সংবাদ | বড় আবিষ্কার: পিটুইটারি গোনাডোট্রফ দুটি পৃথক বিকাশকালীন পর্যায়ে গঠিত হয়
যুক্তরাজ্যের Francis Crick Institute-এর একটি গবেষণা গোনাডোট্রফের বিকাশগত উৎস সম্পর্কে ধারণা বদলে দিয়েছে। গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন, বয়ঃসন্ধি ও প্রজননক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকারী এই পিটুইটারি কোষগুলো আগের ধারণা অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে ভ্রূণীয় বিকাশের সময় তৈরি হয় না। এদের অধিকাংশ জন্মের পর দ্বিতীয় একটি বিকাশ-তরঙ্গে তৈরি হয়, যা মিনিপিউবার্টি নামে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ঘটে।
গোনাডোট্রফ মস্তিষ্কের কেন্দ্রে অবস্থিত ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পিটুইটারি গ্রন্থিতে থাকে। এদের হরমোন ডিম্বাশয় বা অণ্ডকোষকে পরিণত হতে এবং ডিম্বাণু বা শুক্রাণু উৎপাদন শুরু করতে উদ্দীপিত করে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মনে করতেন, এই কোষগুলো মূলত ভ্রূণীয় বিকাশের সময় তৈরি হয়; কিন্তু এই গবেষণা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
জন্মের পরের স্টেম সেলই অধিকাংশ কাজ করে
Crick দলের আগের গবেষণায় পিটুইটারিতে টিস্যু-নির্দিষ্ট স্টেম সেল শনাক্ত করা হয়েছিল, যেগুলো নিজেদের পুনর্গঠন করতে এবং পিটুইটারির বিভিন্ন কোষে বিভাজিত হতে পারে। তবে জীবন্ত দেহে তাদের ভূমিকা স্পষ্ট ছিল না।
Nature Communications-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের এসব স্টেম সেল অনুসরণ করতে জেনেটিক লেবেলিং ব্যবহার করেন। জন্মের পর থেকে এক বছর বয়স পর্যন্ত কোষগুলো অন্য পিটুইটারি কোষের পরিবর্তে প্রায় একচেটিয়াভাবে গোনাডোট্রফে বিভাজিত হয়। এই প্রক্রিয়া জন্মের পরপরই শুরু হয়ে বয়ঃসন্ধির আগ পর্যন্ত, ইঁদুরের মিনিপিউবার্টির সময়, চলতে থাকে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, ভ্রূণীয় ও জন্ম-পরবর্তী গোনাডোট্রফ পিটুইটারির ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে থাকে। ভ্রূণীয় কোষগুলো সারা জীবন একই স্থানে থাকে, আর জন্ম-পরবর্তী কোষগুলো ধীরে ধীরে একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে—যা তাদের ভিন্ন কাজ ও পরিণতির ইঙ্গিত দেয়।
এই স্টেম সেলগুলোকে সক্রিয় করে কী?
গোনাডোট্রফ যদি ভ্রূণীয় বিকাশের সময় তৈরি না হয়, তাহলে জন্মের পর স্টেম সেলকে গোনাডোট্রফে পরিণত হওয়ার সংকেত দেয় কী? দলটি কয়েকটি হরমোন-ভিত্তিক হস্তক্ষেপ পরীক্ষা করে:
প্রথমে তারা গোনাডোট্রপিন-নিঃসরণকারী হরমোন (GnRH) বন্ধ করে দেয়, যা গোনাডোট্রফের কাজ সক্রিয় করা মস্তিষ্কজাত হরমোন। অণ্ডকোষ ও ডিম্বাশয় ছোট হয়ে গেলেও স্টেম সেল স্বাভাবিকভাবেই গোনাডোট্রফে বিভাজিত হয়, যা দেখায় GnRH মূল উদ্দীপক নয়।
টেস্টোস্টেরনের মতো যৌন হরমোন বন্ধ করা বা গোনাড অপসারণেও স্পষ্ট কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। তাই গবেষকরা ধারণা করেন, মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন—সম্ভবত জন্মপ্রক্রিয়াই—কোষের পরিণতি পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
মিনিপিউবার্টি: হস্তক্ষেপের নতুন সুযোগ
এই আবিষ্কার মৌলিক বিজ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং বয়ঃসন্ধির বিকাশজনিত সমস্যায় চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপের পদ্ধতি বদলে দিতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, জন্মগত হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজম (CHH) থাকা ব্যক্তিরা GnRH নিঃসরণ করতে পারেন না, ফলে গোনাডোট্রফ সক্রিয় হয় না এবং বয়ঃসন্ধি বিলম্বিত বা অনুপস্থিত থাকে। ইঁদুরের মতো মানুষেরও জন্মের পর মিনিপিউবার্টি হয়—এটি অল্প সময়ের একটি পর্যায়, যখন পিটুইটারি সক্রিয় হয় এবং বিকাশ শুরু হয়।
গবেষকদের ধারণা, মানুষেরও গোনাডোট্রফের দুটি জনসংখ্যা থাকতে পারে: একটি ভ্রূণীয় বিকাশের সময় তৈরি এবং অন্যটি জন্মের পর স্টেম সেল থেকে উদ্ভূত। এটি নিশ্চিত হলে, চিকিৎসকেরা জন্মের পরপরই স্টেম সেল উৎপাদন মূল্যায়ন, বয়ঃসন্ধির সমস্যা অনুমান এবং স্বাভাবিক বয়ঃসন্ধির বিকাশের সুযোগ হারানোর আগেই হস্তক্ষেপ করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য: ধারণায় বড় পরিবর্তন
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানতাম যে পিটুইটারিতে এই স্টেম সেল রয়েছে, কিন্তু তাদের প্রকৃত কাজ শনাক্ত করতে পারিনি। অবশেষে সঠিক সময়ে সঠিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে আমরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রকাশ করতে পেরেছি।”
—Dr. Karine Rizzoti, প্রধান গবেষণা বিজ্ঞানী, Stem Cell Biology and Developmental Genetics Laboratory, Crick Institute
“আমাদের গবেষণা দেখায়, ভ্রূণীয় বিকাশের সময় সব গোনাডোট্রফ একসঙ্গে তৈরি হয় না। এর অর্থ, আরও নমনীয় সময়ে চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপ সম্ভব হতে পারে।”
—Dr. Daniel Sheridan, Crick Institute-এর সাবেক ডক্টরাল শিক্ষার্থী ও প্রধান লেখক
“এখন আমরা জানি যে গোনাডোট্রফের দুটি পৃথক উৎস রয়েছে, তাই CHH-এর মতো অবস্থায় কোন জনসংখ্যা আক্রান্ত হয় তা অনুসন্ধান করতে পারি।”
—Professor Robin Lovell-Badge, জ্যেষ্ঠ গ্রুপ প্রধান, Stem Cell Biology and Developmental Genetics Laboratory, Crick Institute
সংবাদ | বড় আবিষ্কার: পিটুইটারি গোনাডোট্রফ দুটি পৃথক বিকাশকালীন পর্যায়ে গঠিত হয়
সংবাদ | বড় আবিষ্কার: পিটুইটারি গোনাডোট্রফ দুটি পৃথক বিকাশকালীন পর্যায়ে গঠিত হয়
যুক্তরাজ্যের Francis Crick Institute-এর একটি গবেষণা গোনাডোট্রফের বিকাশগত উৎস সম্পর্কে ধারণা বদলে দিয়েছে। গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন, বয়ঃসন্ধি ও প্রজননক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকারী এই পিটুইটারি কোষগুলো আগের ধারণা অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে ভ্রূণীয় বিকাশের সময় তৈরি হয় না। এদের অধিকাংশ জন্মের পর দ্বিতীয় একটি বিকাশ-তরঙ্গে তৈরি হয়, যা মিনিপিউবার্টি নামে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ঘটে।
গোনাডোট্রফ মস্তিষ্কের কেন্দ্রে অবস্থিত ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পিটুইটারি গ্রন্থিতে থাকে। এদের হরমোন ডিম্বাশয় বা অণ্ডকোষকে পরিণত হতে এবং ডিম্বাণু বা শুক্রাণু উৎপাদন শুরু করতে উদ্দীপিত করে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মনে করতেন, এই কোষগুলো মূলত ভ্রূণীয় বিকাশের সময় তৈরি হয়; কিন্তু এই গবেষণা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
জন্মের পরের স্টেম সেলই অধিকাংশ কাজ করে
Crick দলের আগের গবেষণায় পিটুইটারিতে টিস্যু-নির্দিষ্ট স্টেম সেল শনাক্ত করা হয়েছিল, যেগুলো নিজেদের পুনর্গঠন করতে এবং পিটুইটারির বিভিন্ন কোষে বিভাজিত হতে পারে। তবে জীবন্ত দেহে তাদের ভূমিকা স্পষ্ট ছিল না।
Nature Communications-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের এসব স্টেম সেল অনুসরণ করতে জেনেটিক লেবেলিং ব্যবহার করেন। জন্মের পর থেকে এক বছর বয়স পর্যন্ত কোষগুলো অন্য পিটুইটারি কোষের পরিবর্তে প্রায় একচেটিয়াভাবে গোনাডোট্রফে বিভাজিত হয়। এই প্রক্রিয়া জন্মের পরপরই শুরু হয়ে বয়ঃসন্ধির আগ পর্যন্ত, ইঁদুরের মিনিপিউবার্টির সময়, চলতে থাকে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, ভ্রূণীয় ও জন্ম-পরবর্তী গোনাডোট্রফ পিটুইটারির ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে থাকে। ভ্রূণীয় কোষগুলো সারা জীবন একই স্থানে থাকে, আর জন্ম-পরবর্তী কোষগুলো ধীরে ধীরে একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে—যা তাদের ভিন্ন কাজ ও পরিণতির ইঙ্গিত দেয়।
এই স্টেম সেলগুলোকে সক্রিয় করে কী?
গোনাডোট্রফ যদি ভ্রূণীয় বিকাশের সময় তৈরি না হয়, তাহলে জন্মের পর স্টেম সেলকে গোনাডোট্রফে পরিণত হওয়ার সংকেত দেয় কী? দলটি কয়েকটি হরমোন-ভিত্তিক হস্তক্ষেপ পরীক্ষা করে:
প্রথমে তারা গোনাডোট্রপিন-নিঃসরণকারী হরমোন (GnRH) বন্ধ করে দেয়, যা গোনাডোট্রফের কাজ সক্রিয় করা মস্তিষ্কজাত হরমোন। অণ্ডকোষ ও ডিম্বাশয় ছোট হয়ে গেলেও স্টেম সেল স্বাভাবিকভাবেই গোনাডোট্রফে বিভাজিত হয়, যা দেখায় GnRH মূল উদ্দীপক নয়।
টেস্টোস্টেরনের মতো যৌন হরমোন বন্ধ করা বা গোনাড অপসারণেও স্পষ্ট কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। তাই গবেষকরা ধারণা করেন, মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন—সম্ভবত জন্মপ্রক্রিয়াই—কোষের পরিণতি পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
মিনিপিউবার্টি: হস্তক্ষেপের নতুন সুযোগ
এই আবিষ্কার মৌলিক বিজ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং বয়ঃসন্ধির বিকাশজনিত সমস্যায় চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপের পদ্ধতি বদলে দিতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, জন্মগত হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজম (CHH) থাকা ব্যক্তিরা GnRH নিঃসরণ করতে পারেন না, ফলে গোনাডোট্রফ সক্রিয় হয় না এবং বয়ঃসন্ধি বিলম্বিত বা অনুপস্থিত থাকে। ইঁদুরের মতো মানুষেরও জন্মের পর মিনিপিউবার্টি হয়—এটি অল্প সময়ের একটি পর্যায়, যখন পিটুইটারি সক্রিয় হয় এবং বিকাশ শুরু হয়।
গবেষকদের ধারণা, মানুষেরও গোনাডোট্রফের দুটি জনসংখ্যা থাকতে পারে: একটি ভ্রূণীয় বিকাশের সময় তৈরি এবং অন্যটি জন্মের পর স্টেম সেল থেকে উদ্ভূত। এটি নিশ্চিত হলে, চিকিৎসকেরা জন্মের পরপরই স্টেম সেল উৎপাদন মূল্যায়ন, বয়ঃসন্ধির সমস্যা অনুমান এবং স্বাভাবিক বয়ঃসন্ধির বিকাশের সুযোগ হারানোর আগেই হস্তক্ষেপ করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য: ধারণায় বড় পরিবর্তন
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানতাম যে পিটুইটারিতে এই স্টেম সেল রয়েছে, কিন্তু তাদের প্রকৃত কাজ শনাক্ত করতে পারিনি। অবশেষে সঠিক সময়ে সঠিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে আমরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রকাশ করতে পেরেছি।”
—Dr. Karine Rizzoti, প্রধান গবেষণা বিজ্ঞানী, Stem Cell Biology and Developmental Genetics Laboratory, Crick Institute
“আমাদের গবেষণা দেখায়, ভ্রূণীয় বিকাশের সময় সব গোনাডোট্রফ একসঙ্গে তৈরি হয় না। এর অর্থ, আরও নমনীয় সময়ে চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপ সম্ভব হতে পারে।”
—Dr. Daniel Sheridan, Crick Institute-এর সাবেক ডক্টরাল শিক্ষার্থী ও প্রধান লেখক
“এখন আমরা জানি যে গোনাডোট্রফের দুটি পৃথক উৎস রয়েছে, তাই CHH-এর মতো অবস্থায় কোন জনসংখ্যা আক্রান্ত হয় তা অনুসন্ধান করতে পারি।”
—Professor Robin Lovell-Badge, জ্যেষ্ঠ গ্রুপ প্রধান, Stem Cell Biology and Developmental Genetics Laboratory, Crick Institute
সংবাদের উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত