জরায়ুর ভেতরে অ্যামনিওটিক তরল শিশুর ‘তরল দোলনা’ হিসেবে কাজ করে এবং ভ্রূণের বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা ও সুরক্ষা দেয়।
অ্যামনিওটিক তরল কী?
অ্যামনিওটিক তরল স্বচ্ছ বা হালকা হলুদ রঙের তরল, যা গর্ভাবস্থায় অ্যামনিওটিক থলির ভেতরে ভাসমান ভ্রূণকে ঘিরে রাখে। এটি ভ্রূণকে বাইরের আঘাত থেকে সুরক্ষা দেয় এবং বিকাশের জন্য পুষ্টি ও স্থিতিশীল পরিবেশ সরবরাহ করে। ‘গর্ভের পানি ভাঙলে’ সাধারণত প্রসব এগিয়ে আসে।
অ্যামনিওটিক তরল কোথা থেকে আসে?
গর্ভধারণের প্রায় 12 দিন পর অ্যামনিওটিক থলি তৈরি হতে শুরু করে এবং ভ্রূণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে তরলে পূর্ণ হয়। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে অ্যামনিওটিক তরল মূলত গর্ভবতী নারীর শরীরের পানি দিয়ে গঠিত। গর্ভাবস্থা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এর গঠন বদলে যায়।
অ্যামনিওটিক তরলের গঠন
শুরুর দিকে অ্যামনিওটিক তরল 98% পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট দিয়ে গঠিত। অবশিষ্ট 2% অংশে থাকে:
অ্যান্টিবডি: সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা এগুলো তৈরি করে।
হরমোন: শরীরের রাসায়নিক বার্তাবাহক।
পুষ্টি: প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও ভিটামিনসহ বিভিন্ন উপাদান।
20 সপ্তাহের পর ভ্রূণের মূত্র ও ফুসফুসের নিঃসরণ প্রধান উপাদান হয়ে ওঠে। এসব পদার্থ ভ্রূণের অঙ্গগুলোর বিকাশেরও প্রতিফলন ঘটায়।
রং ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
স্বাভাবিক অ্যামনিওটিক তরল সাধারণত বর্ণহীন বা হালকা হলুদ হয়, তবে ভ্রূণ জরায়ুর ভেতরে মেকোনিয়াম নামে পরিচিত প্রথম মল ত্যাগ করলে কখনও কখনও এটি সবুজ বা বাদামি দেখাতে পারে। ভ্রূণ মেকোনিয়ামমিশ্রিত তরল শ্বাসের সঙ্গে টেনে নিলে মেকোনিয়াম অ্যাসপিরেশন সিনড্রোম গুরুতর শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করতে পারে। নবজাতকের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
অ্যামনিওটিক তরলের কাজ
গর্ভাবস্থায় অ্যামনিওটিক তরলের বিভিন্ন ভূমিকা রয়েছে:
ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য স্থান, তরল ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
বাইরের আঘাত বা ট্রমা থেকে ভ্রূণকে সুরক্ষা দেয়।
নাভিরজ্জুকে চাপে পড়া থেকে রক্ষা করে, ফলে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানো বজায় থাকে।
স্থিতিশীল তাপমাত্রা বজায় রাখে।
মায়ের অ্যান্টিবডি ব্যবহার করে ভ্রূণকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে।
ভ্রূণ তরল শ্বাসের সঙ্গে ভেতরে নিয়ে আবার বাইরে বের করার মাধ্যমে ফুসফুসের বিকাশে সহায়তা করে।
পরিপাকতন্ত্র, পেশি, হাড় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে।
অ্যামনিওটিক তরল কম বা বেশি হলে এর প্রভাব
গর্ভাবস্থায় অ্যামনিওটিক তরলের পরিমাণ বেড়ে 800 মিলিলিটার পর্যন্ত হয় 34 সপ্তাহে, তারপর প্রায় 600 মিলিলিটারে কমে 40 সপ্তাহে দাঁড়ায়। তরল খুব কম বা বেশি হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে:
অলিগোহাইড্রামনিওস: সাধারণত 500 মিলিলিটারের কম তরল হিসেবে, 32 থেকে 36 সপ্তাহের মধ্যে সংজ্ঞায়িত হয়। এর ফলে ভ্রূণের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, সময়ের আগে জন্ম বা গর্ভপাত হতে পারে। গর্ভাবস্থার পরের দিকে এটি নাভিরজ্জুতে চাপ সৃষ্টি করে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানো কমিয়ে দিতে পারে।
পলিহাইড্রামনিওস: বিরল এই সমস্যাটি মাত্র 1% গর্ভাবস্থায় দেখা যায় এবং একাধিক ভ্রূণের গর্ভাবস্থা বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে বেশি দেখা যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে সময়ের আগে জন্ম, ভ্রূণের অতিরিক্ত বৃদ্ধি বা প্লাসেন্টা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ঘটতে পারে।
অ্যামনিওটিক তরল কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?
চিকিৎসকেরা আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে তরলের পরিমাণ নির্ণয় করেন এবং অ্যামনিওটিক ফ্লুইড ইনডেক্স (AFI) বা সর্বাধিক উল্লম্ব পকেট (MVP) মাপেন। ভ্রূণের জিনগত অস্বাভাবিকতা বা জন্মগত সমস্যা শনাক্ত করতেও অ্যামনিওসেন্টেসিস ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় যোনিপথ দিয়ে তরল বের হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। মায়ের ওজন ধীরে বাড়া বা ভ্রূণের বৃদ্ধি বিলম্বিত হওয়াও অ্যামনিওটিক তরলের অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত হতে পারে এবং দ্রুত পরীক্ষা করা উচিত।
গাইড | অ্যামনিয়োটিক তরল: বেড়ে ওঠা শিশুর অপরিহার্য সুরক্ষা
গাইড | অ্যামনিওটিক তরল: বিকাশমান শিশুর অপরিহার্য সুরক্ষা
জরায়ুর ভেতরে অ্যামনিওটিক তরল শিশুর ‘তরল দোলনা’ হিসেবে কাজ করে এবং ভ্রূণের বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা ও সুরক্ষা দেয়।
অ্যামনিওটিক তরল কী?
অ্যামনিওটিক তরল স্বচ্ছ বা হালকা হলুদ রঙের তরল, যা গর্ভাবস্থায় অ্যামনিওটিক থলির ভেতরে ভাসমান ভ্রূণকে ঘিরে রাখে। এটি ভ্রূণকে বাইরের আঘাত থেকে সুরক্ষা দেয় এবং বিকাশের জন্য পুষ্টি ও স্থিতিশীল পরিবেশ সরবরাহ করে। ‘গর্ভের পানি ভাঙলে’ সাধারণত প্রসব এগিয়ে আসে।
অ্যামনিওটিক তরল কোথা থেকে আসে?
গর্ভধারণের প্রায় 12 দিন পর অ্যামনিওটিক থলি তৈরি হতে শুরু করে এবং ভ্রূণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে তরলে পূর্ণ হয়। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে অ্যামনিওটিক তরল মূলত গর্ভবতী নারীর শরীরের পানি দিয়ে গঠিত। গর্ভাবস্থা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এর গঠন বদলে যায়।
অ্যামনিওটিক তরলের গঠন
শুরুর দিকে অ্যামনিওটিক তরল 98% পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট দিয়ে গঠিত। অবশিষ্ট 2% অংশে থাকে:
অ্যান্টিবডি: সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা এগুলো তৈরি করে।
হরমোন: শরীরের রাসায়নিক বার্তাবাহক।
পুষ্টি: প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও ভিটামিনসহ বিভিন্ন উপাদান।
20 সপ্তাহের পর ভ্রূণের মূত্র ও ফুসফুসের নিঃসরণ প্রধান উপাদান হয়ে ওঠে। এসব পদার্থ ভ্রূণের অঙ্গগুলোর বিকাশেরও প্রতিফলন ঘটায়।
রং ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
স্বাভাবিক অ্যামনিওটিক তরল সাধারণত বর্ণহীন বা হালকা হলুদ হয়, তবে ভ্রূণ জরায়ুর ভেতরে মেকোনিয়াম নামে পরিচিত প্রথম মল ত্যাগ করলে কখনও কখনও এটি সবুজ বা বাদামি দেখাতে পারে। ভ্রূণ মেকোনিয়ামমিশ্রিত তরল শ্বাসের সঙ্গে টেনে নিলে মেকোনিয়াম অ্যাসপিরেশন সিনড্রোম গুরুতর শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করতে পারে। নবজাতকের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
অ্যামনিওটিক তরলের কাজ
গর্ভাবস্থায় অ্যামনিওটিক তরলের বিভিন্ন ভূমিকা রয়েছে:
ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য স্থান, তরল ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
বাইরের আঘাত বা ট্রমা থেকে ভ্রূণকে সুরক্ষা দেয়।
নাভিরজ্জুকে চাপে পড়া থেকে রক্ষা করে, ফলে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানো বজায় থাকে।
স্থিতিশীল তাপমাত্রা বজায় রাখে।
মায়ের অ্যান্টিবডি ব্যবহার করে ভ্রূণকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে।
ভ্রূণ তরল শ্বাসের সঙ্গে ভেতরে নিয়ে আবার বাইরে বের করার মাধ্যমে ফুসফুসের বিকাশে সহায়তা করে।
পরিপাকতন্ত্র, পেশি, হাড় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে।
অ্যামনিওটিক তরল কম বা বেশি হলে এর প্রভাব
গর্ভাবস্থায় অ্যামনিওটিক তরলের পরিমাণ বেড়ে 800 মিলিলিটার পর্যন্ত হয় 34 সপ্তাহে, তারপর প্রায় 600 মিলিলিটারে কমে 40 সপ্তাহে দাঁড়ায়। তরল খুব কম বা বেশি হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে:
অলিগোহাইড্রামনিওস: সাধারণত 500 মিলিলিটারের কম তরল হিসেবে, 32 থেকে 36 সপ্তাহের মধ্যে সংজ্ঞায়িত হয়। এর ফলে ভ্রূণের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, সময়ের আগে জন্ম বা গর্ভপাত হতে পারে। গর্ভাবস্থার পরের দিকে এটি নাভিরজ্জুতে চাপ সৃষ্টি করে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানো কমিয়ে দিতে পারে।
পলিহাইড্রামনিওস: বিরল এই সমস্যাটি মাত্র 1% গর্ভাবস্থায় দেখা যায় এবং একাধিক ভ্রূণের গর্ভাবস্থা বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে বেশি দেখা যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে সময়ের আগে জন্ম, ভ্রূণের অতিরিক্ত বৃদ্ধি বা প্লাসেন্টা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ঘটতে পারে।
অ্যামনিওটিক তরল কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?
চিকিৎসকেরা আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে তরলের পরিমাণ নির্ণয় করেন এবং অ্যামনিওটিক ফ্লুইড ইনডেক্স (AFI) বা সর্বাধিক উল্লম্ব পকেট (MVP) মাপেন। ভ্রূণের জিনগত অস্বাভাবিকতা বা জন্মগত সমস্যা শনাক্ত করতেও অ্যামনিওসেন্টেসিস ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় যোনিপথ দিয়ে তরল বের হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। মায়ের ওজন ধীরে বাড়া বা ভ্রূণের বৃদ্ধি বিলম্বিত হওয়াও অ্যামনিওটিক তরলের অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত হতে পারে এবং দ্রুত পরীক্ষা করা উচিত।
উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত