জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর: নিরাপত্তার পরামর্শ ও সতর্কতা
গর্ভাবস্থা আনন্দের সময়, তবে কোন কাজগুলো নিরাপদ তা নিয়ে অনেক উদ্বেগও তৈরি হয়। ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর নিজের যত্ন নেওয়ার জনপ্রিয় উপায়, কিন্তু অনেক গর্ভবতী নারী চিন্তা করেন, ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ ভ্রূণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে কি না। গর্ভাবস্থায় কি এসব সৌন্দর্যচর্চা নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পেশাদার সেলুনে করা হলে গর্ভাবস্থায় ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর নিরাপদ। এগুলো হবু মায়েদের শিথিল হতে এবং পেট বড় হওয়ার সঙ্গে নিয়মিত পরিচর্যা সহজ করতে সাহায্য করতে পারে।
নিরাপদ সেলুন বেছে নেওয়ার উপায়
যেকোনো সৌন্দর্যচর্চার আগে নিশ্চিত হোন, সেলুনটি স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তার উচ্চমান বজায় রাখে। কর্মীদের প্রতিটি গ্রাহকের জন্য নতুন সরঞ্জাম ব্যবহার করা এবং গ্রাহক বদলের সময় কাজের জায়গা ও পা ভেজানোর পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত।
রাসায়নিকের গন্ধ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে গর্ভবতী নারীরা আগে থেকেই সেলুনের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বায়ুর মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন। কিছু সেলুন ধোঁয়া ছড়িয়ে দিতে ছোট পাখা ব্যবহার করে বা প্রবেশপথের কাছে ভালো বায়ু চলাচল করে এমন জায়গায় কাজের স্থান রাখে।
আপনি বন্ধু বা প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও সুপারিশ চাইতে পারেন, বিশেষ করে যারা গর্ভাবস্থায় ম্যানিকিউর করিয়েছেন; তাঁদের পছন্দ ও অভিজ্ঞতা থেকেও জানতে পারেন।
নখের প্রসাধনীতে থাকা রাসায়নিক পদার্থ
নখের পরিচর্যায় ব্যবহৃত অনেক পণ্যে এমন রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা গর্ভবতী নারীদের উদ্বিগ্ন করতে পারে। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সীমিত সংস্পর্শে সাধারণত গর্ভবতী নারী বা ভ্রূণের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
সাধারণ রাসায়নিক পদার্থ এবং তাদের সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে:
অ্যাসিটোন: মূলত জেল পলিশ তুলতে ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, উচ্চমাত্রার অ্যাসিটোনের সংস্পর্শে গর্ভপাত বা ভ্রূণের অস্বাভাবিকতার মতো গর্ভাবস্থার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে; তবে সেলুনের গ্রাহক বা কর্মীদের ওপর বিশেষভাবে কোনো গবেষণা করা হয়নি।
ফথালেট: কিছু নেল পলিশসহ অনেক পণ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। প্রাণীর ওপর গবেষণায় প্রজননসংক্রান্ত সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে, তবে মানুষের গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর প্রভাবের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
মিথাইল মেথাক্রাইলেট (MMA): কৃত্রিম নখে আঠা হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এটি শ্বাসনালিতে জ্বালা সৃষ্টি করতে বা হাঁপানির উপসর্গ বাড়াতে পারে। গর্ভবতী হোন বা না হোন, কিছু বিশেষজ্ঞ MMA-এর সংস্পর্শ কমানোর পরামর্শ দেন।
গর্ভাবস্থায় ম্যানিকিউরের সতর্কতা
প্রচলিত ম্যানিকিউরে ঝুঁকি কম, তবে নিচের বিষয়গুলো মনে রাখুন:
পণ্য নির্বাচন: নেল পলিশের উপাদান নিয়ে উদ্বেগ থাকলে সেলুনে গর্ভাবস্থার উপযোগী পলিশ আছে কি না জিজ্ঞেস করুন, অথবা নিজের বোতল নিয়ে যান, যাতে কর্মী সেটি ব্যবহার করতে পারেন।
গন্ধে সংবেদনশীলতা: গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে কিছু নারী গন্ধের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল থাকেন। সেলুনের রাসায়নিক গন্ধে অস্বস্তি হলে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত পরিচর্যা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবুন।
হাত ম্যাসাজ: কিছু কর্মী হাত ম্যাসাজ করেন, তবে বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর মাঝের স্থানে চাপ দিলে জরায়ুর সংকোচন শুরু হতে পারে। কর্মীকে ওই স্থান এড়িয়ে যেতে বলুন বা ম্যাসাজ বাদ দিন।
পলিশ তোলা: সম্ভব হলে অ্যাসিটোনমুক্ত রিমুভার ব্যবহার করুন। অ্যাসিটোন প্রয়োজন হলে দীর্ঘক্ষণ নখ ভিজিয়ে না রেখে কর্মীকে তুলোর কাঠি দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে লাগাতে বলুন।
গর্ভাবস্থায় পেডিকিউরের সতর্কতা
পেডিকিউরে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ গর্ভবতী নারী বা ভ্রূণের ওপর কী প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ নেই; তবে অপর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কারণে নখে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। আরও বিবেচনা করুন:
চাপের স্থান: পায়ের তলার কিছু স্থান জরায়ুর সংকোচনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, তাই কর্মীকে আলতো করে ম্যাসাজ করতে বলুন বা পুরোপুরি পা ম্যাসাজ এড়িয়ে চলুন।
ফোলা কমানো: পা ফুলে গেলে কুসুম গরম পানিতে ভেজানো এবং আলতো পরিচর্যা অস্বস্তি কমাতে পারে।
সেলুনকর্মীদের জন্য পরামর্শ
গর্ভবতী সৌন্দর্যকর্মীদের নিয়মিত রাসায়নিক সংস্পর্শ থেকে কীভাবে সুরক্ষিত থাকা যায়, সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ভালো বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, ঘন ঘন বিরতি নেওয়া বা ধোঁয়া শ্বাসে প্রবেশ কমাতে মাস্ক পরার মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
শেষ পরামর্শ
গর্ভাবস্থায় সৌন্দর্যচর্চার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার স্বাস্থ্যের ভিত্তিতে কোন পরিচর্যাগুলো উপযুক্ত, চিকিৎসক তা নির্ধারণে সাহায্য করতে পারেন।
জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর: নিরাপত্তা পরামর্শ ও সতর্কতা
জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর: নিরাপত্তার পরামর্শ ও সতর্কতা
গর্ভাবস্থা আনন্দের সময়, তবে কোন কাজগুলো নিরাপদ তা নিয়ে অনেক উদ্বেগও তৈরি হয়। ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর নিজের যত্ন নেওয়ার জনপ্রিয় উপায়, কিন্তু অনেক গর্ভবতী নারী চিন্তা করেন, ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ ভ্রূণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে কি না। গর্ভাবস্থায় কি এসব সৌন্দর্যচর্চা নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পেশাদার সেলুনে করা হলে গর্ভাবস্থায় ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর নিরাপদ। এগুলো হবু মায়েদের শিথিল হতে এবং পেট বড় হওয়ার সঙ্গে নিয়মিত পরিচর্যা সহজ করতে সাহায্য করতে পারে।
নিরাপদ সেলুন বেছে নেওয়ার উপায়
যেকোনো সৌন্দর্যচর্চার আগে নিশ্চিত হোন, সেলুনটি স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তার উচ্চমান বজায় রাখে। কর্মীদের প্রতিটি গ্রাহকের জন্য নতুন সরঞ্জাম ব্যবহার করা এবং গ্রাহক বদলের সময় কাজের জায়গা ও পা ভেজানোর পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত।
রাসায়নিকের গন্ধ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে গর্ভবতী নারীরা আগে থেকেই সেলুনের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বায়ুর মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন। কিছু সেলুন ধোঁয়া ছড়িয়ে দিতে ছোট পাখা ব্যবহার করে বা প্রবেশপথের কাছে ভালো বায়ু চলাচল করে এমন জায়গায় কাজের স্থান রাখে।
আপনি বন্ধু বা প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও সুপারিশ চাইতে পারেন, বিশেষ করে যারা গর্ভাবস্থায় ম্যানিকিউর করিয়েছেন; তাঁদের পছন্দ ও অভিজ্ঞতা থেকেও জানতে পারেন।
নখের প্রসাধনীতে থাকা রাসায়নিক পদার্থ
নখের পরিচর্যায় ব্যবহৃত অনেক পণ্যে এমন রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা গর্ভবতী নারীদের উদ্বিগ্ন করতে পারে। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সীমিত সংস্পর্শে সাধারণত গর্ভবতী নারী বা ভ্রূণের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
সাধারণ রাসায়নিক পদার্থ এবং তাদের সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে:
অ্যাসিটোন: মূলত জেল পলিশ তুলতে ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, উচ্চমাত্রার অ্যাসিটোনের সংস্পর্শে গর্ভপাত বা ভ্রূণের অস্বাভাবিকতার মতো গর্ভাবস্থার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে; তবে সেলুনের গ্রাহক বা কর্মীদের ওপর বিশেষভাবে কোনো গবেষণা করা হয়নি।
ফথালেট: কিছু নেল পলিশসহ অনেক পণ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। প্রাণীর ওপর গবেষণায় প্রজননসংক্রান্ত সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে, তবে মানুষের গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর প্রভাবের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
মিথাইল মেথাক্রাইলেট (MMA): কৃত্রিম নখে আঠা হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এটি শ্বাসনালিতে জ্বালা সৃষ্টি করতে বা হাঁপানির উপসর্গ বাড়াতে পারে। গর্ভবতী হোন বা না হোন, কিছু বিশেষজ্ঞ MMA-এর সংস্পর্শ কমানোর পরামর্শ দেন।
গর্ভাবস্থায় ম্যানিকিউরের সতর্কতা
প্রচলিত ম্যানিকিউরে ঝুঁকি কম, তবে নিচের বিষয়গুলো মনে রাখুন:
পণ্য নির্বাচন: নেল পলিশের উপাদান নিয়ে উদ্বেগ থাকলে সেলুনে গর্ভাবস্থার উপযোগী পলিশ আছে কি না জিজ্ঞেস করুন, অথবা নিজের বোতল নিয়ে যান, যাতে কর্মী সেটি ব্যবহার করতে পারেন।
গন্ধে সংবেদনশীলতা: গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে কিছু নারী গন্ধের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল থাকেন। সেলুনের রাসায়নিক গন্ধে অস্বস্তি হলে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত পরিচর্যা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবুন।
হাত ম্যাসাজ: কিছু কর্মী হাত ম্যাসাজ করেন, তবে বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর মাঝের স্থানে চাপ দিলে জরায়ুর সংকোচন শুরু হতে পারে। কর্মীকে ওই স্থান এড়িয়ে যেতে বলুন বা ম্যাসাজ বাদ দিন।
পলিশ তোলা: সম্ভব হলে অ্যাসিটোনমুক্ত রিমুভার ব্যবহার করুন। অ্যাসিটোন প্রয়োজন হলে দীর্ঘক্ষণ নখ ভিজিয়ে না রেখে কর্মীকে তুলোর কাঠি দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে লাগাতে বলুন।
গর্ভাবস্থায় পেডিকিউরের সতর্কতা
পেডিকিউরে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ গর্ভবতী নারী বা ভ্রূণের ওপর কী প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ নেই; তবে অপর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কারণে নখে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। আরও বিবেচনা করুন:
চাপের স্থান: পায়ের তলার কিছু স্থান জরায়ুর সংকোচনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, তাই কর্মীকে আলতো করে ম্যাসাজ করতে বলুন বা পুরোপুরি পা ম্যাসাজ এড়িয়ে চলুন।
ফোলা কমানো: পা ফুলে গেলে কুসুম গরম পানিতে ভেজানো এবং আলতো পরিচর্যা অস্বস্তি কমাতে পারে।
সেলুনকর্মীদের জন্য পরামর্শ
গর্ভবতী সৌন্দর্যকর্মীদের নিয়মিত রাসায়নিক সংস্পর্শ থেকে কীভাবে সুরক্ষিত থাকা যায়, সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ভালো বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, ঘন ঘন বিরতি নেওয়া বা ধোঁয়া শ্বাসে প্রবেশ কমাতে মাস্ক পরার মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
শেষ পরামর্শ
গর্ভাবস্থায় সৌন্দর্যচর্চার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার স্বাস্থ্যের ভিত্তিতে কোন পরিচর্যাগুলো উপযুক্ত, চিকিৎসক তা নির্ধারণে সাহায্য করতে পারেন।
উৎস:
অনলাইনে সংগৃহীত