গাইড | জন্মনিয়ন্ত্রণ বন্ধ করার কতদিন পর গর্ভধারণ সম্ভব? প্রমাণভিত্তিক নির্দেশিকা
গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে অনেকেই চিন্তা করেন, দীর্ঘদিন গর্ভনিরোধক ব্যবহার করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনায় প্রভাব পড়বে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক গণমাধ্যমে Camille Noe Pagán-এর লেখা এবং Dr. Brunilda Nazario-এর চিকিৎসাবিষয়ক পর্যালোচনা করা El embarazo tras dejar de usar anticonceptivos প্রকাশিত হয়েছে। এই ব্যবহারিক, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রমাণভিত্তিক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ গর্ভনিরোধক পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে নারীর প্রজননক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে না এবং বন্ধ করার কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে সাধারণত গর্ভধারণ সম্ভব।
গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে শরীর থেকে গর্ভনিরোধক হরমোন “ডিটক্স” বা “পরিষ্কার” করার প্রয়োজন নেই—নিবন্ধটি এ বিষয়টি জোর দিয়ে বলেছে। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে গর্ভনিরোধক বন্ধ করার পর স্বাভাবিক ডিম্বস্ফোটন দ্রুত ফিরে আসে এবং কেউ কেউ এক মাসের মধ্যেই গর্ভবতী হতে পারেন। যারা এখনও গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত নন, তারা কনডমের মতো বাধাদানকারী পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।
গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ও গর্ভধারণের সময়সীমা
ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টিনযুক্ত সম্মিলিত মুখে খাওয়ার গর্ভনিরোধক: বন্ধ করার 1 থেকে 3 মাসের মধ্যে অধিকাংশ মানুষের ডিম্বস্ফোটন ফিরে আসে এবং গর্ভধারণ হয়; এক বছরের মধ্যে গর্ভধারণের হার স্বাভাবিক মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এমনকি দীর্ঘমেয়াদি (>4-5 বছর) ব্যবহারকারীদের গর্ভধারণের হার স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারকারীদের তুলনায় কিছুটা বেশি পাওয়া গেছে।
শুধু প্রোজেস্টিনযুক্ত বড়ি (“মিনি-পিল”): কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডিম্বস্ফোটন ফিরে আসতে পারে, কারণ এই বড়িগুলো মূলত ডিম্বস্ফোটন অব্যাহতভাবে দমন করার বদলে জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণের পুরুত্ব বদলে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে।
জরায়ুর ভেতরের গর্ভনিরোধক (IUD): খুলে ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই গর্ভনিরোধক সুরক্ষা শেষ হয়। অধিকাংশ মানুষের 1 মাস পর ডিম্বস্ফোটন হতে পারে এবং সাধারণত 6 থেকে 12 মাসের মধ্যে গর্ভধারণ হয়।
গর্ভনিরোধক ইমপ্ল্যান্ট: IUD-এর মতোই, খুলে ফেলার প্রায় 1 মাস পর ডিম্বস্ফোটন ফিরে আসে।
গর্ভনিরোধক প্যাচ ও যোনিপথের রিং: বন্ধ করার 1 থেকে 3 মাসের মধ্যে সাধারণ চক্র ও ডিম্বস্ফোটন সাধারণত ফিরে আসে।
গর্ভনিরোধক ইনজেকশন (Depo-Provera): ডিম্বস্ফোটন 10 বা এমনকি 18 মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে, তাই শিগগির গর্ভধারণের আশা থাকলে এই পদ্ধতি সুপারিশ করা হয় না।
গর্ভধারণের ঝুঁকি ও মাসিক ফিরে আসা
গর্ভনিরোধক বন্ধ করার পরপরই গর্ভধারণ করলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে—এই পুরোনো ধারণা গবেষণায় ভুল প্রমাণিত হয়েছে; ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, তাৎক্ষণিক গর্ভধারণ নিরাপদ। মাসিক চক্র পুরোপুরি নিয়মিত হতে কয়েক মাস লাগতে পারে, তবে মাসিক ফিরে আসার আগেই প্রায়ই ডিম্বস্ফোটন ঘটে। তাই এই সময়ে অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক হলে চক্র ফেরার আগেই গর্ভধারণ হতে পারে।
গর্ভধারণের প্রস্তুতি
গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসকের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার পরামর্শ দেন। আপনার বয়স 35-এর কম হলে এবং গর্ভনিরোধক ব্যবহারের পর চেষ্টা চালিয়ে এক বছরেও গর্ভধারণ না হলে মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসা নিন। 35 বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের ছয় মাস পর সাহায্য নেওয়া উচিত। প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, পারিবারিক চিকিৎসক বা প্রজননস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা-ইতিহাস, বয়স, ওজন ও অন্যান্য বিষয়ের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত পরামর্শ দিতে পারেন।
গাইড | জন্মনিয়ন্ত্রণ বন্ধ করার কতদিন পর গর্ভধারণ সম্ভব? প্রমাণভিত্তিক নির্দেশিকা
গাইড | জন্মনিয়ন্ত্রণ বন্ধ করার কতদিন পর গর্ভধারণ সম্ভব? প্রমাণভিত্তিক নির্দেশিকা
গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে অনেকেই চিন্তা করেন, দীর্ঘদিন গর্ভনিরোধক ব্যবহার করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনায় প্রভাব পড়বে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক গণমাধ্যমে Camille Noe Pagán-এর লেখা এবং Dr. Brunilda Nazario-এর চিকিৎসাবিষয়ক পর্যালোচনা করা El embarazo tras dejar de usar anticonceptivos প্রকাশিত হয়েছে। এই ব্যবহারিক, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রমাণভিত্তিক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ গর্ভনিরোধক পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে নারীর প্রজননক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে না এবং বন্ধ করার কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে সাধারণত গর্ভধারণ সম্ভব।
গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে শরীর থেকে গর্ভনিরোধক হরমোন “ডিটক্স” বা “পরিষ্কার” করার প্রয়োজন নেই—নিবন্ধটি এ বিষয়টি জোর দিয়ে বলেছে। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে গর্ভনিরোধক বন্ধ করার পর স্বাভাবিক ডিম্বস্ফোটন দ্রুত ফিরে আসে এবং কেউ কেউ এক মাসের মধ্যেই গর্ভবতী হতে পারেন। যারা এখনও গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত নন, তারা কনডমের মতো বাধাদানকারী পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।
গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ও গর্ভধারণের সময়সীমা
ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টিনযুক্ত সম্মিলিত মুখে খাওয়ার গর্ভনিরোধক: বন্ধ করার 1 থেকে 3 মাসের মধ্যে অধিকাংশ মানুষের ডিম্বস্ফোটন ফিরে আসে এবং গর্ভধারণ হয়; এক বছরের মধ্যে গর্ভধারণের হার স্বাভাবিক মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এমনকি দীর্ঘমেয়াদি (>4-5 বছর) ব্যবহারকারীদের গর্ভধারণের হার স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারকারীদের তুলনায় কিছুটা বেশি পাওয়া গেছে।
শুধু প্রোজেস্টিনযুক্ত বড়ি (“মিনি-পিল”): কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডিম্বস্ফোটন ফিরে আসতে পারে, কারণ এই বড়িগুলো মূলত ডিম্বস্ফোটন অব্যাহতভাবে দমন করার বদলে জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণের পুরুত্ব বদলে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে।
জরায়ুর ভেতরের গর্ভনিরোধক (IUD): খুলে ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই গর্ভনিরোধক সুরক্ষা শেষ হয়। অধিকাংশ মানুষের 1 মাস পর ডিম্বস্ফোটন হতে পারে এবং সাধারণত 6 থেকে 12 মাসের মধ্যে গর্ভধারণ হয়।
গর্ভনিরোধক ইমপ্ল্যান্ট: IUD-এর মতোই, খুলে ফেলার প্রায় 1 মাস পর ডিম্বস্ফোটন ফিরে আসে।
গর্ভনিরোধক প্যাচ ও যোনিপথের রিং: বন্ধ করার 1 থেকে 3 মাসের মধ্যে সাধারণ চক্র ও ডিম্বস্ফোটন সাধারণত ফিরে আসে।
গর্ভনিরোধক ইনজেকশন (Depo-Provera): ডিম্বস্ফোটন 10 বা এমনকি 18 মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে, তাই শিগগির গর্ভধারণের আশা থাকলে এই পদ্ধতি সুপারিশ করা হয় না।
গর্ভধারণের ঝুঁকি ও মাসিক ফিরে আসা
গর্ভনিরোধক বন্ধ করার পরপরই গর্ভধারণ করলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে—এই পুরোনো ধারণা গবেষণায় ভুল প্রমাণিত হয়েছে; ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, তাৎক্ষণিক গর্ভধারণ নিরাপদ। মাসিক চক্র পুরোপুরি নিয়মিত হতে কয়েক মাস লাগতে পারে, তবে মাসিক ফিরে আসার আগেই প্রায়ই ডিম্বস্ফোটন ঘটে। তাই এই সময়ে অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক হলে চক্র ফেরার আগেই গর্ভধারণ হতে পারে।
গর্ভধারণের প্রস্তুতি
গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসকের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার পরামর্শ দেন। আপনার বয়স 35-এর কম হলে এবং গর্ভনিরোধক ব্যবহারের পর চেষ্টা চালিয়ে এক বছরেও গর্ভধারণ না হলে মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসা নিন। 35 বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের ছয় মাস পর সাহায্য নেওয়া উচিত। প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, পারিবারিক চিকিৎসক বা প্রজননস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা-ইতিহাস, বয়স, ওজন ও অন্যান্য বিষয়ের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত পরামর্শ দিতে পারেন।
উৎস:
অনলাইন উৎস থেকে সংকলিত