গাইড | বিরল পরজীবী যমজ সম্পর্কে জানুন: প্রতি 1 মিলিয়ন নবজাতকের মধ্যে 1-এরও কম আক্রান্ত, অস্ত্রোপচারের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালো সুস্থতা
পরজীবী যমজ নামে পরিচিত একটি বিরল জন্মগত অস্বাভাবিকতা আবারও চিকিৎসাজগতে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চিকিৎসা প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবস্থাটি দেখতে উদ্বেগজনক হলেও সাধারণত সুস্থ ও বিকশিত প্রধান যমজের গুরুতর ক্ষতি করে না এবং জন্মের পর অস্ত্রোপচারে অপসারণ করলে সাধারণত ভালো ফল পাওয়া যায়।
পরজীবী যমজ কী?
পরজীবী যমজ সংযুক্ত যমজের অত্যন্ত বিরল একটি ধরন, যাকে অবশেষী যমজও বলা হয়। সাধারণ সংযুক্ত যমজের মতো নয়, এখানে কেবল একটি ভ্রূণ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়, যাকে প্রধান যমজ বলা হয়। অন্যটি মারাত্মকভাবে অপরিণত থাকে এবং তার জীবনের কোনো লক্ষণ থাকে না; অবশিষ্ট টিস্যু, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা অঙ্গ হিসেবে প্রধান যমজের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
যুক্ত থাকার সাধারণ স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথা, ধড়, বুক, পেট, শ্রোণি, নিতম্ব বা পিঠ। চিকিৎসা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি 1 মিলিয়ন জন্মে 1-এরও কম ক্ষেত্রে এই অবস্থা দেখা যায়। অধিকাংশ পরজীবী যমজ জরায়ুতে বা প্রসবের সময় মারা যায় এবং স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে পারে না।
কারণ অজানা: দুটি প্রধান তত্ত্ব
পরজীবী যমজ কীভাবে তৈরি হয়, তা গবেষকেরা এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারেননি; তবে প্রধান তত্ত্বগুলো ভ্রূণের প্রাথমিক পর্যায়ে অস্বাভাবিক বিভাজনের সঙ্গে সম্পর্কিত:
বিভাজন তত্ত্ব: গর্ভাবস্থার প্রথম দুই সপ্তাহে নিষিক্ত ডিম্বাণু দুটি ভাগে বিভক্ত হলে অংশগুলো সম্পূর্ণ আলাদা হতে ব্যর্থ হয়। একটি অংশের বিকাশ থেমে যায় এবং সেটিই পরজীবী যমজে পরিণত হয়।
সংযোজন তত্ত্ব: শুরুতে সফলভাবে আলাদা হয়ে যমজে পরিণত হওয়া ভ্রূণ পরে একত্রিত হয় এবং একটির বিকাশ ব্যাহত হয়ে পরজীবী যমজ তৈরি হয়।
গবেষকেরা ভ্রূণের বিকাশে Sonic Hedgehog (SHH) প্রোটিন পরিবারের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন। অস্বাভাবিক SHH মাত্রা চোখ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও শরীরের অন্যান্য অংশের গঠনগত ত্রুটি ঘটাতে পারে এবং এমনকি পরজীবী যমজের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে; তবে এই অনুমানের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
প্রসবপূর্ব স্ক্রিনিং সীমিত; জন্মের পরই প্রায়ই রোগনির্ণয় নিশ্চিত হয়
পরজীবী যমজ সাধারণত গর্ভাবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট উপসর্গ সৃষ্টি করে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল্ট্রাসাউন্ড, চৌম্বকীয় অনুরণন ইমেজিং (MRI) এবং কম্পিউটেড টমোগ্রাফি (CT)-সহ প্রসবপূর্ব ইমেজিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। ইমেজিংয়ে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে পরজীবী যমজটি প্রধান যমজের হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলছে কি না তা মূল্যায়নে চিকিৎসকেরা ভ্রূণের ইকোকার্ডিওগ্রাফি করতে পারেন।
তবে কিছু ক্ষেত্রে পরজীবী যমজের অবস্থান বা আকারের কারণে প্রসবপূর্ব শনাক্তকরণ কঠিন হয়। তখন প্রসবের পর অস্বাভাবিক পিণ্ড বা অতিরিক্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়া গেলেই রোগনির্ণয় করা হয়।
একমাত্র চিকিৎসা: জন্মের পর অস্ত্রোপচারে অপসারণ
একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচারে অপসারণ—প্রধান যমজের শরীরের ভেতর বা পৃষ্ঠ থেকে পরজীবী যমজের টিস্যু, হাড় এবং অতিরিক্ত অঙ্গ সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া। পরজীবী যমজটি প্রধান যমজের শরীরের আকৃতি বদলে দিলে পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে।
নবজাতক অস্ত্রোপচার ও অ্যানেস্থেশিয়ার অগ্রগতির ফলে অধিকাংশ শিশু অস্ত্রোপচারের পর ভালোভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে। সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে সংক্রমণ, অস্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ, শ্বাসযন্ত্রের অকার্যকারিতা এবং একাধিক অঙ্গের কর্মহীনতা। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পরিচর্যা বা সহায়ক ভেন্টিলেশন প্রয়োজন হয়।
চিকিৎসকেরা জোর দিয়ে বলেন, পরজীবী যমজ অত্যন্ত বিরল। উদ্বেগ থাকলে অভিভাবকদের দ্রুত প্রসূতি ও ভ্রূণচিকিৎসা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এড়ানো উচিত। আধুনিক চিকিৎসাসেবায় অধিকাংশ প্রধান যমজ অস্ত্রোপচারের পর ভালো জীবনযাপন করতে পারে।
গাইড | বিরল পরজীবী যমজ সম্পর্কে জানুন: 1 মিলিয়ন নবজাতকের মধ্যে 1-এরও কম আক্রান্ত, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থতা ভালো
গাইড | বিরল পরজীবী যমজ সম্পর্কে জানুন: প্রতি 1 মিলিয়ন নবজাতকের মধ্যে 1-এরও কম আক্রান্ত, অস্ত্রোপচারের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালো সুস্থতা
পরজীবী যমজ নামে পরিচিত একটি বিরল জন্মগত অস্বাভাবিকতা আবারও চিকিৎসাজগতে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চিকিৎসা প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবস্থাটি দেখতে উদ্বেগজনক হলেও সাধারণত সুস্থ ও বিকশিত প্রধান যমজের গুরুতর ক্ষতি করে না এবং জন্মের পর অস্ত্রোপচারে অপসারণ করলে সাধারণত ভালো ফল পাওয়া যায়।
পরজীবী যমজ কী?
পরজীবী যমজ সংযুক্ত যমজের অত্যন্ত বিরল একটি ধরন, যাকে অবশেষী যমজও বলা হয়। সাধারণ সংযুক্ত যমজের মতো নয়, এখানে কেবল একটি ভ্রূণ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়, যাকে প্রধান যমজ বলা হয়। অন্যটি মারাত্মকভাবে অপরিণত থাকে এবং তার জীবনের কোনো লক্ষণ থাকে না; অবশিষ্ট টিস্যু, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা অঙ্গ হিসেবে প্রধান যমজের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
যুক্ত থাকার সাধারণ স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথা, ধড়, বুক, পেট, শ্রোণি, নিতম্ব বা পিঠ। চিকিৎসা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি 1 মিলিয়ন জন্মে 1-এরও কম ক্ষেত্রে এই অবস্থা দেখা যায়। অধিকাংশ পরজীবী যমজ জরায়ুতে বা প্রসবের সময় মারা যায় এবং স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে পারে না।
কারণ অজানা: দুটি প্রধান তত্ত্ব
পরজীবী যমজ কীভাবে তৈরি হয়, তা গবেষকেরা এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারেননি; তবে প্রধান তত্ত্বগুলো ভ্রূণের প্রাথমিক পর্যায়ে অস্বাভাবিক বিভাজনের সঙ্গে সম্পর্কিত:
বিভাজন তত্ত্ব: গর্ভাবস্থার প্রথম দুই সপ্তাহে নিষিক্ত ডিম্বাণু দুটি ভাগে বিভক্ত হলে অংশগুলো সম্পূর্ণ আলাদা হতে ব্যর্থ হয়। একটি অংশের বিকাশ থেমে যায় এবং সেটিই পরজীবী যমজে পরিণত হয়।
সংযোজন তত্ত্ব: শুরুতে সফলভাবে আলাদা হয়ে যমজে পরিণত হওয়া ভ্রূণ পরে একত্রিত হয় এবং একটির বিকাশ ব্যাহত হয়ে পরজীবী যমজ তৈরি হয়।
গবেষকেরা ভ্রূণের বিকাশে Sonic Hedgehog (SHH) প্রোটিন পরিবারের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন। অস্বাভাবিক SHH মাত্রা চোখ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও শরীরের অন্যান্য অংশের গঠনগত ত্রুটি ঘটাতে পারে এবং এমনকি পরজীবী যমজের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে; তবে এই অনুমানের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
প্রসবপূর্ব স্ক্রিনিং সীমিত; জন্মের পরই প্রায়ই রোগনির্ণয় নিশ্চিত হয়
পরজীবী যমজ সাধারণত গর্ভাবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট উপসর্গ সৃষ্টি করে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল্ট্রাসাউন্ড, চৌম্বকীয় অনুরণন ইমেজিং (MRI) এবং কম্পিউটেড টমোগ্রাফি (CT)-সহ প্রসবপূর্ব ইমেজিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। ইমেজিংয়ে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে পরজীবী যমজটি প্রধান যমজের হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলছে কি না তা মূল্যায়নে চিকিৎসকেরা ভ্রূণের ইকোকার্ডিওগ্রাফি করতে পারেন।
তবে কিছু ক্ষেত্রে পরজীবী যমজের অবস্থান বা আকারের কারণে প্রসবপূর্ব শনাক্তকরণ কঠিন হয়। তখন প্রসবের পর অস্বাভাবিক পিণ্ড বা অতিরিক্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়া গেলেই রোগনির্ণয় করা হয়।
একমাত্র চিকিৎসা: জন্মের পর অস্ত্রোপচারে অপসারণ
একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচারে অপসারণ—প্রধান যমজের শরীরের ভেতর বা পৃষ্ঠ থেকে পরজীবী যমজের টিস্যু, হাড় এবং অতিরিক্ত অঙ্গ সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া। পরজীবী যমজটি প্রধান যমজের শরীরের আকৃতি বদলে দিলে পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে।
নবজাতক অস্ত্রোপচার ও অ্যানেস্থেশিয়ার অগ্রগতির ফলে অধিকাংশ শিশু অস্ত্রোপচারের পর ভালোভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে। সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে সংক্রমণ, অস্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ, শ্বাসযন্ত্রের অকার্যকারিতা এবং একাধিক অঙ্গের কর্মহীনতা। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পরিচর্যা বা সহায়ক ভেন্টিলেশন প্রয়োজন হয়।
চিকিৎসকেরা জোর দিয়ে বলেন, পরজীবী যমজ অত্যন্ত বিরল। উদ্বেগ থাকলে অভিভাবকদের দ্রুত প্রসূতি ও ভ্রূণচিকিৎসা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এড়ানো উচিত। আধুনিক চিকিৎসাসেবায় অধিকাংশ প্রধান যমজ অস্ত্রোপচারের পর ভালো জীবনযাপন করতে পারে।
উৎস:
অনলাইন উৎস থেকে সংকলিত