খবর | পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য আবারও আলোচনায়: সর্বশেষ প্রতিবেদনে দীর্ঘমেয়াদি টেস্টোস্টেরন পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা
জুলাই 11 তারিখে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান বিশ্বজুড়ে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে সম্প্রতি ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজি (ESHRE)-এর বার্ষিক সভায় উপস্থাপিত একটি গবেষণা বিশ্লেষণের উল্লেখ করে বলা হয়, গত কয়েক দশকে পুরুষদের গড় মোট টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর অর্থ এই নয় যে সব পুরুষের উর্বরতাও একইভাবে কমবে, আবার এর ভিত্তিতে সরাসরি কোনো একক কারণও নির্ধারণ করা যায় না। তবে এই সংকেত পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবেশগত সংস্পর্শ ও জীবনযাপন নিয়ে আলোচনাকে আবারও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।
সম্মেলনের তথ্যের ইঙ্গিত: পুরুষদের মোট টেস্টোস্টেরনের মাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে
দ্য গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ESHRE-এর বার্ষিক সভায় উপস্থাপিত একটি সম্মিলিত বিশ্লেষণে গবেষকেরা 6টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা সংকলন করেন। এসব গবেষণায় 5টি দেশের মোট 118,593 জন পুরুষ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং সময়কাল ছিল 1972 থেকে 2019 পর্যন্ত। বিশ্লেষণের ফলাফলে ইঙ্গিত মেলে, প্রায় 50 বছরজুড়ে পুরুষদের গড় মোট টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।
টেস্টোস্টেরন পুরুষদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌন হরমোন এবং এটি যৌন বিকাশ, যৌনক্রিয়া, কঙ্কালের পেশি বজায় রাখা ও প্রজননকার্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তবে মনে রাখা দরকার, টেস্টোস্টেরনের মাত্রার পরিবর্তনকে সরলভাবে উর্বরতার পরিবর্তনের সমতুল্য ধরা যায় না এবং কোনো ব্যক্তির বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি নির্ধারণে এই একক সূচকই যথেষ্ট নয়। তবু জনসংখ্যাগত পর্যায়ে এমন দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা প্রজননচিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য—উভয় ক্ষেত্রেরই অব্যাহত মনোযোগের দাবি রাখে।
এই গবেষণার ফলাফলের অর্থ কী
প্রজননচিকিৎসার ক্ষেত্রে এ ধরনের গবেষণার প্রথম গুরুত্ব হলো, উর্বরতা মূল্যায়নে “পুরুষজনিত কারণ”কে যেন অবহেলা না করা হয়, সে কথা মনে করিয়ে দেওয়া। অতীতে বন্ধ্যত্ব নিয়ে আলোচনায় নারীর বয়স, ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা ও ভ্রূণের গুণমানের মতো বিষয় বেশি গুরুত্ব পেত; অন্যদিকে পুরুষের অন্তঃস্রাবীয় অবস্থা, বীর্যের গুণমান, পরিবেশগত সংস্পর্শ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে প্রায়ই কম গুরুত্ব দেওয়া হতো।
পরবর্তী গবেষণায় একই ধরনের প্রবণতার সমর্থন মিললে, চিকিৎসাক্ষেত্রে পুরুষের উর্বরতা আরও আগে ও সুশৃঙ্খলভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে থাকবে বীর্য পরীক্ষা, অন্তঃস্রাবীয় পরীক্ষা এবং স্থূলতা, বিপাকীয় অস্বাভাবিকতা, ধূমপান, অপর্যাপ্ত ঘুম ও পেশাগত সংস্পর্শের মতো ঝুঁকির কারণ শনাক্ত করা।
গবেষণার পদ্ধতি ও সীমাবদ্ধতা—দুটিই স্পষ্টভাবে বোঝা জরুরি
এ ধরনের সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্যের সংবাদমূল্য আছে, তবে এর ব্যাখ্যায় সংযত থাকা দরকার। প্রথমত, প্রতিবেদনে সম্মেলনে উপস্থাপিত একটি সম্মিলিত বিশ্লেষণের উল্লেখ করা হয়েছে; এটি সম্পূর্ণ সহকর্মী-পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাওয়া এবং সব বিস্তারিত প্রকাশ করা কোনো আনুষ্ঠানিক গবেষণাপত্রের সমতুল্য নয়। দ্বিতীয়ত, গবেষণাটিতে বড় নমুনা ও দীর্ঘ সময়কাল থাকলেও বিভিন্ন যুগ ও দেশের পরীক্ষার পদ্ধতি, অন্তর্ভুক্ত জনসংখ্যার গঠন এবং স্বাস্থ্যগত পটভূমি পুরোপুরি একরকম নয়। এসব বিষয় ফলাফলের তুলনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এ থেকে এখনই নিশ্চিত কারণ-সম্পর্কের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশদূষণ, অন্তঃস্রাব-বিঘ্নকারী রাসায়নিকের সংস্পর্শ, জীবনযাপনের পরিবর্তন এবং বিপাকীয় রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝাকে গবেষক ও বিশেষজ্ঞেরা সম্ভাব্য সম্পর্কিত সূত্র হিসেবে দেখছেন; তবে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো বিভ্রান্তিকারী বিষয়গুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। তাই আরও সতর্কভাবে বলা যায়: বিদ্যমান তথ্য ইঙ্গিত করে যে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সূচকগুলোতে উদ্বেগের যোগ্য দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, কিন্তু এর নির্দিষ্ট চালিকাশক্তি জানতে আরও গবেষণা দরকার।
সাধারণ পাঠক ও সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনাকারীদের জন্য ব্যবহারিক গুরুত্ব
সাধারণ পুরুষদের জন্য এ ধরনের প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উদ্বেগ তৈরি করা নয়, বরং পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যকে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অংশ হিসেবে দেখা। নিয়মিত জীবনযাপন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও মদ্যপান কমানো, অতিরিক্ত তাপ ও ক্ষতিকর সংস্পর্শ এড়ানো এবং বিপাকীয় অস্বাভাবিকতা ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা—এসব ব্যবস্থা শুধু উর্বরতার সঙ্গে নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
যেসব পরিবার বর্তমানে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তারা নির্দিষ্ট সময় চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণে সফল না হলে, অথবা বীর্যের অস্বাভাবিকতা, যৌন হরমোনের অস্বাভাবিকতা, অণ্ডকোষের রোগের ইতিহাস কিংবা ক্যানসারের চিকিৎসার ইতিহাস থাকলে, পুরুষ সঙ্গীর যত দ্রুত সম্ভব মানসম্মত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যাওয়া উচিত। পরীক্ষা ও চিকিৎসার পুরো দায়ভার শুধু নারী সঙ্গীর ওপর দেওয়া উচিত নয়।
পটভূমির কথা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুক্রাণুর সংখ্যা, বীর্যের গুণমান, বয়ঃসন্ধি শুরু হওয়ার সময় এবং পুরুষের হরমোনের মাত্রার পরিবর্তন নিয়ে একের পর এক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে; জনসাধারণের মনোযোগও বেড়েছে। তবে প্রজননচিকিৎসা মহলের সাধারণ মত হলো, প্রকৃত প্রবণতা নির্ধারণে এ ধরনের বিষয়কে উচ্চমানের, দীর্ঘমেয়াদি ও পুনরুৎপাদনযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিচার করতে হবে—এগুলোকে খাটোও করা যাবে না, আবার অনিশ্চিত ঘটনাকে নিশ্চিত সংকটে পরিণত করাও উচিত নয়।
এই অর্থে, এই প্রতিবেদনের মূল্য কোনো সরল সিদ্ধান্ত দেওয়ায় নয়; বরং জনসাধারণ ও চিকিৎসাক্ষেত্রকে আবারও মনে করিয়ে দেওয়ায় যে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
সংবাদ | পুরুষ প্রজননস্বাস্থ্যে নতুন করে গুরুত্ব: টেস্টোস্টেরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন নিয়ে সর্বশেষ প্রতিবেদন
খবর | পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য আবারও আলোচনায়: সর্বশেষ প্রতিবেদনে দীর্ঘমেয়াদি টেস্টোস্টেরন পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা
জুলাই 11 তারিখে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান বিশ্বজুড়ে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে সম্প্রতি ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজি (ESHRE)-এর বার্ষিক সভায় উপস্থাপিত একটি গবেষণা বিশ্লেষণের উল্লেখ করে বলা হয়, গত কয়েক দশকে পুরুষদের গড় মোট টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর অর্থ এই নয় যে সব পুরুষের উর্বরতাও একইভাবে কমবে, আবার এর ভিত্তিতে সরাসরি কোনো একক কারণও নির্ধারণ করা যায় না। তবে এই সংকেত পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবেশগত সংস্পর্শ ও জীবনযাপন নিয়ে আলোচনাকে আবারও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।
সম্মেলনের তথ্যের ইঙ্গিত: পুরুষদের মোট টেস্টোস্টেরনের মাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে
দ্য গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ESHRE-এর বার্ষিক সভায় উপস্থাপিত একটি সম্মিলিত বিশ্লেষণে গবেষকেরা 6টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা সংকলন করেন। এসব গবেষণায় 5টি দেশের মোট 118,593 জন পুরুষ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং সময়কাল ছিল 1972 থেকে 2019 পর্যন্ত। বিশ্লেষণের ফলাফলে ইঙ্গিত মেলে, প্রায় 50 বছরজুড়ে পুরুষদের গড় মোট টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।
টেস্টোস্টেরন পুরুষদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌন হরমোন এবং এটি যৌন বিকাশ, যৌনক্রিয়া, কঙ্কালের পেশি বজায় রাখা ও প্রজননকার্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তবে মনে রাখা দরকার, টেস্টোস্টেরনের মাত্রার পরিবর্তনকে সরলভাবে উর্বরতার পরিবর্তনের সমতুল্য ধরা যায় না এবং কোনো ব্যক্তির বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি নির্ধারণে এই একক সূচকই যথেষ্ট নয়। তবু জনসংখ্যাগত পর্যায়ে এমন দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা প্রজননচিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য—উভয় ক্ষেত্রেরই অব্যাহত মনোযোগের দাবি রাখে।
এই গবেষণার ফলাফলের অর্থ কী
প্রজননচিকিৎসার ক্ষেত্রে এ ধরনের গবেষণার প্রথম গুরুত্ব হলো, উর্বরতা মূল্যায়নে “পুরুষজনিত কারণ”কে যেন অবহেলা না করা হয়, সে কথা মনে করিয়ে দেওয়া। অতীতে বন্ধ্যত্ব নিয়ে আলোচনায় নারীর বয়স, ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা ও ভ্রূণের গুণমানের মতো বিষয় বেশি গুরুত্ব পেত; অন্যদিকে পুরুষের অন্তঃস্রাবীয় অবস্থা, বীর্যের গুণমান, পরিবেশগত সংস্পর্শ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে প্রায়ই কম গুরুত্ব দেওয়া হতো।
পরবর্তী গবেষণায় একই ধরনের প্রবণতার সমর্থন মিললে, চিকিৎসাক্ষেত্রে পুরুষের উর্বরতা আরও আগে ও সুশৃঙ্খলভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে থাকবে বীর্য পরীক্ষা, অন্তঃস্রাবীয় পরীক্ষা এবং স্থূলতা, বিপাকীয় অস্বাভাবিকতা, ধূমপান, অপর্যাপ্ত ঘুম ও পেশাগত সংস্পর্শের মতো ঝুঁকির কারণ শনাক্ত করা।
গবেষণার পদ্ধতি ও সীমাবদ্ধতা—দুটিই স্পষ্টভাবে বোঝা জরুরি
এ ধরনের সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্যের সংবাদমূল্য আছে, তবে এর ব্যাখ্যায় সংযত থাকা দরকার। প্রথমত, প্রতিবেদনে সম্মেলনে উপস্থাপিত একটি সম্মিলিত বিশ্লেষণের উল্লেখ করা হয়েছে; এটি সম্পূর্ণ সহকর্মী-পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাওয়া এবং সব বিস্তারিত প্রকাশ করা কোনো আনুষ্ঠানিক গবেষণাপত্রের সমতুল্য নয়। দ্বিতীয়ত, গবেষণাটিতে বড় নমুনা ও দীর্ঘ সময়কাল থাকলেও বিভিন্ন যুগ ও দেশের পরীক্ষার পদ্ধতি, অন্তর্ভুক্ত জনসংখ্যার গঠন এবং স্বাস্থ্যগত পটভূমি পুরোপুরি একরকম নয়। এসব বিষয় ফলাফলের তুলনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এ থেকে এখনই নিশ্চিত কারণ-সম্পর্কের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশদূষণ, অন্তঃস্রাব-বিঘ্নকারী রাসায়নিকের সংস্পর্শ, জীবনযাপনের পরিবর্তন এবং বিপাকীয় রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝাকে গবেষক ও বিশেষজ্ঞেরা সম্ভাব্য সম্পর্কিত সূত্র হিসেবে দেখছেন; তবে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো বিভ্রান্তিকারী বিষয়গুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। তাই আরও সতর্কভাবে বলা যায়: বিদ্যমান তথ্য ইঙ্গিত করে যে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সূচকগুলোতে উদ্বেগের যোগ্য দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, কিন্তু এর নির্দিষ্ট চালিকাশক্তি জানতে আরও গবেষণা দরকার।
সাধারণ পাঠক ও সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনাকারীদের জন্য ব্যবহারিক গুরুত্ব
সাধারণ পুরুষদের জন্য এ ধরনের প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উদ্বেগ তৈরি করা নয়, বরং পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যকে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অংশ হিসেবে দেখা। নিয়মিত জীবনযাপন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও মদ্যপান কমানো, অতিরিক্ত তাপ ও ক্ষতিকর সংস্পর্শ এড়ানো এবং বিপাকীয় অস্বাভাবিকতা ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা—এসব ব্যবস্থা শুধু উর্বরতার সঙ্গে নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
যেসব পরিবার বর্তমানে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তারা নির্দিষ্ট সময় চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণে সফল না হলে, অথবা বীর্যের অস্বাভাবিকতা, যৌন হরমোনের অস্বাভাবিকতা, অণ্ডকোষের রোগের ইতিহাস কিংবা ক্যানসারের চিকিৎসার ইতিহাস থাকলে, পুরুষ সঙ্গীর যত দ্রুত সম্ভব মানসম্মত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যাওয়া উচিত। পরীক্ষা ও চিকিৎসার পুরো দায়ভার শুধু নারী সঙ্গীর ওপর দেওয়া উচিত নয়।
পটভূমির কথা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুক্রাণুর সংখ্যা, বীর্যের গুণমান, বয়ঃসন্ধি শুরু হওয়ার সময় এবং পুরুষের হরমোনের মাত্রার পরিবর্তন নিয়ে একের পর এক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে; জনসাধারণের মনোযোগও বেড়েছে। তবে প্রজননচিকিৎসা মহলের সাধারণ মত হলো, প্রকৃত প্রবণতা নির্ধারণে এ ধরনের বিষয়কে উচ্চমানের, দীর্ঘমেয়াদি ও পুনরুৎপাদনযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিচার করতে হবে—এগুলোকে খাটোও করা যাবে না, আবার অনিশ্চিত ঘটনাকে নিশ্চিত সংকটে পরিণত করাও উচিত নয়।
এই অর্থে, এই প্রতিবেদনের মূল্য কোনো সরল সিদ্ধান্ত দেওয়ায় নয়; বরং জনসাধারণ ও চিকিৎসাক্ষেত্রকে আবারও মনে করিয়ে দেওয়ায় যে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
সংবাদের সূত্র:
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত