জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় পেটব্যথা উপেক্ষা করবেন না: সাধারণ কারণ, সতর্কসংকেত এবং কখন চিকিৎসা নিতে হবে
গর্ভাবস্থা আনন্দের হলেও এতে নানা পরিবর্তন আসে, আর শারীরিক মানিয়ে নেওয়ার কারণে অপ্রত্যাশিত অস্বস্তি, বিশেষত পেটব্যথা, হতে পারে। অধিকাংশ পেটব্যথা স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন বা সামান্য অস্বস্তির ফল; তবে কিছু ক্ষেত্রে তা গুরুতর জটিলতার ইঙ্গিত দিতে পারে, যার জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দরকার। এই হালনাগাদ WebMD নির্দেশিকা গর্ভবতী মায়েদের সাধারণ উপসর্গ ও সতর্কসংকেত আলাদা করতে সাহায্য করে।
1. গর্ভাবস্থায় পেটব্যথার সাধারণ কারণ
1. হজমজনিত অস্বস্তি
ভ্রূণ বড় হওয়ার সঙ্গে জরায়ু পাকস্থলী ও অন্ত্রে চাপ দেয়, বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে। গ্যাস, পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণ সমস্যা। ব্যথা খাবারের সঙ্গে সম্পর্কিত হলে বেশি পানি পান, খাদ্যতালিকায় আঁশ যোগ করা এবং পরিমিত নড়াচড়া মলত্যাগে সহায়তা করতে পারে।
2. পেশিতে টান
গর্ভাবস্থায় সাধারণত শরীরের ওজন প্রায় 11 থেকে 16 কিলোগ্রাম বাড়ে। পেশি ও লিগামেন্টে হরমোনের প্রভাবের সঙ্গে মিলিয়ে এতে পেট, কোমর বা পাশের পেশিতে টান পড়তে পারে। ব্যথা সাধারণত নির্দিষ্ট স্থানে অনুভূত হয় বা চাপ দিলে ব্যথা লাগে এবং বিশ্রাম ও উষ্ণতায় প্রায়ই কমে।
3. জরায়ু প্রসারণজনিত খিঁচুনি
গর্ভাবস্থার শুরুর ও মাঝের সময় জরায়ু দ্রুত প্রসারিত হলে মাসিকের ব্যথার মতো খিঁচুনি হতে পারে। এটি সাধারণত অল্প সময় স্থায়ী ও মৃদু হয়, ভোঁতা বা ছুরিকাঘাতের মতো লাগতে পারে এবং নিজে থেকেই সেরে যায় বা উষ্ণতায় কমে।
4. ব্র্যাক্সটন হিক্স সংকোচন
এগুলোকে ‘মিথ্যা প্রসববেদনা’ও বলা হয়; প্রসবের জন্য শরীরের মহড়া হিসেবে এগুলো হয়। সাধারণত মৃদু ও অনিয়মিত, ভঙ্গি বদলালে বা হাঁটলে কমে এবং প্রকৃত প্রসববেদনার মতো ক্রমশ তীব্র হয় না।
2. পেটব্যথার গুরুতর কারণ, যেগুলোতে চিকিৎসা দরকার
1. অ্যাপেন্ডিসাইটিস
গর্ভাবস্থায় অ্যাপেন্ডিসাইটিস হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে মা ও শিশুর বিপদ হতে পারে। সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে ডান দিকের তলপেটে বা নাভির চারপাশে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, বমিভাব, বমি, জ্বর ও ক্লান্তি। এগুলো হলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিন।
2. পিত্তপাথর
গর্ভাবস্থায় হরমোনের ওঠানামা ও হজমের পরিবর্তন পিত্তপাথর তৈরি করতে পারে। উপসর্গের মধ্যে রয়েছে ডান দিকের ওপরের পেটে তীব্র ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা, বমিভাব, বমি, ক্ষুধা কমে যাওয়া ও জ্বর। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা সেরে যায়, তবে ব্যথা স্থায়ী হলে বা বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
3. প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া
এই বিপজ্জনক অবস্থা শুধু গর্ভাবস্থায় হয় এবং রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় চিহ্নিত হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে যকৃত ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সাধারণত প্রসবই একমাত্র নিশ্চিত চিকিৎসা।
সতর্কসংকেতের মধ্যে রয়েছে ডান দিকের ওপরের পেটে ব্যথা, ঝাপসা দেখা, তীব্র মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব বা প্রস্রাব কমে যাওয়া। এগুলো হলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিন।
4. গর্ভপাত
যোনিপথে রক্তপাত বা রক্তের জমাটের সঙ্গে তীব্র তলপেটের ব্যথা গর্ভপাতের ইঙ্গিত হতে পারে। নিশ্চিত গর্ভাবস্থার প্রায় 10% থেকে 20% শতাংশ নারীর গর্ভপাত হয়। শুরু হয়ে গেলে এটি আর ঠেকানো যায় না, তাই দ্রুত পরীক্ষা করানো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
3. এসব উপসর্গে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
পেট বা কোমরে স্থায়ী কিংবা তীব্র ব্যথা
কোমর বা নিতম্বের ব্যথা, যা রাতে বা শুয়ে থাকলে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়
নির্দিষ্ট স্থানে লালচে ভাব বা ফোলাসহ ব্যথা
প্রস্রাবের সময় ব্যথা
37 সপ্তাহের আগে নিয়মিত সংকোচন, 10 মিনিটে একবার বা তার বেশি
28 সপ্তাহের পর ভ্রূণের নড়াচড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া
তীব্র বমিভাব, বমি বা ডায়রিয়া
স্থায়ী মাথাব্যথা বা ঝাপসা দেখা
যোনিপথে রক্তপাত বা তরল বের হওয়া
জ্বর বা শরীর খারাপ লাগা
চিকিৎসক দল জানায়, মৃদু পেটব্যথা প্রায়ই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় উপসর্গ; তবে তীব্র, স্থায়ী ব্যথা বা অন্য উপসর্গসহ ব্যথার জন্য দ্রুত চিকিৎসা দরকার। গর্ভাবস্থায় যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় পেটব্যথা উপেক্ষা করবেন না: সাধারণ কারণ, সতর্কসংকেত এবং কখন চিকিৎসা নিতে হবে
জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় পেটব্যথা উপেক্ষা করবেন না: সাধারণ কারণ, সতর্কসংকেত এবং কখন চিকিৎসা নিতে হবে
গর্ভাবস্থা আনন্দের হলেও এতে নানা পরিবর্তন আসে, আর শারীরিক মানিয়ে নেওয়ার কারণে অপ্রত্যাশিত অস্বস্তি, বিশেষত পেটব্যথা, হতে পারে। অধিকাংশ পেটব্যথা স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন বা সামান্য অস্বস্তির ফল; তবে কিছু ক্ষেত্রে তা গুরুতর জটিলতার ইঙ্গিত দিতে পারে, যার জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দরকার। এই হালনাগাদ WebMD নির্দেশিকা গর্ভবতী মায়েদের সাধারণ উপসর্গ ও সতর্কসংকেত আলাদা করতে সাহায্য করে।
1. গর্ভাবস্থায় পেটব্যথার সাধারণ কারণ
1. হজমজনিত অস্বস্তি
ভ্রূণ বড় হওয়ার সঙ্গে জরায়ু পাকস্থলী ও অন্ত্রে চাপ দেয়, বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে। গ্যাস, পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণ সমস্যা। ব্যথা খাবারের সঙ্গে সম্পর্কিত হলে বেশি পানি পান, খাদ্যতালিকায় আঁশ যোগ করা এবং পরিমিত নড়াচড়া মলত্যাগে সহায়তা করতে পারে।
2. পেশিতে টান
গর্ভাবস্থায় সাধারণত শরীরের ওজন প্রায় 11 থেকে 16 কিলোগ্রাম বাড়ে। পেশি ও লিগামেন্টে হরমোনের প্রভাবের সঙ্গে মিলিয়ে এতে পেট, কোমর বা পাশের পেশিতে টান পড়তে পারে। ব্যথা সাধারণত নির্দিষ্ট স্থানে অনুভূত হয় বা চাপ দিলে ব্যথা লাগে এবং বিশ্রাম ও উষ্ণতায় প্রায়ই কমে।
3. জরায়ু প্রসারণজনিত খিঁচুনি
গর্ভাবস্থার শুরুর ও মাঝের সময় জরায়ু দ্রুত প্রসারিত হলে মাসিকের ব্যথার মতো খিঁচুনি হতে পারে। এটি সাধারণত অল্প সময় স্থায়ী ও মৃদু হয়, ভোঁতা বা ছুরিকাঘাতের মতো লাগতে পারে এবং নিজে থেকেই সেরে যায় বা উষ্ণতায় কমে।
4. ব্র্যাক্সটন হিক্স সংকোচন
এগুলোকে ‘মিথ্যা প্রসববেদনা’ও বলা হয়; প্রসবের জন্য শরীরের মহড়া হিসেবে এগুলো হয়। সাধারণত মৃদু ও অনিয়মিত, ভঙ্গি বদলালে বা হাঁটলে কমে এবং প্রকৃত প্রসববেদনার মতো ক্রমশ তীব্র হয় না।
2. পেটব্যথার গুরুতর কারণ, যেগুলোতে চিকিৎসা দরকার
1. অ্যাপেন্ডিসাইটিস
গর্ভাবস্থায় অ্যাপেন্ডিসাইটিস হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে মা ও শিশুর বিপদ হতে পারে। সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে ডান দিকের তলপেটে বা নাভির চারপাশে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, বমিভাব, বমি, জ্বর ও ক্লান্তি। এগুলো হলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিন।
2. পিত্তপাথর
গর্ভাবস্থায় হরমোনের ওঠানামা ও হজমের পরিবর্তন পিত্তপাথর তৈরি করতে পারে। উপসর্গের মধ্যে রয়েছে ডান দিকের ওপরের পেটে তীব্র ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা, বমিভাব, বমি, ক্ষুধা কমে যাওয়া ও জ্বর। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা সেরে যায়, তবে ব্যথা স্থায়ী হলে বা বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
3. প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া
এই বিপজ্জনক অবস্থা শুধু গর্ভাবস্থায় হয় এবং রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় চিহ্নিত হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে যকৃত ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সাধারণত প্রসবই একমাত্র নিশ্চিত চিকিৎসা।
সতর্কসংকেতের মধ্যে রয়েছে ডান দিকের ওপরের পেটে ব্যথা, ঝাপসা দেখা, তীব্র মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব বা প্রস্রাব কমে যাওয়া। এগুলো হলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিন।
4. গর্ভপাত
যোনিপথে রক্তপাত বা রক্তের জমাটের সঙ্গে তীব্র তলপেটের ব্যথা গর্ভপাতের ইঙ্গিত হতে পারে। নিশ্চিত গর্ভাবস্থার প্রায় 10% থেকে 20% শতাংশ নারীর গর্ভপাত হয়। শুরু হয়ে গেলে এটি আর ঠেকানো যায় না, তাই দ্রুত পরীক্ষা করানো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
3. এসব উপসর্গে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
পেট বা কোমরে স্থায়ী কিংবা তীব্র ব্যথা
কোমর বা নিতম্বের ব্যথা, যা রাতে বা শুয়ে থাকলে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়
নির্দিষ্ট স্থানে লালচে ভাব বা ফোলাসহ ব্যথা
প্রস্রাবের সময় ব্যথা
37 সপ্তাহের আগে নিয়মিত সংকোচন, 10 মিনিটে একবার বা তার বেশি
28 সপ্তাহের পর ভ্রূণের নড়াচড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া
তীব্র বমিভাব, বমি বা ডায়রিয়া
স্থায়ী মাথাব্যথা বা ঝাপসা দেখা
যোনিপথে রক্তপাত বা তরল বের হওয়া
জ্বর বা শরীর খারাপ লাগা
চিকিৎসক দল জানায়, মৃদু পেটব্যথা প্রায়ই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় উপসর্গ; তবে তীব্র, স্থায়ী ব্যথা বা অন্য উপসর্গসহ ব্যথার জন্য দ্রুত চিকিৎসা দরকার। গর্ভাবস্থায় যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
তথ্যের উৎস:
অনলাইনে সংগৃহীত