সহায়ক প্রজননের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গুণমান সবসময়ই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। আপনি হয়তো ‘শুক্রাণুর গতিশীলতা’ শব্দটি শুনেছেন, যা শুক্রাণুর সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়। এই ক্ষমতার সঙ্গে তারা সফলভাবে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হতে পারবে কি না, তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর গবেষণায় দেখা গেছে, শুক্রাণুর চলাচলে গ্লুকোজ একটি ‘সুইচ’-এর মতো ভূমিকা পালন করে—এটি না থাকলে শুক্রাণু তাদের শেষ দৌড় সম্পন্ন করতে নাও পারে।
সাঁতার কাটতে শুক্রাণুর শক্তি প্রয়োজন, আর গ্লুকোজই তাদের পছন্দের জ্বালানি। নারীর প্রজননপথে শারীরবৃত্তীয় চক্রের সঙ্গে গ্লুকোজের ঘনত্ব ওঠানামা করে। বিশেষ করে ডিম্বস্ফোটনের সময় ডিম্বনালি ও জরায়ুতে গ্লুকোজের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। মনে করা হয়, এই পরিবর্তন শুক্রাণুকে ‘শেষ ধাক্কা’ দেওয়ার মতো শক্তি জোগায় এবং ডিম্বাণুতে পৌঁছাতে তাদের অসংখ্য বাধা অতিক্রমে সহায়তা করে।
ইন ভিট্রো পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কালচার মাধ্যমে গ্লুকোজের ঘনত্ব খুব কম হলে শুক্রাণুর সাঁতারের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, এমনকি তা থেমেও যেতে পারে। বিপরীতে, উপযুক্ত মাত্রার গ্লুকোজ শুক্রাণুর লেজের নড়াচড়ার কম্পাঙ্ক ও বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। এই গবেষণালব্ধ তথ্য ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) এবং ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন (ICSI)-এর কালচার মাধ্যম তৈরিতেও প্রয়োগ করা হয়েছে। সেখানে শুক্রাণুর গতিশীলতা বজায় রাখতে পরীক্ষাগারগুলো গ্লুকোজের ঘনত্ব নির্ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
তবে গ্লুকোজের ক্ষেত্রে ‘যত বেশি, তত ভালো’—বিষয়টি এমন নয়। অতিরিক্ত গ্লুকোজের ঘনত্ব শুক্রাণুকোষে রিঅ্যাক্টিভ অক্সিজেন স্পিসিস (ROS)-এর অতিরিক্ত উৎপাদন ঘটিয়ে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করতে পারে, যা পরবর্তীতে শুক্রাণুর ডিএনএ ও কোষঝিল্লির ক্ষতি করে। এ কারণেই ডায়াবেটিস আছে বা রক্তে শর্করা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে নেই—এমন পুরুষদের শুক্রাণুর গুণমান প্রায়ই খারাপ হয়; এর মধ্যে গতিশীলতা কমে যাওয়া ও খণ্ডিত হওয়ার হার বেড়ে যাওয়াও রয়েছে।
সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করা দম্পতিদের জন্য রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখা শুক্রাণুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে। সুষম খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ানো এবং পরিমিত ব্যায়াম রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের মৌলিক উপায়। তবে জোর দিয়ে বলা উচিত, শুধু একটি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন সরাসরি শুক্রাণুর গতিশীলতা বাড়ায়—এমন প্রমাণ বর্তমানে নেই; সামগ্রিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই নিবন্ধটি সাধারণ বৈজ্ঞানিক তথ্য, ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরামর্শ নয়। নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য পেশাদার চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নিন।
শুক্রাণুর দৌড়ের ‘সুইচ’: গ্লুকোজ কীভাবে প্রজননক্ষমতাকে প্রভাবিত করে?
সহায়ক প্রজননের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গুণমান সবসময়ই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। আপনি হয়তো ‘শুক্রাণুর গতিশীলতা’ শব্দটি শুনেছেন, যা শুক্রাণুর সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়। এই ক্ষমতার সঙ্গে তারা সফলভাবে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হতে পারবে কি না, তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর গবেষণায় দেখা গেছে, শুক্রাণুর চলাচলে গ্লুকোজ একটি ‘সুইচ’-এর মতো ভূমিকা পালন করে—এটি না থাকলে শুক্রাণু তাদের শেষ দৌড় সম্পন্ন করতে নাও পারে।
সাঁতার কাটতে শুক্রাণুর শক্তি প্রয়োজন, আর গ্লুকোজই তাদের পছন্দের জ্বালানি। নারীর প্রজননপথে শারীরবৃত্তীয় চক্রের সঙ্গে গ্লুকোজের ঘনত্ব ওঠানামা করে। বিশেষ করে ডিম্বস্ফোটনের সময় ডিম্বনালি ও জরায়ুতে গ্লুকোজের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। মনে করা হয়, এই পরিবর্তন শুক্রাণুকে ‘শেষ ধাক্কা’ দেওয়ার মতো শক্তি জোগায় এবং ডিম্বাণুতে পৌঁছাতে তাদের অসংখ্য বাধা অতিক্রমে সহায়তা করে।
ইন ভিট্রো পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কালচার মাধ্যমে গ্লুকোজের ঘনত্ব খুব কম হলে শুক্রাণুর সাঁতারের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, এমনকি তা থেমেও যেতে পারে। বিপরীতে, উপযুক্ত মাত্রার গ্লুকোজ শুক্রাণুর লেজের নড়াচড়ার কম্পাঙ্ক ও বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। এই গবেষণালব্ধ তথ্য ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) এবং ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন (ICSI)-এর কালচার মাধ্যম তৈরিতেও প্রয়োগ করা হয়েছে। সেখানে শুক্রাণুর গতিশীলতা বজায় রাখতে পরীক্ষাগারগুলো গ্লুকোজের ঘনত্ব নির্ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
তবে গ্লুকোজের ক্ষেত্রে ‘যত বেশি, তত ভালো’—বিষয়টি এমন নয়। অতিরিক্ত গ্লুকোজের ঘনত্ব শুক্রাণুকোষে রিঅ্যাক্টিভ অক্সিজেন স্পিসিস (ROS)-এর অতিরিক্ত উৎপাদন ঘটিয়ে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করতে পারে, যা পরবর্তীতে শুক্রাণুর ডিএনএ ও কোষঝিল্লির ক্ষতি করে। এ কারণেই ডায়াবেটিস আছে বা রক্তে শর্করা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে নেই—এমন পুরুষদের শুক্রাণুর গুণমান প্রায়ই খারাপ হয়; এর মধ্যে গতিশীলতা কমে যাওয়া ও খণ্ডিত হওয়ার হার বেড়ে যাওয়াও রয়েছে।
সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করা দম্পতিদের জন্য রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখা শুক্রাণুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে। সুষম খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ানো এবং পরিমিত ব্যায়াম রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের মৌলিক উপায়। তবে জোর দিয়ে বলা উচিত, শুধু একটি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন সরাসরি শুক্রাণুর গতিশীলতা বাড়ায়—এমন প্রমাণ বর্তমানে নেই; সামগ্রিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই নিবন্ধটি সাধারণ বৈজ্ঞানিক তথ্য, ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরামর্শ নয়। নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য পেশাদার চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নিন।