গাইড | আপনি কি গর্ভবতী হতে পারেন? এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপেক্ষা করবেন না
সম্প্রতি কি আপনার মনে হচ্ছে কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে? আপনি যদি ভাবেন যে আপনি গর্ভবতী হতে পারেন, তাহলে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করার আগেই আপনার শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে হরমোনের পরিবর্তনে বেশ কিছু সাধারণ কিন্তু সহজে উপেক্ষিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
গর্ভাবস্থার একেবারে শুরুর লক্ষণ: শুধু গর্ভাবস্থা পরীক্ষা নয়
শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করার পর নিষিক্ত ডিম্বাণু 6 থেকে 12 দিনের মধ্যে জরায়ুর আস্তরণে প্রতিস্থাপিত হয়। প্রতিস্থাপনের সময়ই গর্ভাবস্থা শুরু হয়। প্রাথমিক উপসর্গের কারণ মানব কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন (hCG), যাকে প্রায়ই গর্ভাবস্থার হরমোন বলা হয়, এবং অন্যান্য হরমোনগত পরিবর্তন।
WebMD গর্ভাবস্থার শুরুর দিকের এই সাধারণ উপসর্গগুলো উল্লেখ করেছে:
1. রক্তপাত ও হালকা খিঁচুনি
প্রতিস্থাপনের ফলে হালকা রক্তপাত হতে পারে, যাকে প্রতিস্থাপনজনিত রক্তপাত বলা হয়; এর সঙ্গে মাসিকের মতো হালকা খিঁচুনি থাকতে পারে। এসব উপসর্গ সাধারণত মাসিকের চেয়ে কম তীব্র হয় এবং আগাম মাসিক বলে ভুল হতে পারে।
2. স্তনে পরিবর্তন
গর্ভাবস্থার শুরুতে স্তনে ঝিনঝিন ভাব, ফোলা বা সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে এবং অ্যারিওলা গাঢ় হতে পারে। হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এসব পরিবর্তন ঘটে।
3. ক্লান্তি
গর্ভাবস্থার শুরুতে অনেক নারী অত্যন্ত ক্লান্ত বোধ করেন। এর সঙ্গে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি, রক্তে শর্করা বা রক্তচাপ কমে যাওয়া, কিংবা রক্তের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে।
4. বমিভাব (“মর্নিং সিকনেস”)
নামটি এমন হলেও, গর্ভাবস্থাজনিত বমিভাব দিনের যেকোনো সময় হতে পারে। সবার হয় না; তবে হলে সাধারণত 13 থেকে 14 সপ্তাহের দিকে কমতে শুরু করে।
5. মাসিক না হওয়া
মাসিক না হওয়া গর্ভাবস্থার শুরুর দিকের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর একটি। তবে ওজনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণেও মাসিক দেরি হতে পারে, তাই শুধু এটির ভিত্তিতে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করা যায় না।
6. শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া
গর্ভাবস্থায় রক্তসঞ্চালন বেড়ে গেলে শরীর বেশি উষ্ণ লাগতে পারে এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে। প্রতি মিনিটে 10-20 বার হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি স্বাভাবিক হতে পারে।
7. ঘন ঘন প্রস্রাব ও প্রস্রাবের লিকেজ
রক্তপ্রবাহ বেড়ে গেলে গর্ভাবস্থার শুরুতেই কিডনির কার্যকলাপ ও প্রস্রাব উৎপাদন বাড়ে। ভ্রূণ বড় হওয়ার সঙ্গে জরায়ুর চাপ মূত্রথলিতে পড়ে লিকেজ হতে পারে, বিশেষ করে কাশি, হাঁচি বা হাসির সময়।
8. পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্য
প্রোজেস্টেরন অন্ত্রের গতি ধীর করে, আর ফলিক অ্যাসিড ও আয়রনের সাপ্লিমেন্ট কোষ্ঠকাঠিন্যে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রসারিত জরায়ু অন্ত্রের ওপর চাপ দিয়েও পেট ফাঁপাতে পারে।
9. খাবারের পছন্দে পরিবর্তন
কিছু গর্ভবতী নারীর নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা আগে পছন্দের খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হয়। হরমোনের পরিবর্তনে স্বাদের এই বদল ঘটতে পারে।
10. ওজনের পরিবর্তন ও অম্বল
গর্ভাবস্থার শুরুতে ওজনের পরিবর্তন সাধারণত সামান্য হয় (1 থেকে 4 পাউন্ড), তবে পরে ভ্রূণের জন্য শরীরে বেশি চর্বি, রক্ত ও অ্যামনিওটিক তরল জমা হয়। পাকস্থলীর স্ফিঙ্কটার শিথিল হওয়া এবং জরায়ুর চাপের কারণে অম্বল হয়।
11. “গর্ভাবস্থার জেল্লা” বা ব্রণ
কিছু নারীর মুখের ত্বক লালচে ও উজ্জ্বল হয়, আবার তেল উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় কারও ব্রণ হতে পারে। দুটি পরিবর্তন একসঙ্গেও দেখা দিতে পারে।
উপসর্গ সবার ক্ষেত্রে এক নয়
WebMD জানায়, গর্ভাবস্থার শুরুতে প্রত্যেক নারীর এসব উপসর্গ দেখা যায় না। একই নারীর ভিন্ন গর্ভাবস্থায়ও অভিজ্ঞতা একেবারে আলাদা হতে পারে। গর্ভাবস্থার অনেক উপসর্গ মাসিকের আগের উপসর্গের মতো হওয়ায়, পরীক্ষায় ফল পজিটিভ না আসা পর্যন্ত কিছু নারী বুঝতেই পারেন না যে তারা গর্ভবতী।
গর্ভাবস্থার লক্ষণ কখন দেখা দিতে পারে?
গর্ভধারণের 3 দিনের মধ্যে: হালকা রক্তপাত বা খিঁচুনি হতে পারে;
প্রতিস্থাপনের 1 সপ্তাহ পর: স্তন সংবেদনশীল হতে পারে এবং ক্লান্তি শুরু হতে পারে;
প্রত্যাশিত মাসিকের আগে: hCG বাড়ে এবং কারও কারও শরীরে পরিবর্তন অনুভূত হয়।
আপনি গর্ভবতী হতে পারেন বলে মনে হলে, গর্ভাবস্থা পরীক্ষাই সবচেয়ে নির্ভুল পদ্ধতি। গর্ভধারণের 11 দিন পর সাধারণত প্রাথমিক পরীক্ষায় hCG শনাক্ত করা যায়।
গাইড | আপনি কি গর্ভবতী হতে পারেন? এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপেক্ষা করবেন না
গাইড | আপনি কি গর্ভবতী হতে পারেন? এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপেক্ষা করবেন না
সম্প্রতি কি আপনার মনে হচ্ছে কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে? আপনি যদি ভাবেন যে আপনি গর্ভবতী হতে পারেন, তাহলে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করার আগেই আপনার শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে হরমোনের পরিবর্তনে বেশ কিছু সাধারণ কিন্তু সহজে উপেক্ষিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
গর্ভাবস্থার একেবারে শুরুর লক্ষণ: শুধু গর্ভাবস্থা পরীক্ষা নয়
শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করার পর নিষিক্ত ডিম্বাণু 6 থেকে 12 দিনের মধ্যে জরায়ুর আস্তরণে প্রতিস্থাপিত হয়। প্রতিস্থাপনের সময়ই গর্ভাবস্থা শুরু হয়। প্রাথমিক উপসর্গের কারণ মানব কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন (hCG), যাকে প্রায়ই গর্ভাবস্থার হরমোন বলা হয়, এবং অন্যান্য হরমোনগত পরিবর্তন।
WebMD গর্ভাবস্থার শুরুর দিকের এই সাধারণ উপসর্গগুলো উল্লেখ করেছে:
1. রক্তপাত ও হালকা খিঁচুনি
প্রতিস্থাপনের ফলে হালকা রক্তপাত হতে পারে, যাকে প্রতিস্থাপনজনিত রক্তপাত বলা হয়; এর সঙ্গে মাসিকের মতো হালকা খিঁচুনি থাকতে পারে। এসব উপসর্গ সাধারণত মাসিকের চেয়ে কম তীব্র হয় এবং আগাম মাসিক বলে ভুল হতে পারে।
2. স্তনে পরিবর্তন
গর্ভাবস্থার শুরুতে স্তনে ঝিনঝিন ভাব, ফোলা বা সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে এবং অ্যারিওলা গাঢ় হতে পারে। হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এসব পরিবর্তন ঘটে।
3. ক্লান্তি
গর্ভাবস্থার শুরুতে অনেক নারী অত্যন্ত ক্লান্ত বোধ করেন। এর সঙ্গে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি, রক্তে শর্করা বা রক্তচাপ কমে যাওয়া, কিংবা রক্তের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে।
4. বমিভাব (“মর্নিং সিকনেস”)
নামটি এমন হলেও, গর্ভাবস্থাজনিত বমিভাব দিনের যেকোনো সময় হতে পারে। সবার হয় না; তবে হলে সাধারণত 13 থেকে 14 সপ্তাহের দিকে কমতে শুরু করে।
5. মাসিক না হওয়া
মাসিক না হওয়া গর্ভাবস্থার শুরুর দিকের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর একটি। তবে ওজনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণেও মাসিক দেরি হতে পারে, তাই শুধু এটির ভিত্তিতে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করা যায় না।
6. শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া
গর্ভাবস্থায় রক্তসঞ্চালন বেড়ে গেলে শরীর বেশি উষ্ণ লাগতে পারে এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে। প্রতি মিনিটে 10-20 বার হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি স্বাভাবিক হতে পারে।
7. ঘন ঘন প্রস্রাব ও প্রস্রাবের লিকেজ
রক্তপ্রবাহ বেড়ে গেলে গর্ভাবস্থার শুরুতেই কিডনির কার্যকলাপ ও প্রস্রাব উৎপাদন বাড়ে। ভ্রূণ বড় হওয়ার সঙ্গে জরায়ুর চাপ মূত্রথলিতে পড়ে লিকেজ হতে পারে, বিশেষ করে কাশি, হাঁচি বা হাসির সময়।
8. পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্য
প্রোজেস্টেরন অন্ত্রের গতি ধীর করে, আর ফলিক অ্যাসিড ও আয়রনের সাপ্লিমেন্ট কোষ্ঠকাঠিন্যে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রসারিত জরায়ু অন্ত্রের ওপর চাপ দিয়েও পেট ফাঁপাতে পারে।
9. খাবারের পছন্দে পরিবর্তন
কিছু গর্ভবতী নারীর নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা আগে পছন্দের খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হয়। হরমোনের পরিবর্তনে স্বাদের এই বদল ঘটতে পারে।
10. ওজনের পরিবর্তন ও অম্বল
গর্ভাবস্থার শুরুতে ওজনের পরিবর্তন সাধারণত সামান্য হয় (1 থেকে 4 পাউন্ড), তবে পরে ভ্রূণের জন্য শরীরে বেশি চর্বি, রক্ত ও অ্যামনিওটিক তরল জমা হয়। পাকস্থলীর স্ফিঙ্কটার শিথিল হওয়া এবং জরায়ুর চাপের কারণে অম্বল হয়।
11. “গর্ভাবস্থার জেল্লা” বা ব্রণ
কিছু নারীর মুখের ত্বক লালচে ও উজ্জ্বল হয়, আবার তেল উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় কারও ব্রণ হতে পারে। দুটি পরিবর্তন একসঙ্গেও দেখা দিতে পারে।
উপসর্গ সবার ক্ষেত্রে এক নয়
WebMD জানায়, গর্ভাবস্থার শুরুতে প্রত্যেক নারীর এসব উপসর্গ দেখা যায় না। একই নারীর ভিন্ন গর্ভাবস্থায়ও অভিজ্ঞতা একেবারে আলাদা হতে পারে। গর্ভাবস্থার অনেক উপসর্গ মাসিকের আগের উপসর্গের মতো হওয়ায়, পরীক্ষায় ফল পজিটিভ না আসা পর্যন্ত কিছু নারী বুঝতেই পারেন না যে তারা গর্ভবতী।
গর্ভাবস্থার লক্ষণ কখন দেখা দিতে পারে?
গর্ভধারণের 3 দিনের মধ্যে: হালকা রক্তপাত বা খিঁচুনি হতে পারে;
প্রতিস্থাপনের 1 সপ্তাহ পর: স্তন সংবেদনশীল হতে পারে এবং ক্লান্তি শুরু হতে পারে;
প্রত্যাশিত মাসিকের আগে: hCG বাড়ে এবং কারও কারও শরীরে পরিবর্তন অনুভূত হয়।
আপনি গর্ভবতী হতে পারেন বলে মনে হলে, গর্ভাবস্থা পরীক্ষাই সবচেয়ে নির্ভুল পদ্ধতি। গর্ভধারণের 11 দিন পর সাধারণত প্রাথমিক পরীক্ষায় hCG শনাক্ত করা যায়।
উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত