জ্ঞান | অর্কাইটিস উপেক্ষা করা উচিত নয়: চিকিৎসায় দেরি হলে বন্ধ্যত্ব হতে পারে
অর্কাইটিস পুরুষের প্রজননব্যবস্থার একটি সাধারণ রোগ, যাতে সাধারণত সংক্রমণের কারণে একটি বা উভয় অণ্ডকোষে প্রদাহ হয়। রোগীদের প্রায়ই হঠাৎ তীব্র অণ্ডকোষের ব্যথা, লালচে ভাব, ফোলা, জ্বর ও বমি বমি ভাব দেখা দেয়। দ্রুত চিকিৎসা না হলে অর্কাইটিসে অণ্ডকোষ ক্ষয়, ফোড়া, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া এবং প্রজননক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
হঠাৎ অণ্ডকোষে ব্যথা? এই উপসর্গগুলো খেয়াল রাখুন
অর্কাইটিস সাধারণত হঠাৎ শুরু হয়। সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে:
তীব্র অণ্ডকোষের ব্যথা, যা কুঁচকিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে;
অণ্ডকোষ ফুলে যাওয়া, লাল বা বেগুনি রঙের হয়ে যাওয়া এবং ভারী লাগা;
বীর্যে রক্ত;
উচ্চ জ্বর, বমি বমি ভাব ও বমি;
প্রস্রাব বা মলত্যাগের সময় ব্যথা;
যৌনমিলনের সময় ব্যথা ও অস্বস্তি।
কিছু রোগীর লিঙ্গ থেকে বেশি স্রাব বা প্রস্রাবের আগে কিংবা পরে জ্বালাপোড়ার অনুভূতিও হতে পারে। হঠাৎ তীব্র অণ্ডকোষের ব্যথা ও ফোলা অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন আরেকটি গুরুতর অবস্থা।
ব্যাকটেরিয়া নাকি ভাইরাস? বিভিন্ন সংক্রমণে কীভাবে অর্কাইটিস হয়
ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের কারণে অর্কাইটিস হতে পারে। সাধারণ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে রয়েছে Escherichia coli, Staphylococcus aureus এবং Streptococcus। এগুলো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে অণ্ডকোষে পৌঁছাতে পারে, অথবা প্রোস্টেট বা এপিডিডাইমিসের সংক্রমণ থেকে ছড়াতে পারে। একইসঙ্গে প্রোস্টাটাইটিস বা এপিডিডাইমাইটিস থাকলে অর্কাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
19 থেকে 35 বছর বয়সী যৌনভাবে সক্রিয় পুরুষদের মধ্যে যৌনবাহিত রোগ (STDs) একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, বিশেষ করে গনোরিয়া, ক্ল্যামিডিয়া ও সিফিলিস। একাধিক যৌনসঙ্গী, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ বা আগে STD হওয়ার ইতিহাস ঝুঁকি বাড়ায়।
মাম্পসের ভাইরাস অর্কাইটিসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, বিশেষ করে টিকা না নেওয়া ছেলেদের ক্ষেত্রে। গবেষণায় দেখা যায়, মাম্পসে আক্রান্ত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের অর্কাইটিস হয়; গুরুতর ক্ষেত্রে এতে অণ্ডকোষ ক্ষয় এবং স্থায়ী বন্ধ্যত্ব হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যারা মাম্পসের টিকা (MMR vaccine) নেননি;
যাদের ঘন ঘন মূত্রনালির সংক্রমণ (UTIs) হয়;
45 বছরের বেশি বয়সী পুরুষ, যাদের প্রোস্টেটের রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি;
যেসব রোগীর দীর্ঘমেয়াদি ইউরিনারি ক্যাথেটার প্রয়োজন হয়।
অর্কাইটিস কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
অর্কাইটিস নির্ণয় এবং অন্যান্য রোগ বাদ দিতে চিকিৎসক যে পরীক্ষাগুলো করতে পারেন:
অণ্ডকোষের আল্ট্রাসাউন্ড: অর্কাইটিস ও অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়ার পার্থক্য নির্ণয়ে;
ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষা: প্রোস্টেটের সংক্রমণ আছে কি না দেখতে;
মূত্র পরীক্ষা: STD ও অন্যান্য সংক্রমণের জন্য পরীক্ষা করতে;
রক্ত পরীক্ষা: HIV ও সিফিলিসের মতো জীবাণু শনাক্ত করতে।
অর্কাইটিসের চিকিৎসা কী? ওষুধ ও বাড়িতে যত্ন
অর্কাইটিসের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবাণু নির্মূল এবং সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়। সাধারণত চিকিৎসার কোর্স 10 দিন স্থায়ী হয়, তবে একইসঙ্গে প্রোস্টাটাইটিস থাকলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা লাগতে পারে।
মাম্পসের কারণে হওয়া অর্কাইটিসের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তাই চিকিৎসার লক্ষ্য থাকে উপসর্গ কমানো। সাধারণত 1 থেকে 3 সপ্তাহের মধ্যে রোগটি সেরে যায়। চিকিৎসক আরও পরামর্শ দিতে পারেন:
ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসিটামিনোফেনের মতো প্রদাহনাশক ব্যথানাশক;
নড়াচড়ার কারণে হওয়া অস্বস্তি কমাতে সহায়ক অন্তর্বাস বা স্ক্রোটাল সাপোর্ট;
ফোলা ও ব্যথা কমাতে একবারে 15–20 মিনিট করে তোয়ালে মোড়ানো ঠান্ডা সেঁক।
চিকিৎসা চলাকালে STD-তে আক্রান্ত রোগীর যৌনসঙ্গীদেরও চিকিৎসা নিতে হবে। পুনরায় সংক্রমণ ঠেকাতে উপসর্গ পুরোপুরি সেরে না যাওয়া পর্যন্ত যৌনমিলন এড়িয়ে চলুন বা কনডম ব্যবহার করুন।
চিকিৎসা না হলে কী গুরুতর জটিলতা হতে পারে?
চিকিৎসা না করা অর্কাইটিসে হতে পারে:
অণ্ডকোষ ক্ষয়: প্রদাহে অণ্ডকোষ ছোট হয়ে যেতে পারে এবং শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে;
ফোড়া: সংক্রমিত টিস্যুতে স্ক্রোটামে ফোড়া হতে পারে;
টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া: দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে;
বন্ধ্যত্ব: গুরুতর ক্ষেত্রে উভয় অণ্ডকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থায়ী বন্ধ্যত্ব হতে পারে।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন এবং 50 বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের প্রোস্টেটের স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখা উচিত।
চিকিৎসকের পরামর্শ: চিকিৎসায় দেরি করবেন না
চিকিৎসকেরা সতর্ক করেন, দ্রুত চিকিৎসা নিলে আরোগ্যও দ্রুত হয়। তীব্র অণ্ডকোষের ব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব বা বমি হলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিন। চিকিৎসায় দেরি হলে বন্ধ্যত্ব হতে পারে, এমনকি অস্ত্রোপচার করে একটি অণ্ডকোষ অপসারণের প্রয়োজনও হতে পারে। অর্কাইটিস প্রতিরোধে পুরুষদের নিজের স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখা এবং ঝুঁকির কারণ কমানো উচিত।
জ্ঞান | অর্কাইটিস উপেক্ষা করা উচিত নয়: দেরিতে চিকিৎসা করলে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে
জ্ঞান | অর্কাইটিস উপেক্ষা করা উচিত নয়: চিকিৎসায় দেরি হলে বন্ধ্যত্ব হতে পারে
অর্কাইটিস পুরুষের প্রজননব্যবস্থার একটি সাধারণ রোগ, যাতে সাধারণত সংক্রমণের কারণে একটি বা উভয় অণ্ডকোষে প্রদাহ হয়। রোগীদের প্রায়ই হঠাৎ তীব্র অণ্ডকোষের ব্যথা, লালচে ভাব, ফোলা, জ্বর ও বমি বমি ভাব দেখা দেয়। দ্রুত চিকিৎসা না হলে অর্কাইটিসে অণ্ডকোষ ক্ষয়, ফোড়া, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া এবং প্রজননক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
হঠাৎ অণ্ডকোষে ব্যথা? এই উপসর্গগুলো খেয়াল রাখুন
অর্কাইটিস সাধারণত হঠাৎ শুরু হয়। সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে:
তীব্র অণ্ডকোষের ব্যথা, যা কুঁচকিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে;
অণ্ডকোষ ফুলে যাওয়া, লাল বা বেগুনি রঙের হয়ে যাওয়া এবং ভারী লাগা;
বীর্যে রক্ত;
উচ্চ জ্বর, বমি বমি ভাব ও বমি;
প্রস্রাব বা মলত্যাগের সময় ব্যথা;
যৌনমিলনের সময় ব্যথা ও অস্বস্তি।
কিছু রোগীর লিঙ্গ থেকে বেশি স্রাব বা প্রস্রাবের আগে কিংবা পরে জ্বালাপোড়ার অনুভূতিও হতে পারে। হঠাৎ তীব্র অণ্ডকোষের ব্যথা ও ফোলা অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন আরেকটি গুরুতর অবস্থা।
ব্যাকটেরিয়া নাকি ভাইরাস? বিভিন্ন সংক্রমণে কীভাবে অর্কাইটিস হয়
ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের কারণে অর্কাইটিস হতে পারে। সাধারণ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে রয়েছে Escherichia coli, Staphylococcus aureus এবং Streptococcus। এগুলো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে অণ্ডকোষে পৌঁছাতে পারে, অথবা প্রোস্টেট বা এপিডিডাইমিসের সংক্রমণ থেকে ছড়াতে পারে। একইসঙ্গে প্রোস্টাটাইটিস বা এপিডিডাইমাইটিস থাকলে অর্কাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
19 থেকে 35 বছর বয়সী যৌনভাবে সক্রিয় পুরুষদের মধ্যে যৌনবাহিত রোগ (STDs) একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, বিশেষ করে গনোরিয়া, ক্ল্যামিডিয়া ও সিফিলিস। একাধিক যৌনসঙ্গী, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ বা আগে STD হওয়ার ইতিহাস ঝুঁকি বাড়ায়।
মাম্পসের ভাইরাস অর্কাইটিসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, বিশেষ করে টিকা না নেওয়া ছেলেদের ক্ষেত্রে। গবেষণায় দেখা যায়, মাম্পসে আক্রান্ত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের অর্কাইটিস হয়; গুরুতর ক্ষেত্রে এতে অণ্ডকোষ ক্ষয় এবং স্থায়ী বন্ধ্যত্ব হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যারা মাম্পসের টিকা (MMR vaccine) নেননি;
যাদের ঘন ঘন মূত্রনালির সংক্রমণ (UTIs) হয়;
45 বছরের বেশি বয়সী পুরুষ, যাদের প্রোস্টেটের রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি;
যেসব রোগীর দীর্ঘমেয়াদি ইউরিনারি ক্যাথেটার প্রয়োজন হয়।
অর্কাইটিস কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
অর্কাইটিস নির্ণয় এবং অন্যান্য রোগ বাদ দিতে চিকিৎসক যে পরীক্ষাগুলো করতে পারেন:
অণ্ডকোষের আল্ট্রাসাউন্ড: অর্কাইটিস ও অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়ার পার্থক্য নির্ণয়ে;
ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষা: প্রোস্টেটের সংক্রমণ আছে কি না দেখতে;
মূত্র পরীক্ষা: STD ও অন্যান্য সংক্রমণের জন্য পরীক্ষা করতে;
রক্ত পরীক্ষা: HIV ও সিফিলিসের মতো জীবাণু শনাক্ত করতে।
অর্কাইটিসের চিকিৎসা কী? ওষুধ ও বাড়িতে যত্ন
অর্কাইটিসের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবাণু নির্মূল এবং সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়। সাধারণত চিকিৎসার কোর্স 10 দিন স্থায়ী হয়, তবে একইসঙ্গে প্রোস্টাটাইটিস থাকলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা লাগতে পারে।
মাম্পসের কারণে হওয়া অর্কাইটিসের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তাই চিকিৎসার লক্ষ্য থাকে উপসর্গ কমানো। সাধারণত 1 থেকে 3 সপ্তাহের মধ্যে রোগটি সেরে যায়। চিকিৎসক আরও পরামর্শ দিতে পারেন:
ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসিটামিনোফেনের মতো প্রদাহনাশক ব্যথানাশক;
নড়াচড়ার কারণে হওয়া অস্বস্তি কমাতে সহায়ক অন্তর্বাস বা স্ক্রোটাল সাপোর্ট;
ফোলা ও ব্যথা কমাতে একবারে 15–20 মিনিট করে তোয়ালে মোড়ানো ঠান্ডা সেঁক।
চিকিৎসা চলাকালে STD-তে আক্রান্ত রোগীর যৌনসঙ্গীদেরও চিকিৎসা নিতে হবে। পুনরায় সংক্রমণ ঠেকাতে উপসর্গ পুরোপুরি সেরে না যাওয়া পর্যন্ত যৌনমিলন এড়িয়ে চলুন বা কনডম ব্যবহার করুন।
চিকিৎসা না হলে কী গুরুতর জটিলতা হতে পারে?
চিকিৎসা না করা অর্কাইটিসে হতে পারে:
অণ্ডকোষ ক্ষয়: প্রদাহে অণ্ডকোষ ছোট হয়ে যেতে পারে এবং শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে;
ফোড়া: সংক্রমিত টিস্যুতে স্ক্রোটামে ফোড়া হতে পারে;
টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া: দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে;
বন্ধ্যত্ব: গুরুতর ক্ষেত্রে উভয় অণ্ডকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থায়ী বন্ধ্যত্ব হতে পারে।
অর্কাইটিস কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?
STD-এর ঝুঁকি কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ এড়িয়ে চলুন;
যৌনবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে কনডম ব্যবহার করুন;
মাম্পসজনিত অর্কাইটিস প্রতিরোধে MMR vaccine নিন;
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন এবং 50 বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের প্রোস্টেটের স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখা উচিত।
চিকিৎসকের পরামর্শ: চিকিৎসায় দেরি করবেন না
চিকিৎসকেরা সতর্ক করেন, দ্রুত চিকিৎসা নিলে আরোগ্যও দ্রুত হয়। তীব্র অণ্ডকোষের ব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব বা বমি হলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিন। চিকিৎসায় দেরি হলে বন্ধ্যত্ব হতে পারে, এমনকি অস্ত্রোপচার করে একটি অণ্ডকোষ অপসারণের প্রয়োজনও হতে পারে। অর্কাইটিস প্রতিরোধে পুরুষদের নিজের স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখা এবং ঝুঁকির কারণ কমানো উচিত।
গল্পের উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত