এক বছর চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় "বন্ধ্যত্ব" বলা হয়। এই পর্যায়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে উভয় সঙ্গীর একসঙ্গে প্রজনন চিকিৎসা বিভাগ বা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ ক্লিনিকে পদ্ধতিগত পরীক্ষা করানো সুপারিশ করা হয়। এসব পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো ডিম্বস্ফোটন, ফ্যালোপিয়ান টিউব, শুক্রাণুর গুণমান এবং জরায়ুর পরিবেশসহ গর্ভধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কারণ শনাক্ত করা।
নারীদের পরীক্ষা সাধারণত প্রাথমিক কিছু পরীক্ষা দিয়ে শুরু হয়। প্রথমটি হলো ডিম্বস্ফোটনের কার্যকারিতা মূল্যায়ন। ডিম্বাশয়ের মজুত মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসক মাসিক চক্রের 2-4 দিনে ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH), লুটিনাইজিং হরমোন (LH), ইস্ট্রাডিয়ল (E2) এবং অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন (AMH)-এর মতো হরমোন মাপতে রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেবেন। স্বাভাবিক ডিম্বস্ফোটন হচ্ছে কি না নিশ্চিত করতে এর সঙ্গে বেসাল শারীরিক তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ বা ডিম্বস্ফোটন পূর্বাভাস কিট ব্যবহার করা যেতে পারে।
ফ্যালোপিয়ান টিউব খোলা আছে কি না তা মূল্যায়ন করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রচলিত একটি পদ্ধতি হলো হিস্টেরোসালপিংগ্রাফি (HSG), যেখানে এক্স-রে নির্দেশনায় কনট্রাস্ট মাধ্যম প্রবেশ করিয়ে ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ আছে কি না দেখা হয়। এ ছাড়া, স্যালাইন ইনফিউশন সনোহিস্টেরোগ্রাফি বা হিস্টেরোস্কোপির মাধ্যমে জরায়ুর গহ্বরে পলিপ, ফাইব্রয়েড বা জোড়া লেগে যাওয়ার মতো অস্বাভাবিকতা মূল্যায়ন করা যায়, যা ভ্রূণ প্রতিস্থাপনে প্রভাব ফেলতে পারে।
পুরুষদের পরীক্ষা তুলনামূলকভাবে সহজ এবং মূলত বীর্য বিশ্লেষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। পরীক্ষার আগে 2-7 দিন যৌনসংযম বজায় রাখতে হবে। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও গঠন মূল্যায়ন করা হয়। ফলাফল অস্বাভাবিক হলে ভেরিকোসিলের মতো অবস্থা শনাক্ত করতে হরমোনের অতিরিক্ত পরীক্ষা বা অণ্ডথলির আল্ট্রাসাউন্ডের প্রয়োজন হতে পারে।
উপরের পরীক্ষাগুলোর পাশাপাশি, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসক থাইরয়েডের কার্যকারিতা, প্রোল্যাকটিনের মাত্রা বা ক্ল্যামাইডিয়ার অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মতো অন্যান্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন। সব পরীক্ষা স্বাভাবিক হলে অবস্থাটিকে "অব্যাখ্যাত বন্ধ্যত্ব" হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যা বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় 10-30% অংশের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে ডিম্বস্ফোটন প্ররোচনা দিয়ে নির্ধারিত সময়ে যৌনমিলন বা অন্তঃজরায়ু শুক্রাণু প্রবেশ (IUI) বিবেচনা করা যেতে পারে।
এই নিবন্ধে সাধারণ বৈজ্ঞানিক তথ্য দেওয়া হয়েছে; এটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরামর্শ নয়। নির্দিষ্ট রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য একজন পেশাদার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নিন।
এক বছর ধরে গর্ভধারণের চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে কোন পরীক্ষা করা উচিত?
এক বছর চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় "বন্ধ্যত্ব" বলা হয়। এই পর্যায়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে উভয় সঙ্গীর একসঙ্গে প্রজনন চিকিৎসা বিভাগ বা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ ক্লিনিকে পদ্ধতিগত পরীক্ষা করানো সুপারিশ করা হয়। এসব পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো ডিম্বস্ফোটন, ফ্যালোপিয়ান টিউব, শুক্রাণুর গুণমান এবং জরায়ুর পরিবেশসহ গর্ভধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কারণ শনাক্ত করা।
নারীদের পরীক্ষা সাধারণত প্রাথমিক কিছু পরীক্ষা দিয়ে শুরু হয়। প্রথমটি হলো ডিম্বস্ফোটনের কার্যকারিতা মূল্যায়ন। ডিম্বাশয়ের মজুত মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসক মাসিক চক্রের 2-4 দিনে ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH), লুটিনাইজিং হরমোন (LH), ইস্ট্রাডিয়ল (E2) এবং অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন (AMH)-এর মতো হরমোন মাপতে রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেবেন। স্বাভাবিক ডিম্বস্ফোটন হচ্ছে কি না নিশ্চিত করতে এর সঙ্গে বেসাল শারীরিক তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ বা ডিম্বস্ফোটন পূর্বাভাস কিট ব্যবহার করা যেতে পারে।
ফ্যালোপিয়ান টিউব খোলা আছে কি না তা মূল্যায়ন করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রচলিত একটি পদ্ধতি হলো হিস্টেরোসালপিংগ্রাফি (HSG), যেখানে এক্স-রে নির্দেশনায় কনট্রাস্ট মাধ্যম প্রবেশ করিয়ে ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ আছে কি না দেখা হয়। এ ছাড়া, স্যালাইন ইনফিউশন সনোহিস্টেরোগ্রাফি বা হিস্টেরোস্কোপির মাধ্যমে জরায়ুর গহ্বরে পলিপ, ফাইব্রয়েড বা জোড়া লেগে যাওয়ার মতো অস্বাভাবিকতা মূল্যায়ন করা যায়, যা ভ্রূণ প্রতিস্থাপনে প্রভাব ফেলতে পারে।
পুরুষদের পরীক্ষা তুলনামূলকভাবে সহজ এবং মূলত বীর্য বিশ্লেষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। পরীক্ষার আগে 2-7 দিন যৌনসংযম বজায় রাখতে হবে। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও গঠন মূল্যায়ন করা হয়। ফলাফল অস্বাভাবিক হলে ভেরিকোসিলের মতো অবস্থা শনাক্ত করতে হরমোনের অতিরিক্ত পরীক্ষা বা অণ্ডথলির আল্ট্রাসাউন্ডের প্রয়োজন হতে পারে।
উপরের পরীক্ষাগুলোর পাশাপাশি, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসক থাইরয়েডের কার্যকারিতা, প্রোল্যাকটিনের মাত্রা বা ক্ল্যামাইডিয়ার অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মতো অন্যান্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন। সব পরীক্ষা স্বাভাবিক হলে অবস্থাটিকে "অব্যাখ্যাত বন্ধ্যত্ব" হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যা বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় 10-30% অংশের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে ডিম্বস্ফোটন প্ররোচনা দিয়ে নির্ধারিত সময়ে যৌনমিলন বা অন্তঃজরায়ু শুক্রাণু প্রবেশ (IUI) বিবেচনা করা যেতে পারে।
এই নিবন্ধে সাধারণ বৈজ্ঞানিক তথ্য দেওয়া হয়েছে; এটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরামর্শ নয়। নির্দিষ্ট রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য একজন পেশাদার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নিন।