জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় ত্বকের যত্ন: হবু মায়েদের মুখের চিকিৎসার নির্দেশিকা
গর্ভাবস্থায় ত্বকের অবস্থার পরিবর্তনসহ শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। মার্কিন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ পুনম সচদেব পর্যালোচিত একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় কিছু মুখের চিকিৎসা নিরাপদ হলেও অন্য কিছু গর্ভবতী নারী ও ভ্রূণের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রসাধনী প্রক্রিয়া বেছে নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা ত্বক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় ত্বকের পরিবর্তন ও তার প্রভাব
গর্ভাবস্থায় নারীদের ব্রণ, কালো দাগ (মেলাজমা), চুলকানি বা অতিরিক্ত লোম গজানোর অভিজ্ঞতা হতে পারে। এসব পরিবর্তন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়, আর কিছু নারী এর বদলে “প্রেগন্যান্সি গ্লো” নামে পরিচিত মসৃণ ও উজ্জ্বল চেহারা উপভোগ করতে পারেন।
নিয়মিত মুখের যত্ন নিম্নলিখিত কিছু সমস্যা উপশমে সহায়তা করতে পারে:
গর্ভাবস্থাজনিত ব্রণ
মেলাজমার মতো হাইপারপিগমেন্টেশন
ত্বকে চুলকানি
নির্দিষ্ট স্থানে অতিরিক্ত লোম গজানো
যদিও বেশিরভাগ ত্বকের পরিবর্তন প্রসবের পর ধীরে ধীরে সেরে যায়, গর্ভাবস্থায় যত্ন নেওয়া হবু মায়েদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
গর্ভাবস্থায় কোন মুখের চিকিৎসা নিরাপদ?
সহজ, অ-আক্রমণাত্মক মুখের চিকিৎসা সাধারণত নিরাপদ, যার মধ্যে রয়েছে:
নিয়মিত ফেসিয়াল: কোমল ও নিরাপদ পণ্য ব্যবহার করলে ক্লেনজিং, এক্সফোলিয়েশন, ব্ল্যাকহেড অপসারণ ও ময়েশ্চারাইজিংয়ে ঝুঁকি কম থাকে।
হালকা কেমিক্যাল পিল: ল্যাকটিক অ্যাসিড বা গ্লাইকোলিক অ্যাসিড পিল গর্ভাবস্থায় উপযোগী বলে বিবেচিত হয় এবং গর্ভাবস্থাজনিত ব্রণে বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে।
মৌলিক চিকিৎসা: অবাঞ্ছিত লোমের জন্য শেভিং, ওয়্যাক্সিং, ক্রায়োথেরাপি বা ডিপিলেটরি ক্রিম বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।
তবুও, চিকিৎসা বেছে নেওয়ার আগে ব্যবহৃত উপাদান ও কৌশল বোঝা এবং উত্তেজক বা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পণ্য এড়িয়ে চলা জরুরি।
যে মুখের চিকিৎসা এড়িয়ে চলবেন
সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গর্ভাবস্থায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা উচিত:
গভীর কেমিক্যাল পিল: স্যালিসিলিক অ্যাসিড, ট্রাইক্লোরোঅ্যাসেটিক অ্যাসিড বা মিশ্র দ্রবণযুক্ত পিল ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বকের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
বোটক্স: কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্ট ঝুঁকি দেখা না গেলেও, প্রাণীর ওপর গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে মার্কিন FDA সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়।
লেজার বা ইলেক্ট্রোলাইসিসে লোম অপসারণ: এ পদ্ধতিগুলোতে রঞ্জকের পরিবর্তন বা জ্বালা হতে পারে, আর ইলেক্ট্রোলাইসিসে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক প্রবাহ অ্যামনিওটিক তরলের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়ে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
ত্বক ফর্সাকারী উপাদান: উচ্চ শোষণ হারের কারণে হাইড্রোকুইনোনযুক্ত পণ্য ব্যবহারে সতর্কতা প্রয়োজন।
ফিলার ইনজেকশন: হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলারের মতো ইনজেকশনে স্থানীয় সংক্রমণ বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তাই প্রসবের পর পর্যন্ত তা স্থগিত রাখাই ভালো।
গর্ভাবস্থায় ত্বকের যত্নের শেষ পরামর্শ
গর্ভাবস্থা মানে মুখের যত্ন ছেড়ে দেওয়া নয়, তবে নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার থাকা উচিত। কোমল ম্যাসাজ বা শসার মাস্কের মতো সহজ চিকিৎসা সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ না বাড়িয়ে আরাম দিতে পারে।
ডা. সচদেব জোর দিয়ে বলেছেন: “চিকিৎসক বা ত্বক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ অত্যাবশ্যক। নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে গর্ভাবস্থার অনন্য অভিজ্ঞতা উপভোগ করুন।”
জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় ত্বকের যত্ন: গর্ভবতী মায়েদের মুখের ত্বকের চিকিৎসার নির্দেশিকা
জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় ত্বকের যত্ন: হবু মায়েদের মুখের চিকিৎসার নির্দেশিকা
গর্ভাবস্থায় ত্বকের অবস্থার পরিবর্তনসহ শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। মার্কিন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ পুনম সচদেব পর্যালোচিত একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় কিছু মুখের চিকিৎসা নিরাপদ হলেও অন্য কিছু গর্ভবতী নারী ও ভ্রূণের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রসাধনী প্রক্রিয়া বেছে নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা ত্বক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় ত্বকের পরিবর্তন ও তার প্রভাব
গর্ভাবস্থায় নারীদের ব্রণ, কালো দাগ (মেলাজমা), চুলকানি বা অতিরিক্ত লোম গজানোর অভিজ্ঞতা হতে পারে। এসব পরিবর্তন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়, আর কিছু নারী এর বদলে “প্রেগন্যান্সি গ্লো” নামে পরিচিত মসৃণ ও উজ্জ্বল চেহারা উপভোগ করতে পারেন।
নিয়মিত মুখের যত্ন নিম্নলিখিত কিছু সমস্যা উপশমে সহায়তা করতে পারে:
গর্ভাবস্থাজনিত ব্রণ
মেলাজমার মতো হাইপারপিগমেন্টেশন
ত্বকে চুলকানি
নির্দিষ্ট স্থানে অতিরিক্ত লোম গজানো
যদিও বেশিরভাগ ত্বকের পরিবর্তন প্রসবের পর ধীরে ধীরে সেরে যায়, গর্ভাবস্থায় যত্ন নেওয়া হবু মায়েদের আত্মবিশ্বাসী ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
গর্ভাবস্থায় কোন মুখের চিকিৎসা নিরাপদ?
সহজ, অ-আক্রমণাত্মক মুখের চিকিৎসা সাধারণত নিরাপদ, যার মধ্যে রয়েছে:
নিয়মিত ফেসিয়াল: কোমল ও নিরাপদ পণ্য ব্যবহার করলে ক্লেনজিং, এক্সফোলিয়েশন, ব্ল্যাকহেড অপসারণ ও ময়েশ্চারাইজিংয়ে ঝুঁকি কম থাকে।
হালকা কেমিক্যাল পিল: ল্যাকটিক অ্যাসিড বা গ্লাইকোলিক অ্যাসিড পিল গর্ভাবস্থায় উপযোগী বলে বিবেচিত হয় এবং গর্ভাবস্থাজনিত ব্রণে বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে।
মৌলিক চিকিৎসা: অবাঞ্ছিত লোমের জন্য শেভিং, ওয়্যাক্সিং, ক্রায়োথেরাপি বা ডিপিলেটরি ক্রিম বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।
তবুও, চিকিৎসা বেছে নেওয়ার আগে ব্যবহৃত উপাদান ও কৌশল বোঝা এবং উত্তেজক বা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পণ্য এড়িয়ে চলা জরুরি।
যে মুখের চিকিৎসা এড়িয়ে চলবেন
সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গর্ভাবস্থায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা উচিত:
গভীর কেমিক্যাল পিল: স্যালিসিলিক অ্যাসিড, ট্রাইক্লোরোঅ্যাসেটিক অ্যাসিড বা মিশ্র দ্রবণযুক্ত পিল ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বকের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
বোটক্স: কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্ট ঝুঁকি দেখা না গেলেও, প্রাণীর ওপর গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে মার্কিন FDA সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়।
লেজার বা ইলেক্ট্রোলাইসিসে লোম অপসারণ: এ পদ্ধতিগুলোতে রঞ্জকের পরিবর্তন বা জ্বালা হতে পারে, আর ইলেক্ট্রোলাইসিসে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক প্রবাহ অ্যামনিওটিক তরলের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়ে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
ত্বক ফর্সাকারী উপাদান: উচ্চ শোষণ হারের কারণে হাইড্রোকুইনোনযুক্ত পণ্য ব্যবহারে সতর্কতা প্রয়োজন।
ফিলার ইনজেকশন: হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলারের মতো ইনজেকশনে স্থানীয় সংক্রমণ বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তাই প্রসবের পর পর্যন্ত তা স্থগিত রাখাই ভালো।
গর্ভাবস্থায় ত্বকের যত্নের শেষ পরামর্শ
গর্ভাবস্থা মানে মুখের যত্ন ছেড়ে দেওয়া নয়, তবে নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার থাকা উচিত। কোমল ম্যাসাজ বা শসার মাস্কের মতো সহজ চিকিৎসা সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ না বাড়িয়ে আরাম দিতে পারে।
ডা. সচদেব জোর দিয়ে বলেছেন: “চিকিৎসক বা ত্বক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ অত্যাবশ্যক। নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে গর্ভাবস্থার অনন্য অভিজ্ঞতা উপভোগ করুন।”
সূত্র:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত