায় অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন:
প্লাসেন্টা প্রিভিয়া: প্লাসেন্টা জরায়ুমুখ ঢেকে ফেলে।
প্লাসেন্টা অ্যাব্রাপশন: প্লাসেন্টা জরায়ুর দেয়াল থেকে আগেই আলাদা হয়ে যায়।
ভাসা প্রিভিয়া: ভ্রূণের রক্তনালি জরায়ুমুখের ওপর দিয়ে যায় এবং ফেটে যেতে পারে।
জরায়ু ফেটে যাওয়া: প্রায়ই অস্ত্রোপচার বা তীব্র পেটের আঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গর্ভাবস্থায় যেকোনো অস্বাভাবিক রক্তপাত নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত