সংবাদ | টিকা বন্ধ্যাত্ব ঘটায় বা ভ্রূণের বিকাশে প্রভাব ফেলে—এমন দাবি খণ্ডন; প্রজননক্ষমতা ও গর্ভাবস্থায় COVID-19 টিকার নিরাপত্তার পক্ষে শক্ত প্রমাণ
COVID-19 টিকা নারীর প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে, অথবা গর্ভাবস্থায় টিকা নিলে ভ্রূণের অস্বাভাবিকতা বা বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে—এমন দাবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। Yale School of Medicine-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণা এই অপতথ্য স্পষ্টভাবে খণ্ডন করেছে।
গর্ভাবস্থা ও রোগপ্রতিরোধবিদ্যার বিশেষজ্ঞ Alice Lu-Culligan, PhD-এর নেতৃত্বে PLOS Biology-তে প্রকাশিত গবেষণাটিতে ইঁদুরের মডেল ও মানুষের রক্তের নমুনার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে সিদ্ধান্তে আসা হয়, COVID-19 টিকা প্লাসেন্টার একটি প্রোটিনে আক্রমণ করে ভ্রূণের অস্বাভাবিক বিকাশ বা নারীর বন্ধ্যাত্ব ঘটায় না।
দলটি প্রথমে গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে ইঁদুরকে mRNA COVID-19 টিকা দেয়। ফলাফল:
টিকা ভ্রূণের ওজন প্রভাবিত করেনি বা জন্মগত ত্রুটি ঘটায়নি;
টিকাপ্রাপ্ত মায়েদের তৈরি অ্যান্টিবডি কার্যকরভাবে প্লাসেন্টা অতিক্রম করে ভ্রূণকে সুরক্ষা দিয়েছে;
অন্যদিকে, ভাইরাস সংক্রমণের অনুকরণকারী poly(I:C) পদার্থ দিয়ে গর্ভবতী ইঁদুরের আরেকটি দলকে ইনজেকশন দিলে ভ্রূণের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
Dr. Lu-Culligan বলেন: “এই ফলাফল আরও সমর্থন করে যে গর্ভবতী নারী ও ভ্রূণ উভয়ের জন্য টিকা নেওয়া নিরাপদ এবং প্রকৃত COVID-19 সংক্রমণের তুলনায় এর ঝুঁকি অনেক কম।”
ফলাফলগুলো U.S. Centers for Disease Control and Prevention (CDC)-এর সিদ্ধান্ত এবং গর্ভাবস্থায় টিকার নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক মানব গবেষণার সঙ্গেও অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অ্যান্টিবডির প্রতিক্রিয়া প্লাসেন্টার প্রোটিনে আক্রমণ করে না; বন্ধ্যাত্বের দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই
টিকা প্লাসেন্টার প্রোটিন syncytin-1-এ আক্রমণকারী অ্যান্টিবডি তৈরি করে নারীর বন্ধ্যাত্ব ঘটাতে পারে কি না, গবেষণায় তা-ও পরীক্ষা করা হয়।
দলটি টিকাপ্রাপ্ত ও টিকাবিহীন স্বেচ্ছাসেবকদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে syncytin-1-এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে। ফলাফল:
টিকাপ্রাপ্ত বা টিকাবিহীন—কোনো স্বেচ্ছাসেবকের শরীরেই anti-syncytin-1 অ্যান্টিবডির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ছিল না;
এর অর্থ, টিকা প্লাসেন্টার বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধী আক্রমণ সক্রিয় করে না এবং বন্ধ্যাত্ব ঘটানোর কোনো জৈবিক প্রক্রিয়া নেই।
Dr. Lu-Culligan বলেন: “এই গুজব বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণ খণ্ডিত হয়েছে। আমাদের তথ্য আবারও দেখায়, গর্ভধারণের প্রস্তুতি নেওয়া নারীদের প্রজননক্ষমতায় COVID-19 টিকার কোনো প্রভাব নেই।”
নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলতে হবে, তবে বর্তমান তথ্য ইতিমধ্যেই শক্ত বাস্তব নির্দেশনা দেয়
লেখকেরা জোর দিয়ে বলেন, গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর করা হলেও বিদ্যমান মানব ক্লিনিক্যাল তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে এটি COVID-19 টিকা নেওয়া নারীদের, বিশেষত গর্ভধারণের পরিকল্পনাকারী বা ইতিমধ্যে গর্ভবতী নারীদের, স্পষ্ট আশ্বাস দেয়।
বাস্তব জীবনের আরও তথ্য ও চলমান ক্লিনিক্যাল গবেষণা জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকার নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রমাণ আরও শক্তিশালী হবে।
Dr. Lu-Culligan উপসংহারে বলেন: “আমাদের গবেষণা শুধু প্রাথমিক গর্ভাবস্থায় COVID-19 টিকার নিরাপত্তার প্রমাণ দেয় না, গর্ভবতী নন এমন নারীদের টিকা নিতে নিরুৎসাহিত করা গুজবও সরাসরি খণ্ডন করে। মহামারির মোকাবিলায় বিজ্ঞান ও স্পষ্টতা—দুটিই প্রয়োজন।”
সংবাদ | টিকা বন্ধ্যাত্ব ঘটায় বা ভ্রূণের বিকাশে প্রভাব ফেলে—এমন দাবি খণ্ডন; প্রজননক্ষমতা ও গর্ভাবস্থায় COVID-19 টিকার নিরাপত্তার পক্ষে শক্ত প্রমাণ
সংবাদ | টিকা বন্ধ্যাত্ব ঘটায় বা ভ্রূণের বিকাশে প্রভাব ফেলে—এমন দাবি খণ্ডন; প্রজননক্ষমতা ও গর্ভাবস্থায় COVID-19 টিকার নিরাপত্তার পক্ষে শক্ত প্রমাণ
COVID-19 টিকা নারীর প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে, অথবা গর্ভাবস্থায় টিকা নিলে ভ্রূণের অস্বাভাবিকতা বা বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে—এমন দাবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। Yale School of Medicine-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণা এই অপতথ্য স্পষ্টভাবে খণ্ডন করেছে।
গর্ভাবস্থা ও রোগপ্রতিরোধবিদ্যার বিশেষজ্ঞ Alice Lu-Culligan, PhD-এর নেতৃত্বে PLOS Biology-তে প্রকাশিত গবেষণাটিতে ইঁদুরের মডেল ও মানুষের রক্তের নমুনার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে সিদ্ধান্তে আসা হয়, COVID-19 টিকা প্লাসেন্টার একটি প্রোটিনে আক্রমণ করে ভ্রূণের অস্বাভাবিক বিকাশ বা নারীর বন্ধ্যাত্ব ঘটায় না।
ইঁদুরের পরীক্ষা: টিকায় ভ্রূণের অস্বাভাবিকতা হয়নি এবং সুরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি ভ্রূণে পৌঁছেছে
দলটি প্রথমে গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে ইঁদুরকে mRNA COVID-19 টিকা দেয়। ফলাফল:
টিকা ভ্রূণের ওজন প্রভাবিত করেনি বা জন্মগত ত্রুটি ঘটায়নি;
টিকাপ্রাপ্ত মায়েদের তৈরি অ্যান্টিবডি কার্যকরভাবে প্লাসেন্টা অতিক্রম করে ভ্রূণকে সুরক্ষা দিয়েছে;
অন্যদিকে, ভাইরাস সংক্রমণের অনুকরণকারী poly(I:C) পদার্থ দিয়ে গর্ভবতী ইঁদুরের আরেকটি দলকে ইনজেকশন দিলে ভ্রূণের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
Dr. Lu-Culligan বলেন: “এই ফলাফল আরও সমর্থন করে যে গর্ভবতী নারী ও ভ্রূণ উভয়ের জন্য টিকা নেওয়া নিরাপদ এবং প্রকৃত COVID-19 সংক্রমণের তুলনায় এর ঝুঁকি অনেক কম।”
ফলাফলগুলো U.S. Centers for Disease Control and Prevention (CDC)-এর সিদ্ধান্ত এবং গর্ভাবস্থায় টিকার নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক মানব গবেষণার সঙ্গেও অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অ্যান্টিবডির প্রতিক্রিয়া প্লাসেন্টার প্রোটিনে আক্রমণ করে না; বন্ধ্যাত্বের দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই
টিকা প্লাসেন্টার প্রোটিন syncytin-1-এ আক্রমণকারী অ্যান্টিবডি তৈরি করে নারীর বন্ধ্যাত্ব ঘটাতে পারে কি না, গবেষণায় তা-ও পরীক্ষা করা হয়।
দলটি টিকাপ্রাপ্ত ও টিকাবিহীন স্বেচ্ছাসেবকদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে syncytin-1-এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে। ফলাফল:
টিকাপ্রাপ্ত বা টিকাবিহীন—কোনো স্বেচ্ছাসেবকের শরীরেই anti-syncytin-1 অ্যান্টিবডির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ছিল না;
এর অর্থ, টিকা প্লাসেন্টার বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধী আক্রমণ সক্রিয় করে না এবং বন্ধ্যাত্ব ঘটানোর কোনো জৈবিক প্রক্রিয়া নেই।
Dr. Lu-Culligan বলেন: “এই গুজব বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণ খণ্ডিত হয়েছে। আমাদের তথ্য আবারও দেখায়, গর্ভধারণের প্রস্তুতি নেওয়া নারীদের প্রজননক্ষমতায় COVID-19 টিকার কোনো প্রভাব নেই।”
নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলতে হবে, তবে বর্তমান তথ্য ইতিমধ্যেই শক্ত বাস্তব নির্দেশনা দেয়
লেখকেরা জোর দিয়ে বলেন, গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর করা হলেও বিদ্যমান মানব ক্লিনিক্যাল তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে এটি COVID-19 টিকা নেওয়া নারীদের, বিশেষত গর্ভধারণের পরিকল্পনাকারী বা ইতিমধ্যে গর্ভবতী নারীদের, স্পষ্ট আশ্বাস দেয়।
বাস্তব জীবনের আরও তথ্য ও চলমান ক্লিনিক্যাল গবেষণা জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকার নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রমাণ আরও শক্তিশালী হবে।
Dr. Lu-Culligan উপসংহারে বলেন: “আমাদের গবেষণা শুধু প্রাথমিক গর্ভাবস্থায় COVID-19 টিকার নিরাপত্তার প্রমাণ দেয় না, গর্ভবতী নন এমন নারীদের টিকা নিতে নিরুৎসাহিত করা গুজবও সরাসরি খণ্ডন করে। মহামারির মোকাবিলায় বিজ্ঞান ও স্পষ্টতা—দুটিই প্রয়োজন।”
উৎস:
অনলাইনে সংগৃহীত