সংবাদ | যমজ সন্তানের মায়েরা কি বেশি উর্বর? নতুন গবেষণায় প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ!
আগের গবেষণাগুলোতে প্রায়ই বলা হতো, যমজ সন্তানের মায়েরা অন্য নারীদের তুলনায় বেশি উর্বর—এমনকি তাঁদের "সুপারমাদার"ও বলা হতো। তবে একটি নতুন আন্তর্জাতিক গবেষণা এই দীর্ঘদিনের ধারণা বদলে দিয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যমজ সন্তানের মায়েদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি নয়। বরং বেশি বার গর্ভধারণের ফলে তাঁদের যমজ সন্তান হওয়ার সুযোগও বেশি হয়। অর্থাৎ তাঁরা "অতি-উর্বর" নন; তাঁদের শুধু "জেতার" সুযোগ বেশি।
গবেষণার তথ্য: 100,000 বছরের ঐতিহাসিক জন্মনথি পরীক্ষা
গবেষক দল Norway, Sweden, Finland, Germany ও Switzerland-এর গির্জার নথি থেকে 100,000টি ঐতিহাসিক ইউরোপীয় জন্মনথি বিশ্লেষণ করেছে; এসব নথি শিল্পায়ন-পূর্ব সমাজের।
সে সময় গর্ভনিরোধ বা সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করতে পারত না, তাই তথ্যগুলো নারীদের স্বাভাবিক উর্বরতাকে আরও নির্ভুলভাবে প্রতিফলিত করে।
মূল ফল হলো, বেশি সন্তান জন্মদানকারী নারীদের যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল—তাঁরা স্বাভাবিকভাবে বেশি উর্বর বলে নয়, বরং তাঁদের সুযোগ বেশি ছিল বলে। এটি লটারির টিকিট কেনার মতো: যত বেশি বার কিনবেন, জেতার সম্ভাবনা তত বাড়বে।
যমজ সন্তানের বিবর্তনীয় ধাঁধা: প্রাকৃতিক নির্বাচন যমজ জন্মকে বিলুপ্ত করেনি কেন?
বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যমজ জন্ম মা ও শিশুর জন্য বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং মায়ের শরীরে অতিরিক্ত চাপ ফেলে। তাই গবেষকেরা প্রশ্ন করেন: যমজ সন্তান হলে প্রজননঝুঁকি বাড়ে, তাহলে প্রাকৃতিক নির্বাচন যমজ জন্মকে বিলুপ্ত করেনি কেন?
তাঁরা দুটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
যমজ জন্ম একটি বিবর্তনীয় "ক্ষতিপূরণমূলক প্রক্রিয়া" হতে পারে। নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে; একই সময়ে দুটি ডিম্বাণু নিঃসরণ সফল গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে এবং গর্ভপাতের কারণে হারানো প্রজননসুযোগ কিছুটা পূরণ করতে পারে।
যমজ সন্তানের মায়েদের মোট গর্ভধারণের সংখ্যা কম হতে পারে, কিন্তু তাঁদের সন্তানের সংখ্যা বেশি হতে পারে। যমজ জন্মে একটি অতিরিক্ত সন্তান যুক্ত হয়; তাই শিশুর বেঁচে থাকার হার বেশি হলে এই প্রজননধারা পরিবার টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
তথ্য বিশ্লেষণের ফাঁদ: দীর্ঘদিনের পরিসংখ্যানগত ভুল
আগের গবেষণাগুলো কেন সিদ্ধান্তে এসেছিল যে যমজ সন্তানের মায়েরা সহজে গর্ভধারণ করেন? নতুন গবেষণা বলছে, আগের পরিসংখ্যানগত পদ্ধতিগুলো কারণ ও ফলকে গুলিয়ে ফেলেছিল।
Leibniz Institute for Zoo and Wildlife Research-এর প্রধান গবেষক Dr. Alexandre Courtiol ব্যাখ্যা করেন:
"আগের গবেষণার সমস্যা ছিল, যমজ সন্তানের মায়েরা বেশি উর্বর কি না, নাকি বেশি বার সন্তান জন্মদানের ফলে তাঁদের যমজ হওয়ার সুযোগই শুধু বেড়েছে—তা তারা আলাদা করতে পারেনি।"
নতুন গবেষণায় দীর্ঘদিনের পরিচিত "Simpson's Paradox" এড়াতে আরও উন্নত পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে—অর্থাৎ প্রকৃত কারণ-সম্পর্ক উপেক্ষা করে ভুলভাবে পরিসংখ্যানগত সম্পর্ককে কারণ হিসেবে দেখানো।
শেষ পর্যন্ত গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান জন্মদানের সংখ্যা হিসাব করার পর যমজ সন্তানের মায়েরা আসলে অন্য নারীদের তুলনায় কম উর্বর, বেশি নয়।
চিকিৎসাগত গুরুত্ব: উর্বরতা ও যমজ সন্তানের সম্পর্ক নতুনভাবে ভাবা
এই ফলের গুরুত্ব академিক গবেষণার বাইরেও রয়েছে। উর্বরতার পার্থক্য বিশ্লেষণে চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা দীর্ঘদিন যমজ সন্তানের মায়েদের সঙ্গে অন্য নারীদের তুলনা করেছে।
তবে University of Exeter-এর Dr. Erik Postma উল্লেখ করেন:
"এই গবেষণাপদ্ধতিতে গুরুতর সমস্যা আছে, কারণ এটি নারীর উর্বরতায় কোন বিষয়গুলো সত্যিই প্রভাব ফেলে তা নির্ভুলভাবে আলাদা করতে পারে না।"
এর অর্থ, যমজ সন্তানের মায়েদের তথ্যের ভিত্তিতে নারীর উর্বরতা নিয়ে আগের চিকিৎসা গবেষণাগুলো ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে থাকতে পারে। ভবিষ্যৎ গবেষণায় উর্বরতার চিহ্ন হিসেবে যমজ হওয়াকে সরলভাবে না দেখে যমজ হওয়ার স্বাভাবিক সম্ভাবনা আরও নির্ভুলভাবে হিসাব করতে হবে।
অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা
এই গবেষণা প্রচলিত অনেক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করলেও বিজ্ঞানীরা মনে করেন, যমজ হওয়ার রহস্য পুরোপুরি বোঝা এখনও অনেক বাকি।
গবেষণার সহলেখক University of Turku-এর Professor Virpi Lummaa বলেন:
"যমজ জন্মের হারকে প্রভাবিত করে এমন প্রতিটি বিষয় আমরা এখনও বুঝতে পারিনি। তবে এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, যমজ জন্ম কোনো বিবর্তনীয় ভুল নয়; বরং এটি একটি প্রজনন কৌশল হতে পারে।"
Norwegian University of Science and Technology-এর জ্যেষ্ঠ জীববিজ্ঞান গবেষক Dr. Gine Roll Skjærvø যোগ করেন:
"যমজ জন্ম শুধু উর্বরতার বিষয় নয়; এটি শারীরবৃত্তীয়, বিবর্তনীয় ও পরিসংখ্যানগত বিষয়জড়িত আরও জটিল একটি জৈবিক ঘটনা।"
উপসংহার: "সুপারমাদার" ধারণা দূর করে যমজ সন্তান নিয়ে বিজ্ঞানকে নতুনভাবে দেখা
যমজ সন্তানের মায়েরা বেশি উর্বর নন। বরং বেশি বার সন্তান জন্মদানের ফলে তাঁদের যমজ সন্তান হওয়ার সুযোগ বেশি হয়। এই ফল আগের ধারণাকে বদলে দেয় এবং মনে করিয়ে দেয়, সম্পর্ককে কারণ হিসেবে ভুল না ধরে চিকিৎসা ও বিবর্তনীয় তথ্য সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করতে হবে।
যমজ জন্মের সম্পূর্ণ জীববিজ্ঞান উন্মোচনে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
সংবাদ | যমজ সন্তানের মায়েরা কি বেশি উর্বর? নতুন গবেষণায় প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ
সংবাদ | যমজ সন্তানের মায়েরা কি বেশি উর্বর? নতুন গবেষণায় প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ!
আগের গবেষণাগুলোতে প্রায়ই বলা হতো, যমজ সন্তানের মায়েরা অন্য নারীদের তুলনায় বেশি উর্বর—এমনকি তাঁদের "সুপারমাদার"ও বলা হতো। তবে একটি নতুন আন্তর্জাতিক গবেষণা এই দীর্ঘদিনের ধারণা বদলে দিয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যমজ সন্তানের মায়েদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি নয়। বরং বেশি বার গর্ভধারণের ফলে তাঁদের যমজ সন্তান হওয়ার সুযোগও বেশি হয়। অর্থাৎ তাঁরা "অতি-উর্বর" নন; তাঁদের শুধু "জেতার" সুযোগ বেশি।
গবেষণার তথ্য: 100,000 বছরের ঐতিহাসিক জন্মনথি পরীক্ষা
গবেষক দল Norway, Sweden, Finland, Germany ও Switzerland-এর গির্জার নথি থেকে 100,000টি ঐতিহাসিক ইউরোপীয় জন্মনথি বিশ্লেষণ করেছে; এসব নথি শিল্পায়ন-পূর্ব সমাজের।
সে সময় গর্ভনিরোধ বা সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করতে পারত না, তাই তথ্যগুলো নারীদের স্বাভাবিক উর্বরতাকে আরও নির্ভুলভাবে প্রতিফলিত করে।
মূল ফল হলো, বেশি সন্তান জন্মদানকারী নারীদের যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল—তাঁরা স্বাভাবিকভাবে বেশি উর্বর বলে নয়, বরং তাঁদের সুযোগ বেশি ছিল বলে। এটি লটারির টিকিট কেনার মতো: যত বেশি বার কিনবেন, জেতার সম্ভাবনা তত বাড়বে।
যমজ সন্তানের বিবর্তনীয় ধাঁধা: প্রাকৃতিক নির্বাচন যমজ জন্মকে বিলুপ্ত করেনি কেন?
বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যমজ জন্ম মা ও শিশুর জন্য বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং মায়ের শরীরে অতিরিক্ত চাপ ফেলে। তাই গবেষকেরা প্রশ্ন করেন: যমজ সন্তান হলে প্রজননঝুঁকি বাড়ে, তাহলে প্রাকৃতিক নির্বাচন যমজ জন্মকে বিলুপ্ত করেনি কেন?
তাঁরা দুটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
যমজ জন্ম একটি বিবর্তনীয় "ক্ষতিপূরণমূলক প্রক্রিয়া" হতে পারে। নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে; একই সময়ে দুটি ডিম্বাণু নিঃসরণ সফল গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে এবং গর্ভপাতের কারণে হারানো প্রজননসুযোগ কিছুটা পূরণ করতে পারে।
যমজ সন্তানের মায়েদের মোট গর্ভধারণের সংখ্যা কম হতে পারে, কিন্তু তাঁদের সন্তানের সংখ্যা বেশি হতে পারে। যমজ জন্মে একটি অতিরিক্ত সন্তান যুক্ত হয়; তাই শিশুর বেঁচে থাকার হার বেশি হলে এই প্রজননধারা পরিবার টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
তথ্য বিশ্লেষণের ফাঁদ: দীর্ঘদিনের পরিসংখ্যানগত ভুল
আগের গবেষণাগুলো কেন সিদ্ধান্তে এসেছিল যে যমজ সন্তানের মায়েরা সহজে গর্ভধারণ করেন? নতুন গবেষণা বলছে, আগের পরিসংখ্যানগত পদ্ধতিগুলো কারণ ও ফলকে গুলিয়ে ফেলেছিল।
Leibniz Institute for Zoo and Wildlife Research-এর প্রধান গবেষক Dr. Alexandre Courtiol ব্যাখ্যা করেন:
"আগের গবেষণার সমস্যা ছিল, যমজ সন্তানের মায়েরা বেশি উর্বর কি না, নাকি বেশি বার সন্তান জন্মদানের ফলে তাঁদের যমজ হওয়ার সুযোগই শুধু বেড়েছে—তা তারা আলাদা করতে পারেনি।"
নতুন গবেষণায় দীর্ঘদিনের পরিচিত "Simpson's Paradox" এড়াতে আরও উন্নত পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে—অর্থাৎ প্রকৃত কারণ-সম্পর্ক উপেক্ষা করে ভুলভাবে পরিসংখ্যানগত সম্পর্ককে কারণ হিসেবে দেখানো।
শেষ পর্যন্ত গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান জন্মদানের সংখ্যা হিসাব করার পর যমজ সন্তানের মায়েরা আসলে অন্য নারীদের তুলনায় কম উর্বর, বেশি নয়।
চিকিৎসাগত গুরুত্ব: উর্বরতা ও যমজ সন্তানের সম্পর্ক নতুনভাবে ভাবা
এই ফলের গুরুত্ব академিক গবেষণার বাইরেও রয়েছে। উর্বরতার পার্থক্য বিশ্লেষণে চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা দীর্ঘদিন যমজ সন্তানের মায়েদের সঙ্গে অন্য নারীদের তুলনা করেছে।
তবে University of Exeter-এর Dr. Erik Postma উল্লেখ করেন:
"এই গবেষণাপদ্ধতিতে গুরুতর সমস্যা আছে, কারণ এটি নারীর উর্বরতায় কোন বিষয়গুলো সত্যিই প্রভাব ফেলে তা নির্ভুলভাবে আলাদা করতে পারে না।"
এর অর্থ, যমজ সন্তানের মায়েদের তথ্যের ভিত্তিতে নারীর উর্বরতা নিয়ে আগের চিকিৎসা গবেষণাগুলো ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে থাকতে পারে। ভবিষ্যৎ গবেষণায় উর্বরতার চিহ্ন হিসেবে যমজ হওয়াকে সরলভাবে না দেখে যমজ হওয়ার স্বাভাবিক সম্ভাবনা আরও নির্ভুলভাবে হিসাব করতে হবে।
অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা
এই গবেষণা প্রচলিত অনেক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করলেও বিজ্ঞানীরা মনে করেন, যমজ হওয়ার রহস্য পুরোপুরি বোঝা এখনও অনেক বাকি।
গবেষণার সহলেখক University of Turku-এর Professor Virpi Lummaa বলেন:
"যমজ জন্মের হারকে প্রভাবিত করে এমন প্রতিটি বিষয় আমরা এখনও বুঝতে পারিনি। তবে এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, যমজ জন্ম কোনো বিবর্তনীয় ভুল নয়; বরং এটি একটি প্রজনন কৌশল হতে পারে।"
Norwegian University of Science and Technology-এর জ্যেষ্ঠ জীববিজ্ঞান গবেষক Dr. Gine Roll Skjærvø যোগ করেন:
"যমজ জন্ম শুধু উর্বরতার বিষয় নয়; এটি শারীরবৃত্তীয়, বিবর্তনীয় ও পরিসংখ্যানগত বিষয়জড়িত আরও জটিল একটি জৈবিক ঘটনা।"
উপসংহার: "সুপারমাদার" ধারণা দূর করে যমজ সন্তান নিয়ে বিজ্ঞানকে নতুনভাবে দেখা
যমজ সন্তানের মায়েরা বেশি উর্বর নন। বরং বেশি বার সন্তান জন্মদানের ফলে তাঁদের যমজ সন্তান হওয়ার সুযোগ বেশি হয়। এই ফল আগের ধারণাকে বদলে দেয় এবং মনে করিয়ে দেয়, সম্পর্ককে কারণ হিসেবে ভুল না ধরে চিকিৎসা ও বিবর্তনীয় তথ্য সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করতে হবে।
যমজ জন্মের সম্পূর্ণ জীববিজ্ঞান উন্মোচনে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
গল্পের উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত