গাইড | গর্ভাবস্থায় এক্স-রে কি নিরাপদ? গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
গর্ভাবস্থায় এক্স-রে নিয়ে উদ্বেগ থাকে, কারণ বিকিরণ ভ্রূণের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং এমনকি জন্মগত ত্রুটিও ঘটাতে পারে। তবু চিকিৎসার প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় এক্স-রে দরকার হতে পারে, যেমন দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের পর হাড় ভেঙেছে কি না নিশ্চিত করা। এক্স-রে কি সত্যিই গর্ভাবস্থায় প্রভাব ফেলে, এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায়?
গর্ভাবস্থায় এক্স-রের বিকিরণজনিত ঝুঁকি
এক্স-রে হলো আয়নায়নকারী তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ, যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতিবেগুনি রশ্মি ও গামা রশ্মির মধ্যবর্তী। অনেকে বিকিরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও, চিকিৎসায় ব্যবহৃত এক্স-রের মাত্রা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে পাওয়া বিকিরণের তুলনায় অনেক কম। প্রমাণ অনুযায়ী, হাত, পা বা দাঁতের একবারের এক্স-রে ভ্রূণের ওপর সামান্য প্রভাব ফেলে এবং সাধারণত নিরাপদ।
গর্ভাবস্থায় মায়ের পেটের দেয়াল ও জরায়ু ভ্রূণের কাছে পৌঁছানো অধিকাংশ বিকিরণ আটকে দেয়। তবু বারবার এক্স-রে করালে মোট বিকিরণসংস্পর্শ বেড়ে ভ্রূণের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, অস্বাভাবিকতা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যাওয়া বা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব ঝুঁকি কম হলেও, গর্ভাবস্থার 10 থেকে 17 সপ্তাহের মধ্যে উচ্চমাত্রার বিকিরণ বিশেষভাবে এড়ানো উচিত।
ভ্রূণের জন্য কোন এক্স-রে বেশি নিরাপদ?
গর্ভাবস্থায় হাত, পা, মাথা, দাঁত ও বুকের এক্স-রে সাধারণত নিরাপদ, কারণ এতে পেট সরাসরি বিকিরণের সংস্পর্শে আসে না। পেট, শ্রোণি, কিডনি বা কোমরের নিচের অংশের এক্স-রেতে ভ্রূণ বিকিরণের সংস্পর্শে আসে, তাই এগুলো সাধারণত এড়ানো হয়।
গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে CT স্ক্যানের মতো উচ্চমাত্রার ইমেজিং শিশুর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বেরিয়াম এনিমার মতো বেশি বিকিরণযুক্ত পরীক্ষা গর্ভাবস্থায় উপযুক্ত নয় এবং এড়ানো উচিত।
এক্স-রে করার সময় ভ্রূণকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়?
গর্ভাবস্থায় এক্স-রে প্রয়োজন হলে অবশ্যই চিকিৎসককে জানাতে হবে। এরপর গর্ভাবস্থার পর্যায় ও রোগীর স্বাস্থ্যের ভিত্তিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পরীক্ষা জরুরি না হলে প্রসবের পর পর্যন্ত তা পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। হাত, পা, মাথা বা ঘাড়ের ইমেজিংয়ের সময় ভ্রূণকে রক্ষা করতে সাধারণত সীসার অ্যাপ্রন দেওয়া হয়। **আল্ট্রাসাউন্ড এবং ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (MRI)**-ও বহুল ব্যবহৃত বিকল্প, যাতে আয়নায়নকারী বিকিরণ লাগে না।
গর্ভাবস্থায় ভুলবশত এক্স-রে হলে কি ক্ষতিকর?
গর্ভাবস্থার কথা জানা না থাকায় যদি পেটের এক্স-রে করা হয়ে থাকে, দ্রুত চিকিৎসককে জানান। একবারের এক্স-রেতে বিকিরণের মাত্রা কম থাকে এবং সাধারণত ভ্রূণের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ে না। CT বা হৃদ্যন্ত্র কিংবা অস্থি-সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের সময় এক্স-রে নির্দেশনার মতো উচ্চমাত্রার প্রক্রিয়া হলে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভুলবশত বিকিরণের সংস্পর্শ ঠেকাতে কিছু হাসপাতাল 12 বছর বা তার বেশি বয়সী সব নারীর প্রাসঙ্গিক পরীক্ষার আগে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করে।
গর্ভাবস্থায় এক্স-রে: সতর্কতা, আতঙ্ক নয়
গর্ভাবস্থায় এক্স-রে সম্ভব হলে এড়ানো হলেও আধুনিক যন্ত্রে কম মাত্রার বিকিরণ ব্যবহৃত হয় এবং একটি এক্স-রে সাধারণত ভ্রূণের ক্ষতি করে না। চিকিৎসকরা ইমেজিংয়ের ঝুঁকির সঙ্গে পরীক্ষা না করার স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেন। 18 সপ্তাহের আগে ভ্রূণ সাধারণত বিকিরণের প্রতি বেশি সংবেদনশীল থাকে, আর 26 সপ্তাহের পর তার সংবেদনশীলতা নবজাতকের কাছাকাছি হয়। চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন হলে মা ও ভ্রূণের স্বাস্থ্য রক্ষায় এক্স-রে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ হতে পারে।
গাইড | গর্ভাবস্থায় এক্স-রে কি নিরাপদ? গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
গাইড | গর্ভাবস্থায় এক্স-রে কি নিরাপদ? গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
গর্ভাবস্থায় এক্স-রে নিয়ে উদ্বেগ থাকে, কারণ বিকিরণ ভ্রূণের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং এমনকি জন্মগত ত্রুটিও ঘটাতে পারে। তবু চিকিৎসার প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় এক্স-রে দরকার হতে পারে, যেমন দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের পর হাড় ভেঙেছে কি না নিশ্চিত করা। এক্স-রে কি সত্যিই গর্ভাবস্থায় প্রভাব ফেলে, এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায়?
গর্ভাবস্থায় এক্স-রের বিকিরণজনিত ঝুঁকি
এক্স-রে হলো আয়নায়নকারী তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ, যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতিবেগুনি রশ্মি ও গামা রশ্মির মধ্যবর্তী। অনেকে বিকিরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও, চিকিৎসায় ব্যবহৃত এক্স-রের মাত্রা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে পাওয়া বিকিরণের তুলনায় অনেক কম। প্রমাণ অনুযায়ী, হাত, পা বা দাঁতের একবারের এক্স-রে ভ্রূণের ওপর সামান্য প্রভাব ফেলে এবং সাধারণত নিরাপদ।
গর্ভাবস্থায় মায়ের পেটের দেয়াল ও জরায়ু ভ্রূণের কাছে পৌঁছানো অধিকাংশ বিকিরণ আটকে দেয়। তবু বারবার এক্স-রে করালে মোট বিকিরণসংস্পর্শ বেড়ে ভ্রূণের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, অস্বাভাবিকতা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যাওয়া বা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব ঝুঁকি কম হলেও, গর্ভাবস্থার 10 থেকে 17 সপ্তাহের মধ্যে উচ্চমাত্রার বিকিরণ বিশেষভাবে এড়ানো উচিত।
ভ্রূণের জন্য কোন এক্স-রে বেশি নিরাপদ?
গর্ভাবস্থায় হাত, পা, মাথা, দাঁত ও বুকের এক্স-রে সাধারণত নিরাপদ, কারণ এতে পেট সরাসরি বিকিরণের সংস্পর্শে আসে না। পেট, শ্রোণি, কিডনি বা কোমরের নিচের অংশের এক্স-রেতে ভ্রূণ বিকিরণের সংস্পর্শে আসে, তাই এগুলো সাধারণত এড়ানো হয়।
গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে CT স্ক্যানের মতো উচ্চমাত্রার ইমেজিং শিশুর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বেরিয়াম এনিমার মতো বেশি বিকিরণযুক্ত পরীক্ষা গর্ভাবস্থায় উপযুক্ত নয় এবং এড়ানো উচিত।
এক্স-রে করার সময় ভ্রূণকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়?
গর্ভাবস্থায় এক্স-রে প্রয়োজন হলে অবশ্যই চিকিৎসককে জানাতে হবে। এরপর গর্ভাবস্থার পর্যায় ও রোগীর স্বাস্থ্যের ভিত্তিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পরীক্ষা জরুরি না হলে প্রসবের পর পর্যন্ত তা পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। হাত, পা, মাথা বা ঘাড়ের ইমেজিংয়ের সময় ভ্রূণকে রক্ষা করতে সাধারণত সীসার অ্যাপ্রন দেওয়া হয়। **আল্ট্রাসাউন্ড এবং ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (MRI)**-ও বহুল ব্যবহৃত বিকল্প, যাতে আয়নায়নকারী বিকিরণ লাগে না।
গর্ভাবস্থায় ভুলবশত এক্স-রে হলে কি ক্ষতিকর?
গর্ভাবস্থার কথা জানা না থাকায় যদি পেটের এক্স-রে করা হয়ে থাকে, দ্রুত চিকিৎসককে জানান। একবারের এক্স-রেতে বিকিরণের মাত্রা কম থাকে এবং সাধারণত ভ্রূণের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ে না। CT বা হৃদ্যন্ত্র কিংবা অস্থি-সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের সময় এক্স-রে নির্দেশনার মতো উচ্চমাত্রার প্রক্রিয়া হলে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভুলবশত বিকিরণের সংস্পর্শ ঠেকাতে কিছু হাসপাতাল 12 বছর বা তার বেশি বয়সী সব নারীর প্রাসঙ্গিক পরীক্ষার আগে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করে।
গর্ভাবস্থায় এক্স-রে: সতর্কতা, আতঙ্ক নয়
গর্ভাবস্থায় এক্স-রে সম্ভব হলে এড়ানো হলেও আধুনিক যন্ত্রে কম মাত্রার বিকিরণ ব্যবহৃত হয় এবং একটি এক্স-রে সাধারণত ভ্রূণের ক্ষতি করে না। চিকিৎসকরা ইমেজিংয়ের ঝুঁকির সঙ্গে পরীক্ষা না করার স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেন। 18 সপ্তাহের আগে ভ্রূণ সাধারণত বিকিরণের প্রতি বেশি সংবেদনশীল থাকে, আর 26 সপ্তাহের পর তার সংবেদনশীলতা নবজাতকের কাছাকাছি হয়। চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন হলে মা ও ভ্রূণের স্বাস্থ্য রক্ষায় এক্স-রে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ হতে পারে।
উৎস:
অনলাইনে সংগৃহীত