সংবাদ | mRNA থেরাপি জিনগত পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতির সুযোগ দিতে পারে: ইঁদুরের গবেষণায় শুক্রাণু উৎপাদন পুনরুদ্ধার
একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট অণ্ডকোষীয় কোষে মেসেঞ্জার RNA (mRNA) লক্ষ্যভিত্তিকভাবে পৌঁছে দিলে জিনগত বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত ইঁদুরের শুক্রাণু উৎপাদন পুনরুদ্ধার হয় এবং তারা সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারে। এই আবিষ্কার জিনগত কারণে হওয়া পুরুষ বন্ধ্যত্বের ভবিষ্যৎ চিকিৎসা নিয়ে গবেষণার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন; গবেষণাটি মার্চ 5, 2026 তারিখে Stem Cell Reports-এ প্রকাশিত হয়।
বন্ধ্যত্বের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পুরুষজনিত কারণ জড়িত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় 10% দম্পতি বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভোগেন এবং প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পুরুষজনিত কারণ জড়িত। পুরুষ বন্ধ্যত্বের অনেক ঘটনাই স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহতকারী জিনগত ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত।
সমাধান খুঁজতে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের দলটি লক্ষ্যভিত্তিক mRNA সরবরাহ প্রযুক্তি তৈরি করে। এর উদ্দেশ্য ছিল জিনোমে সরাসরি পরিবর্তন না এনে সাময়িকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জিনগত নির্দেশনা সরবরাহের মাধ্যমে শুক্রাণু উৎপাদন পুনরুদ্ধার করা।
দলনেতা অধ্যাপক তাকাশি শিনোহারা বলেন, mRNA হলো স্বল্পস্থায়ী একটি অণু, যা জিনগত নির্দেশনা বহন করে এবং কোষকে নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয়। ফলে কোষের DNA-তে স্থায়ী পরিবর্তন না এনেও এটি চিকিৎসাগত প্রভাব ফেলতে পারে।
অণ্ডকোষের কোষে সরাসরি mRNA প্রবেশ করানো
পরীক্ষায় গবেষকেরা নির্দিষ্ট জিনগত তথ্য বহনকারী mRNA ইঁদুরের অণ্ডকোষে সরাসরি প্রবেশ করান। প্রথমে দলটি নিশ্চিত করে যে পদ্ধতিটি সফলভাবে জিনগত নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ধরনের কোষে পৌঁছে দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
এরপর গবেষকেরা জিনগত ত্রুটিযুক্ত ইঁদুরের প্রজননক্ষমতা ফিরিয়ে আনা যায় কি না তা পরীক্ষা করতে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করেন। ইঁদুরগুলোর সহায়ক কোষে এমন একটি ত্রুটি ছিল, যা শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল। মানুষের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ত্রুটি পুরুষ বন্ধ্যত্ব ও অণ্ডকোষের কিছু রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
স্বল্পমেয়াদি প্রকাশ শুক্রাণু উৎপাদন পুনরুদ্ধার করে
প্রবেশ করানো mRNA শরীরে মাত্র প্রায় দুই দিন সক্রিয় ছিল, কিন্তু এই স্বল্পমেয়াদি প্রকাশই ইঁদুরগুলোর শুক্রাণু উৎপাদন বা স্পার্মাটোজেনেসিস পুনরায় শুরু করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
চিকিৎসার পর জিনগত কারণে বন্ধ্যা ইঁদুরগুলো আবার শুক্রাণু উৎপাদন শুরু করে, যদিও এর আগে তারা শুক্রাণু তৈরি করতে পারত না।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ইঁদুরগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করা শুক্রাণু ইন ভিট্রো নিষেকের পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়। ইঁদুরের ডিম্বাণুতে প্রবেশ করালে শুক্রাণুগুলো সফলভাবে সুস্থ সন্তান উৎপাদন করে।
ফলাফল দেখায়, mRNA সরবরাহের মাধ্যমে শুক্রাণু উৎপাদন পুনরুদ্ধার করা এবং প্রজননে সক্ষম কার্যকর শুক্রাণু তৈরি করা সম্ভব।
পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় সম্ভাব্য নতুন কৌশল
গবেষকেরা বলেন, পুরুষ বন্ধ্যত্বের কারণ হওয়া নির্দিষ্ট জিনগত ত্রুটি mRNA সরবরাহের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়—এটি প্রদর্শনকারী প্রথম গবেষণা এটি।
জিন সম্পাদনার তুলনায় এই পদ্ধতির সুবিধা হলো, এটি সাময়িক এবং কোষের DNA-তে স্থায়ী পরিবর্তন আনে না, ফলে ঝুঁকি কমতে পারে।
তবে দলটি জোর দিয়ে বলেছে, ফলাফল বর্তমানে প্রাণীর মডেলেই সীমাবদ্ধ। মানুষের ক্লিনিক্যাল চিকিৎসায় বিবেচনা করার আগে পদ্ধতিটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়নে আরও প্রাণী-গবেষণা প্রয়োজন।
ভবিষ্যৎ গবেষণায় এর কার্যকারিতা নিশ্চিত হলে, জিনগত ত্রুটির কারণে হওয়া পুরুষ বন্ধ্যত্বের কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিক mRNA থেরাপি নতুন চিকিৎসার বিকল্প দিতে পারে।
সংবাদ | mRNA থেরাপি জিনগত পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতির সুযোগ দিতে পারে: ইঁদুরের গবেষণায় শুক্রাণু উৎপাদন পুনরুদ্ধার
সংবাদ | mRNA থেরাপি জিনগত পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতির সুযোগ দিতে পারে: ইঁদুরের গবেষণায় শুক্রাণু উৎপাদন পুনরুদ্ধার
একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট অণ্ডকোষীয় কোষে মেসেঞ্জার RNA (mRNA) লক্ষ্যভিত্তিকভাবে পৌঁছে দিলে জিনগত বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত ইঁদুরের শুক্রাণু উৎপাদন পুনরুদ্ধার হয় এবং তারা সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারে। এই আবিষ্কার জিনগত কারণে হওয়া পুরুষ বন্ধ্যত্বের ভবিষ্যৎ চিকিৎসা নিয়ে গবেষণার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন; গবেষণাটি মার্চ 5, 2026 তারিখে Stem Cell Reports-এ প্রকাশিত হয়।
বন্ধ্যত্বের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পুরুষজনিত কারণ জড়িত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় 10% দম্পতি বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভোগেন এবং প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পুরুষজনিত কারণ জড়িত। পুরুষ বন্ধ্যত্বের অনেক ঘটনাই স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহতকারী জিনগত ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত।
সমাধান খুঁজতে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের দলটি লক্ষ্যভিত্তিক mRNA সরবরাহ প্রযুক্তি তৈরি করে। এর উদ্দেশ্য ছিল জিনোমে সরাসরি পরিবর্তন না এনে সাময়িকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জিনগত নির্দেশনা সরবরাহের মাধ্যমে শুক্রাণু উৎপাদন পুনরুদ্ধার করা।
দলনেতা অধ্যাপক তাকাশি শিনোহারা বলেন, mRNA হলো স্বল্পস্থায়ী একটি অণু, যা জিনগত নির্দেশনা বহন করে এবং কোষকে নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয়। ফলে কোষের DNA-তে স্থায়ী পরিবর্তন না এনেও এটি চিকিৎসাগত প্রভাব ফেলতে পারে।
অণ্ডকোষের কোষে সরাসরি mRNA প্রবেশ করানো
পরীক্ষায় গবেষকেরা নির্দিষ্ট জিনগত তথ্য বহনকারী mRNA ইঁদুরের অণ্ডকোষে সরাসরি প্রবেশ করান। প্রথমে দলটি নিশ্চিত করে যে পদ্ধতিটি সফলভাবে জিনগত নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ধরনের কোষে পৌঁছে দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
শুক্রাণু উৎপাদনকারী জার্ম কোষ
শুক্রাণুর বিকাশে সহায়তাকারী সহায়ক কোষ (সার্টোলি কোষ)
এরপর গবেষকেরা জিনগত ত্রুটিযুক্ত ইঁদুরের প্রজননক্ষমতা ফিরিয়ে আনা যায় কি না তা পরীক্ষা করতে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করেন। ইঁদুরগুলোর সহায়ক কোষে এমন একটি ত্রুটি ছিল, যা শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল। মানুষের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ত্রুটি পুরুষ বন্ধ্যত্ব ও অণ্ডকোষের কিছু রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
স্বল্পমেয়াদি প্রকাশ শুক্রাণু উৎপাদন পুনরুদ্ধার করে
প্রবেশ করানো mRNA শরীরে মাত্র প্রায় দুই দিন সক্রিয় ছিল, কিন্তু এই স্বল্পমেয়াদি প্রকাশই ইঁদুরগুলোর শুক্রাণু উৎপাদন বা স্পার্মাটোজেনেসিস পুনরায় শুরু করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
চিকিৎসার পর জিনগত কারণে বন্ধ্যা ইঁদুরগুলো আবার শুক্রাণু উৎপাদন শুরু করে, যদিও এর আগে তারা শুক্রাণু তৈরি করতে পারত না।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ইঁদুরগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করা শুক্রাণু ইন ভিট্রো নিষেকের পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়। ইঁদুরের ডিম্বাণুতে প্রবেশ করালে শুক্রাণুগুলো সফলভাবে সুস্থ সন্তান উৎপাদন করে।
ফলাফল দেখায়, mRNA সরবরাহের মাধ্যমে শুক্রাণু উৎপাদন পুনরুদ্ধার করা এবং প্রজননে সক্ষম কার্যকর শুক্রাণু তৈরি করা সম্ভব।
পুরুষ বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় সম্ভাব্য নতুন কৌশল
গবেষকেরা বলেন, পুরুষ বন্ধ্যত্বের কারণ হওয়া নির্দিষ্ট জিনগত ত্রুটি mRNA সরবরাহের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়—এটি প্রদর্শনকারী প্রথম গবেষণা এটি।
জিন সম্পাদনার তুলনায় এই পদ্ধতির সুবিধা হলো, এটি সাময়িক এবং কোষের DNA-তে স্থায়ী পরিবর্তন আনে না, ফলে ঝুঁকি কমতে পারে।
তবে দলটি জোর দিয়ে বলেছে, ফলাফল বর্তমানে প্রাণীর মডেলেই সীমাবদ্ধ। মানুষের ক্লিনিক্যাল চিকিৎসায় বিবেচনা করার আগে পদ্ধতিটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়নে আরও প্রাণী-গবেষণা প্রয়োজন।
ভবিষ্যৎ গবেষণায় এর কার্যকারিতা নিশ্চিত হলে, জিনগত ত্রুটির কারণে হওয়া পুরুষ বন্ধ্যত্বের কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিক mRNA থেরাপি নতুন চিকিৎসার বিকল্প দিতে পারে।
গল্পের উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত