খবর | ভ্রূণ স্থাপনের প্রাথমিক পর্যায়ে ভ্রূণ ও জরায়ুর মধ্যে ‘আণবিক সংলাপ’: গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া উন্মোচন
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্রূণ স্থাপনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ভ্রূণ ও জরায়ুর অন্তঃস্তর কেবল নিষ্ক্রিয়ভাবে সংস্পর্শে আসে না। বরং অত্যন্ত গতিশীল, দ্বিমুখী যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে তারা ‘রিয়েল-টাইম সংলাপে’ যুক্ত হয়। এই আদান-প্রদান মূলত বহিঃকোষীয় ভেসিকল, লিপিড ড্রপলেট এবং অ্যারিল হাইড্রোকার্বন রিসেপ্টর (AhR)-সম্পর্কিত সংকেতপথের ওপর নির্ভর করে এবং সফল ভ্রূণ সংযুক্তি ও স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেন ডা. ইয়েল হাইফেটজ ও ডা. আলিসা কমস্কি-এলবাজ, তাঁদের সঙ্গে ছিলেন মার্গারিটা শুহমাহের ও ডা. হাভিয়ের আর্তুরো সানচেজ-লোপেজ। ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের অধ্যাপক ইয়োভ সোয়েন এবং DatGraph-এর ডা. আমির হেফেটজও এতে সহযোগিতা করেন। ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে Journal of Extracellular Vesicles-এ।
গবেষকেরা উল্লেখ করেন, গর্ভাবস্থায় ভ্রূণ স্থাপন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়গুলোর একটি এবং এ পর্যায়ে ব্যর্থতার হারও অত্যন্ত বেশি। এর গুরুত্ব সত্ত্বেও, ভ্রূণ কীভাবে মাকে তার উপস্থিতির সংকেত দেয় বা কীভাবে জরায়ুর অন্তঃস্তরের সঙ্গে পরিবর্তন সমন্বয় করে—এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্ট কোনো আণবিক ব্যাখ্যা ছিল না। তাই দলটি স্থাপনের সময়সীমা (WOI)-এর মধ্যে ভ্রূণ ও জরায়ুর অন্তঃস্তরের সংকেত আদান-প্রদান পদ্ধতিগতভাবে বিশ্লেষণ করতে মানব ইন ভিট্রো সহ-সংস্কৃতি মডেল ব্যবহার করে।
গবেষণায় দেখা যায়, হরমোনের নিয়ন্ত্রণে জরায়ু বিভিন্ন ধরনের বহিঃকোষীয় ভেসিকল নিঃসরণ করে, যেগুলোর আকার, নিঃসরণের হার, ভ্রূণের গ্রহণক্ষমতা এবং আণবিক গঠনে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে। ভ্রূণও ভেসিকল নিঃসরণ করে, ফলে জরায়ুর অন্তঃস্তরের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন দ্বিমুখী যোগাযোগ তৈরি হয়। গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেন, ভ্রূণ স্থাপন এমন একতরফা প্রক্রিয়া নয় যেখানে ভ্রূণ শুধু জরায়ুর সঙ্গে খাপ খায়; এটি অত্যন্ত সমন্বিত একটি পারস্পরিক ক্রিয়া।
গবেষণায় প্রথমবারের মতো আরও দেখা যায়, লিপিড ড্রপলেট কেবল শক্তি সঞ্চয়ের কাঠামো নয়, ভ্রূণ-মাতৃ যোগাযোগে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীও। জরায়ুর অন্তঃস্তর ও ভ্রূণ—উভয় স্থান থেকে আসা ভেসিকল গ্রাহক কোষে লিপিড ড্রপলেটের গতিশীলতা পুনর্গঠন করে এবং লিপিড-সম্পর্কিত অণু সরাসরি ভ্রূণীয় কোষে পরিবহন করে। এর ফলে ভ্রূণ স্থাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিপাকীয় পুনর্বিন্যাসে সহায়তা হয়। দলটি লিপিড ড্রপলেটকে বিপাকীয় সংকেত ও নিয়ন্ত্রক তথ্য সমন্বয়কারী ‘কার্যকরী কেন্দ্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো, ভ্রূণ স্থাপনে অ্যারিল হাইড্রোকার্বন রিসেপ্টর (AhR) পথের কেন্দ্রীয় ভূমিকা। বহিঃকোষীয় ভেসিকল বেছে বেছে AhR লিগ্যান্ড বহন করতে পারে এবং শক্তি বিপাক-সম্পর্কিত অণুর সঙ্গে সেগুলো পরিবহন করতে পারে। পরীক্ষায় দেখা যায়, AhR সংকেতপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করলে ভ্রূণসদৃশ কাঠামো ও জরায়ুর কোষের মধ্যে সংযুক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, যা ইঙ্গিত করে যে এই পথ জরায়ুর গ্রহণক্ষমতা সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
গবেষকেরা বলেন, এই প্রক্রিয়া পরিবেশ ও প্রজননক্ষমতার মধ্যে সম্পর্কের একটি আণবিক ব্যাখ্যা দেয়। AhR সংকেতপ্রবাহ খাদ্য ও পরিবেশ থেকে আসা উদ্দীপনা একত্র করে এবং বাহ্যিক তথ্যকে এমন জৈবিক সংকেতে রূপান্তরিত করে যা বিপাক ও টিস্যুর পুনর্গঠনকে প্রভাবিত করে। এর ফলে গর্ভাবস্থার একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রজনন-সাফল্য প্রভাবিত হতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, ভেসিকল-নির্ভর যোগাযোগ অত্যন্ত দ্রুত ঘটে: প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে একটি কোষ অন্য কোষের ভেসিকল গ্রহণ করতে পারে, আর ভেসিকল বহনকারী mRNA দ্রুত কার্যকরী প্রোটিনে অনূদিত হয়। এর ফলে কোষ কীভাবে শক্তি ব্যবহার করে, লিপিড প্রক্রিয়াজাত করে এবং স্থানীয় টিস্যু সংগঠিত করে—তা সরাসরি বদলে যায়, যা ভ্রূণ সংযুক্তির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
দলটির মতে, ইন ভিট্রো মডেলটি প্রাথমিক ভ্রূণ-মাতৃ পারস্পরিক ক্রিয়া পদ্ধতিগতভাবে অধ্যয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এটি ভ্রূণ স্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা গভীর করতে পারে এবং অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় বা রোগগত অবস্থায় বহিঃকোষীয় ভেসিকল-নির্ভর যোগাযোগ নিয়ে গবেষণায়ও সম্প্রসারিত হতে পারে। এই ফলাফল প্রজনন জীববিজ্ঞান ও প্রজননক্ষমতা নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটি নতুন তাত্ত্বিক ভিত্তি দেয়।
খবর | ভ্রূণ স্থাপনের প্রাথমিক পর্যায়ে ভ্রূণ ও জরায়ুর মধ্যে ‘আণবিক সংলাপ’: গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া উন্মোচন
খবর | ভ্রূণ স্থাপনের প্রাথমিক পর্যায়ে ভ্রূণ ও জরায়ুর মধ্যে ‘আণবিক সংলাপ’: গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া উন্মোচন
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্রূণ স্থাপনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ভ্রূণ ও জরায়ুর অন্তঃস্তর কেবল নিষ্ক্রিয়ভাবে সংস্পর্শে আসে না। বরং অত্যন্ত গতিশীল, দ্বিমুখী যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে তারা ‘রিয়েল-টাইম সংলাপে’ যুক্ত হয়। এই আদান-প্রদান মূলত বহিঃকোষীয় ভেসিকল, লিপিড ড্রপলেট এবং অ্যারিল হাইড্রোকার্বন রিসেপ্টর (AhR)-সম্পর্কিত সংকেতপথের ওপর নির্ভর করে এবং সফল ভ্রূণ সংযুক্তি ও স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেন ডা. ইয়েল হাইফেটজ ও ডা. আলিসা কমস্কি-এলবাজ, তাঁদের সঙ্গে ছিলেন মার্গারিটা শুহমাহের ও ডা. হাভিয়ের আর্তুরো সানচেজ-লোপেজ। ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের অধ্যাপক ইয়োভ সোয়েন এবং DatGraph-এর ডা. আমির হেফেটজও এতে সহযোগিতা করেন। ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে Journal of Extracellular Vesicles-এ।
গবেষকেরা উল্লেখ করেন, গর্ভাবস্থায় ভ্রূণ স্থাপন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়গুলোর একটি এবং এ পর্যায়ে ব্যর্থতার হারও অত্যন্ত বেশি। এর গুরুত্ব সত্ত্বেও, ভ্রূণ কীভাবে মাকে তার উপস্থিতির সংকেত দেয় বা কীভাবে জরায়ুর অন্তঃস্তরের সঙ্গে পরিবর্তন সমন্বয় করে—এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্ট কোনো আণবিক ব্যাখ্যা ছিল না। তাই দলটি স্থাপনের সময়সীমা (WOI)-এর মধ্যে ভ্রূণ ও জরায়ুর অন্তঃস্তরের সংকেত আদান-প্রদান পদ্ধতিগতভাবে বিশ্লেষণ করতে মানব ইন ভিট্রো সহ-সংস্কৃতি মডেল ব্যবহার করে।
গবেষণায় দেখা যায়, হরমোনের নিয়ন্ত্রণে জরায়ু বিভিন্ন ধরনের বহিঃকোষীয় ভেসিকল নিঃসরণ করে, যেগুলোর আকার, নিঃসরণের হার, ভ্রূণের গ্রহণক্ষমতা এবং আণবিক গঠনে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে। ভ্রূণও ভেসিকল নিঃসরণ করে, ফলে জরায়ুর অন্তঃস্তরের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন দ্বিমুখী যোগাযোগ তৈরি হয়। গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেন, ভ্রূণ স্থাপন এমন একতরফা প্রক্রিয়া নয় যেখানে ভ্রূণ শুধু জরায়ুর সঙ্গে খাপ খায়; এটি অত্যন্ত সমন্বিত একটি পারস্পরিক ক্রিয়া।
গবেষণায় প্রথমবারের মতো আরও দেখা যায়, লিপিড ড্রপলেট কেবল শক্তি সঞ্চয়ের কাঠামো নয়, ভ্রূণ-মাতৃ যোগাযোগে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীও। জরায়ুর অন্তঃস্তর ও ভ্রূণ—উভয় স্থান থেকে আসা ভেসিকল গ্রাহক কোষে লিপিড ড্রপলেটের গতিশীলতা পুনর্গঠন করে এবং লিপিড-সম্পর্কিত অণু সরাসরি ভ্রূণীয় কোষে পরিবহন করে। এর ফলে ভ্রূণ স্থাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিপাকীয় পুনর্বিন্যাসে সহায়তা হয়। দলটি লিপিড ড্রপলেটকে বিপাকীয় সংকেত ও নিয়ন্ত্রক তথ্য সমন্বয়কারী ‘কার্যকরী কেন্দ্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো, ভ্রূণ স্থাপনে অ্যারিল হাইড্রোকার্বন রিসেপ্টর (AhR) পথের কেন্দ্রীয় ভূমিকা। বহিঃকোষীয় ভেসিকল বেছে বেছে AhR লিগ্যান্ড বহন করতে পারে এবং শক্তি বিপাক-সম্পর্কিত অণুর সঙ্গে সেগুলো পরিবহন করতে পারে। পরীক্ষায় দেখা যায়, AhR সংকেতপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করলে ভ্রূণসদৃশ কাঠামো ও জরায়ুর কোষের মধ্যে সংযুক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, যা ইঙ্গিত করে যে এই পথ জরায়ুর গ্রহণক্ষমতা সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
গবেষকেরা বলেন, এই প্রক্রিয়া পরিবেশ ও প্রজননক্ষমতার মধ্যে সম্পর্কের একটি আণবিক ব্যাখ্যা দেয়। AhR সংকেতপ্রবাহ খাদ্য ও পরিবেশ থেকে আসা উদ্দীপনা একত্র করে এবং বাহ্যিক তথ্যকে এমন জৈবিক সংকেতে রূপান্তরিত করে যা বিপাক ও টিস্যুর পুনর্গঠনকে প্রভাবিত করে। এর ফলে গর্ভাবস্থার একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রজনন-সাফল্য প্রভাবিত হতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, ভেসিকল-নির্ভর যোগাযোগ অত্যন্ত দ্রুত ঘটে: প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে একটি কোষ অন্য কোষের ভেসিকল গ্রহণ করতে পারে, আর ভেসিকল বহনকারী mRNA দ্রুত কার্যকরী প্রোটিনে অনূদিত হয়। এর ফলে কোষ কীভাবে শক্তি ব্যবহার করে, লিপিড প্রক্রিয়াজাত করে এবং স্থানীয় টিস্যু সংগঠিত করে—তা সরাসরি বদলে যায়, যা ভ্রূণ সংযুক্তির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
দলটির মতে, ইন ভিট্রো মডেলটি প্রাথমিক ভ্রূণ-মাতৃ পারস্পরিক ক্রিয়া পদ্ধতিগতভাবে অধ্যয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এটি ভ্রূণ স্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা গভীর করতে পারে এবং অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় বা রোগগত অবস্থায় বহিঃকোষীয় ভেসিকল-নির্ভর যোগাযোগ নিয়ে গবেষণায়ও সম্প্রসারিত হতে পারে। এই ফলাফল প্রজনন জীববিজ্ঞান ও প্রজননক্ষমতা নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটি নতুন তাত্ত্বিক ভিত্তি দেয়।
খবরের উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত