অণ্ডকোষে গুটি হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে—নিরীহ অবস্থা থেকে শুরু করে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার পর্যন্ত। বেশিরভাগ গুটি ক্ষতিকর নয়, তবে নতুন কোনো গুটি দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দ্রুত রোগনির্ণয় এবং পরবর্তী স্বাস্থ্যসমস্যা প্রতিরোধের জন্য উপসর্গ, কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
অণ্ডকোষে গুটি হওয়ার সাধারণ কারণ
অণ্ডকোষ বা এপিডিডাইমিসে গুটি হওয়ার সাধারণ কারণগুলো হলো:
অণ্ডকোষের ক্যানসার: অণ্ডকোষের ভেতরে অস্বাভাবিক টিস্যুসমৃদ্ধ টিউমার থাকলে গুটি দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ অণ্ডকোষের টিউমারে ব্যথা থাকে না, তবে কিছু রোগীর গুটির চারপাশে ফোলা ও ব্যথা হয়।
এপিডিডাইমাইটিস: “আইটিস” দিয়ে শেষ হওয়া রোগের নাম সাধারণত প্রদাহ বোঝায়। এপিডিডাইমাইটিস হলো এপিডিডাইমিসের প্রদাহ—অণ্ডকোষের পেছনে থাকা সেই গঠন, যেখানে শুক্রাণু সঞ্চিত ও পরিবাহিত হয়। এতে ব্যথাযুক্ত গুটি হতে পারে।
স্পার্মাটোসিল: স্পার্মাটোসিল এপিডিডাইমিসে হওয়া একটি সাধারণ গুটি। এটি সাধারণত অণ্ডকোষের ওপরের দিকে থাকা ব্যথাহীন, নিরীহ ও তরলভর্তি গুটি।
হাইড্রোসিল: অণ্ডকোষের চারপাশের পর্দার মাঝখানে তরল জমলে হাইড্রোসিল হয়। শিশুর ক্ষেত্রে পেট ও অণ্ডথলির মধ্যকার খোলা পথ পুরোপুরি বন্ধ না হলে এটি হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ বা আঘাতের পর, কিংবা অণ্ডকোষের চারপাশে তরল তৈরি ও শোষণের ভারসাম্যহীনতার কারণে এটি হতে পারে।
ভ্যারিকোসিল: ভ্যারিকোসিল সাধারণত বাম দিকে হয়। অণ্ডকোষ থেকে রক্ত নিষ্কাশনকারী রক্তনালিগুলো প্রসারিত হলে এটি তৈরি হয় এবং প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
অণ্ডকোষে প্যাঁচ লাগা: অণ্ডকোষ বা শুক্রবাহী রজ্জু পেঁচিয়ে গেলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে তীব্র ব্যথা হয়। দ্রুত চিকিৎসা না হলে অণ্ডকোষের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে।
অণ্ডকোষে গুটি হওয়ার উপসর্গ
উপসর্গ বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন:
অণ্ডকোষের কাছে অস্বাভাবিক গুটি
কোমরের নিচে, পেটে বা কুঁচকিতে ব্যথা
অণ্ডথলিতে ভারী ভাব বা মৃদু ব্যথা
হঠাৎ তীব্র ব্যথা
ফোলা বা লালচে ভাব
বমি বা বমি বমি ভাব
ফোলা, স্পর্শকাতর বা শক্ত অণ্ডকোষ
সংক্রমণের কারণে গুটি হলে প্রস্রাবে রক্ত বা পুঁজ, জ্বর এবং ঘন ঘন প্রস্রাবও হতে পারে।
কমবয়সীদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষে প্রভাব ফেলা রোগগুলো বয়ঃসন্ধি বিলম্বিত করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
অণ্ডকোষের গুটি নির্ণয়
রোগী অণ্ডকোষে গুটি পাওয়ার পর চিকিৎসক রোগের ইতিহাস পর্যালোচনা করবেন এবং কারণ নির্ধারণে নিচের পরীক্ষাগুলো করতে পারেন:
রক্ত বা প্রস্রাব পরীক্ষা: এসব পরীক্ষায় সংক্রমণ বা ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের লক্ষণ শনাক্ত করা যায়।
শারীরিক পরীক্ষা: গুটির ভেতরের উপাদান ও দৃঢ়তা বোঝার জন্য চিকিৎসক সেটি স্পর্শ করে পরীক্ষা করেন।
ট্রান্সইলুমিনেশন: গুটির অবস্থান ও আকার নির্ধারণের জন্য অণ্ডকোষের মধ্য দিয়ে উজ্জ্বল আলো ফেলা হয়।
ইমেজিং: আল্ট্রাসাউন্ড গুটির অবস্থান আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে এবং ক্যানসার বা হার্নিয়ার মতো অন্যান্য অবস্থা বাদ দিতে সাহায্য করে।
অণ্ডকোষের গুটির চিকিৎসা
চিকিৎসা মূল কারণের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে:
অ্যান্টিবায়োটিক: সংক্রমণের কারণে হওয়া গুটির চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
অস্ত্রোপচার: গুটি থেকে তরল বের করা বা গুটি অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।
অর্কিয়েকটমি: অণ্ডকোষের ক্যানসারে আক্রান্ত অণ্ডকোষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করতে হতে পারে।
হার্নিয়ার চিকিৎসা: হার্নিয়ার কারণে গুটি হলে বেরিয়ে আসা টিস্যু যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
কখন চিকিৎসা নেবেন
হঠাৎ অণ্ডকোষে গুটি দেখা দিলে বা আগে থাকা গুটিতে ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। সময়মতো চিকিৎসা স্থায়ী অণ্ডকোষের ক্ষতি প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। ফোলা না থাকলেও ব্যথাহীন গুটি পরীক্ষা করানো উচিত।
উপসংহার
বেশিরভাগ অণ্ডকোষের গুটি নিরীহ হলেও এগুলো অণ্ডকোষের কার্যক্ষমতা ও প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। উপসর্গ, কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানা এবং নিয়মিত নিজে পরীক্ষা করা পুরুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আরও সমস্যা প্রতিরোধে যেকোনো অস্বাভাবিকতা দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।
গাইড | অণ্ডকোষে গাঁট পাওয়ার পর যা জানা জরুরি
গাইড | অণ্ডকোষে গুটি পাওয়ার পর যা জানা জরুরি
অণ্ডকোষে গুটি হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে—নিরীহ অবস্থা থেকে শুরু করে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার পর্যন্ত। বেশিরভাগ গুটি ক্ষতিকর নয়, তবে নতুন কোনো গুটি দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দ্রুত রোগনির্ণয় এবং পরবর্তী স্বাস্থ্যসমস্যা প্রতিরোধের জন্য উপসর্গ, কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
অণ্ডকোষে গুটি হওয়ার সাধারণ কারণ
অণ্ডকোষ বা এপিডিডাইমিসে গুটি হওয়ার সাধারণ কারণগুলো হলো:
অণ্ডকোষের ক্যানসার: অণ্ডকোষের ভেতরে অস্বাভাবিক টিস্যুসমৃদ্ধ টিউমার থাকলে গুটি দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ অণ্ডকোষের টিউমারে ব্যথা থাকে না, তবে কিছু রোগীর গুটির চারপাশে ফোলা ও ব্যথা হয়।
এপিডিডাইমাইটিস: “আইটিস” দিয়ে শেষ হওয়া রোগের নাম সাধারণত প্রদাহ বোঝায়। এপিডিডাইমাইটিস হলো এপিডিডাইমিসের প্রদাহ—অণ্ডকোষের পেছনে থাকা সেই গঠন, যেখানে শুক্রাণু সঞ্চিত ও পরিবাহিত হয়। এতে ব্যথাযুক্ত গুটি হতে পারে।
স্পার্মাটোসিল: স্পার্মাটোসিল এপিডিডাইমিসে হওয়া একটি সাধারণ গুটি। এটি সাধারণত অণ্ডকোষের ওপরের দিকে থাকা ব্যথাহীন, নিরীহ ও তরলভর্তি গুটি।
হাইড্রোসিল: অণ্ডকোষের চারপাশের পর্দার মাঝখানে তরল জমলে হাইড্রোসিল হয়। শিশুর ক্ষেত্রে পেট ও অণ্ডথলির মধ্যকার খোলা পথ পুরোপুরি বন্ধ না হলে এটি হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ বা আঘাতের পর, কিংবা অণ্ডকোষের চারপাশে তরল তৈরি ও শোষণের ভারসাম্যহীনতার কারণে এটি হতে পারে।
ভ্যারিকোসিল: ভ্যারিকোসিল সাধারণত বাম দিকে হয়। অণ্ডকোষ থেকে রক্ত নিষ্কাশনকারী রক্তনালিগুলো প্রসারিত হলে এটি তৈরি হয় এবং প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
অণ্ডকোষে প্যাঁচ লাগা: অণ্ডকোষ বা শুক্রবাহী রজ্জু পেঁচিয়ে গেলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে তীব্র ব্যথা হয়। দ্রুত চিকিৎসা না হলে অণ্ডকোষের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে।
অণ্ডকোষে গুটি হওয়ার উপসর্গ
উপসর্গ বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন:
অণ্ডকোষের কাছে অস্বাভাবিক গুটি
কোমরের নিচে, পেটে বা কুঁচকিতে ব্যথা
অণ্ডথলিতে ভারী ভাব বা মৃদু ব্যথা
হঠাৎ তীব্র ব্যথা
ফোলা বা লালচে ভাব
বমি বা বমি বমি ভাব
ফোলা, স্পর্শকাতর বা শক্ত অণ্ডকোষ
সংক্রমণের কারণে গুটি হলে প্রস্রাবে রক্ত বা পুঁজ, জ্বর এবং ঘন ঘন প্রস্রাবও হতে পারে।
কমবয়সীদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষে প্রভাব ফেলা রোগগুলো বয়ঃসন্ধি বিলম্বিত করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
অণ্ডকোষের গুটি নির্ণয়
রোগী অণ্ডকোষে গুটি পাওয়ার পর চিকিৎসক রোগের ইতিহাস পর্যালোচনা করবেন এবং কারণ নির্ধারণে নিচের পরীক্ষাগুলো করতে পারেন:
রক্ত বা প্রস্রাব পরীক্ষা: এসব পরীক্ষায় সংক্রমণ বা ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের লক্ষণ শনাক্ত করা যায়।
শারীরিক পরীক্ষা: গুটির ভেতরের উপাদান ও দৃঢ়তা বোঝার জন্য চিকিৎসক সেটি স্পর্শ করে পরীক্ষা করেন।
ট্রান্সইলুমিনেশন: গুটির অবস্থান ও আকার নির্ধারণের জন্য অণ্ডকোষের মধ্য দিয়ে উজ্জ্বল আলো ফেলা হয়।
ইমেজিং: আল্ট্রাসাউন্ড গুটির অবস্থান আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে এবং ক্যানসার বা হার্নিয়ার মতো অন্যান্য অবস্থা বাদ দিতে সাহায্য করে।
অণ্ডকোষের গুটির চিকিৎসা
চিকিৎসা মূল কারণের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে:
অ্যান্টিবায়োটিক: সংক্রমণের কারণে হওয়া গুটির চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
অস্ত্রোপচার: গুটি থেকে তরল বের করা বা গুটি অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।
অর্কিয়েকটমি: অণ্ডকোষের ক্যানসারে আক্রান্ত অণ্ডকোষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করতে হতে পারে।
হার্নিয়ার চিকিৎসা: হার্নিয়ার কারণে গুটি হলে বেরিয়ে আসা টিস্যু যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
কখন চিকিৎসা নেবেন
হঠাৎ অণ্ডকোষে গুটি দেখা দিলে বা আগে থাকা গুটিতে ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। সময়মতো চিকিৎসা স্থায়ী অণ্ডকোষের ক্ষতি প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। ফোলা না থাকলেও ব্যথাহীন গুটি পরীক্ষা করানো উচিত।
উপসংহার
বেশিরভাগ অণ্ডকোষের গুটি নিরীহ হলেও এগুলো অণ্ডকোষের কার্যক্ষমতা ও প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। উপসর্গ, কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানা এবং নিয়মিত নিজে পরীক্ষা করা পুরুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আরও সমস্যা প্রতিরোধে যেকোনো অস্বাভাবিকতা দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।
উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত