গাইড | শিশুর কপাল অস্বাভাবিকভাবে উঁচু হওয়া: বাবা-মায়ের যা জানা উচিত
Frontal bossing বলতে কপাল অস্বাভাবিকভাবে উঁচু বা প্রসারিত হওয়াকে বোঝায়, যা সাধারণত শিশু ও অল্পবয়সি বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায়। নবজাতকের ক্ষেত্রে এটি হাড়ের বিকাশ, হরমোনের মাত্রা, উচ্চতা বা বৃদ্ধির অন্যান্য দিককে প্রভাবিতকারী বিরল কোনো সিন্ড্রোমের ইঙ্গিত হতে পারে।
1. Frontal bossing-এর কারণ
কারণগুলো সাধারণত অত্যন্ত বিরল এবং এর মধ্যে হরমোনজনিত সমস্যা বা বংশগত সিন্ড্রোম থাকতে পারে। একটি সম্ভাব্য কারণ হলো অ্যাক্রোমেগালি—একটি হরমোনজনিত সমস্যা, যাতে পিটুইটারি গ্রন্থি অতিরিক্ত বৃদ্ধির হরমোন তৈরি করে এবং মুখ, করোটি, চোয়াল, হাত ও পায়ের হাড় অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায়।
Frontal bossing ঘটাতে পারে এমন অন্যান্য বিরল জেনেটিক অবস্থা হলো:
Basal cell nevus syndrome (Gorlin syndrome): কঙ্কালের অস্বাভাবিকতা, চোয়ালের সিস্ট এবং ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
Crouzon syndrome: করোটির কিছু অংশ সময়ের আগেই জোড়া লেগে মাথার আকৃতি প্রভাবিত হয়।
Cleidocranial dysplasia: দাঁত, কলারবোন, মেরুদণ্ড ও পায়ের বিকাশে প্রভাব ফেলে; হাড় ভঙ্গুর হতে পারে এবং কিছু রোগীর কলারবোন অনুপস্থিত থাকে।
Hurler syndrome: কঙ্কালের অস্বাভাবিকতা, হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও অন্যান্য অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
Pfeiffer syndrome: করোটির হাড় সময়ের আগেই জোড়া লাগা এবং হাত-পায়ের বড় ও আলাদা আঙুল।
Rubinstein-Taybi syndrome: বৃদ্ধি ও বিকাশে বিলম্ব, বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা এবং খাওয়ানোর সমস্যা।
Russell-Silver syndrome: জন্মের আগে ও পরে বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, তুলনামূলক বড় মাথা, উঁচু কপাল এবং ত্রিভুজাকার মুখ।
জন্মগত সিফিলিস এবং ট্রাইমেথাডিওনের মতো কিছু খিঁচুনিরোধী ওষুধও frontal bossing ঘটাতে পারে।
2. রোগনির্ণয়
শিশুর কপাল অস্বাভাবিকভাবে উঁচু মনে হলে বাবা-মায়ের চিকিৎসা মূল্যায়ন করানো উচিত। চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা ও পারিবারিক ইতিহাস দিয়ে শুরু করবেন। করোটির অস্বাভাবিকতা ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শনাক্ত করতে এক্স-রে বা MRI-এর মতো পরীক্ষাগার পরীক্ষা ও ইমেজিং করা হতে পারে। রক্ত পরীক্ষা জেনেটিক সমস্যা ও হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রা নির্ণয়ে সহায়তা করতে পারে।
3. চিকিৎসা
Frontal bossing-এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই, তবে সংশ্লিষ্ট সিন্ড্রোম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিছু রোগীর কসমেটিক সার্জারি লাগতে পারে। নির্দিষ্ট অস্ত্রোপচার নির্দেশিকা না থাকলেও ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, কপাল ছোট করার অস্ত্রোপচার কার্যকর হতে পারে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এক বছরের মধ্যে সেরে যায়।
4. প্রতিরোধ
Frontal bossing প্রতিরোধের কোনো প্রতিষ্ঠিত উপায় নেই, তবে গর্ভধারণের আগে ও গর্ভাবস্থায় কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যায়। জেনেটিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে শিশুর বিরল রোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা যায়; প্রয়োজন হলে পরে জেনেটিক পরীক্ষা করা হয়। অ্যামনিওসেন্টেসিসের মতো প্রসবপূর্ব পরীক্ষার মাধ্যমেও ভ্রূণের জেনেটিক অবস্থা মূল্যায়ন করা যায়।
গর্ভাবস্থায় সিফিলিস পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ। সিফিলিস শনাক্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শিশুর মধ্যে সংক্রমণ কমাতে পারে। গর্ভবতী নারীরা খিঁচুনিরোধী ওষুধ গ্রহণ করলে সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।
গাইড | শিশুর কপাল অস্বাভাবিকভাবে উঁচু হওয়া: বাবা-মায়ের যা জানা উচিত
গাইড | শিশুর কপাল অস্বাভাবিকভাবে উঁচু হওয়া: বাবা-মায়ের যা জানা উচিত
Frontal bossing বলতে কপাল অস্বাভাবিকভাবে উঁচু বা প্রসারিত হওয়াকে বোঝায়, যা সাধারণত শিশু ও অল্পবয়সি বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায়। নবজাতকের ক্ষেত্রে এটি হাড়ের বিকাশ, হরমোনের মাত্রা, উচ্চতা বা বৃদ্ধির অন্যান্য দিককে প্রভাবিতকারী বিরল কোনো সিন্ড্রোমের ইঙ্গিত হতে পারে।
1. Frontal bossing-এর কারণ
কারণগুলো সাধারণত অত্যন্ত বিরল এবং এর মধ্যে হরমোনজনিত সমস্যা বা বংশগত সিন্ড্রোম থাকতে পারে। একটি সম্ভাব্য কারণ হলো অ্যাক্রোমেগালি—একটি হরমোনজনিত সমস্যা, যাতে পিটুইটারি গ্রন্থি অতিরিক্ত বৃদ্ধির হরমোন তৈরি করে এবং মুখ, করোটি, চোয়াল, হাত ও পায়ের হাড় অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায়।
Frontal bossing ঘটাতে পারে এমন অন্যান্য বিরল জেনেটিক অবস্থা হলো:
Basal cell nevus syndrome (Gorlin syndrome): কঙ্কালের অস্বাভাবিকতা, চোয়ালের সিস্ট এবং ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
Crouzon syndrome: করোটির কিছু অংশ সময়ের আগেই জোড়া লেগে মাথার আকৃতি প্রভাবিত হয়।
Cleidocranial dysplasia: দাঁত, কলারবোন, মেরুদণ্ড ও পায়ের বিকাশে প্রভাব ফেলে; হাড় ভঙ্গুর হতে পারে এবং কিছু রোগীর কলারবোন অনুপস্থিত থাকে।
Hurler syndrome: কঙ্কালের অস্বাভাবিকতা, হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও অন্যান্য অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
Pfeiffer syndrome: করোটির হাড় সময়ের আগেই জোড়া লাগা এবং হাত-পায়ের বড় ও আলাদা আঙুল।
Rubinstein-Taybi syndrome: বৃদ্ধি ও বিকাশে বিলম্ব, বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা এবং খাওয়ানোর সমস্যা।
Russell-Silver syndrome: জন্মের আগে ও পরে বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, তুলনামূলক বড় মাথা, উঁচু কপাল এবং ত্রিভুজাকার মুখ।
জন্মগত সিফিলিস এবং ট্রাইমেথাডিওনের মতো কিছু খিঁচুনিরোধী ওষুধও frontal bossing ঘটাতে পারে।
2. রোগনির্ণয়
শিশুর কপাল অস্বাভাবিকভাবে উঁচু মনে হলে বাবা-মায়ের চিকিৎসা মূল্যায়ন করানো উচিত। চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা ও পারিবারিক ইতিহাস দিয়ে শুরু করবেন। করোটির অস্বাভাবিকতা ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শনাক্ত করতে এক্স-রে বা MRI-এর মতো পরীক্ষাগার পরীক্ষা ও ইমেজিং করা হতে পারে। রক্ত পরীক্ষা জেনেটিক সমস্যা ও হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রা নির্ণয়ে সহায়তা করতে পারে।
3. চিকিৎসা
Frontal bossing-এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই, তবে সংশ্লিষ্ট সিন্ড্রোম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিছু রোগীর কসমেটিক সার্জারি লাগতে পারে। নির্দিষ্ট অস্ত্রোপচার নির্দেশিকা না থাকলেও ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, কপাল ছোট করার অস্ত্রোপচার কার্যকর হতে পারে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এক বছরের মধ্যে সেরে যায়।
4. প্রতিরোধ
Frontal bossing প্রতিরোধের কোনো প্রতিষ্ঠিত উপায় নেই, তবে গর্ভধারণের আগে ও গর্ভাবস্থায় কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যায়। জেনেটিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে শিশুর বিরল রোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা যায়; প্রয়োজন হলে পরে জেনেটিক পরীক্ষা করা হয়। অ্যামনিওসেন্টেসিসের মতো প্রসবপূর্ব পরীক্ষার মাধ্যমেও ভ্রূণের জেনেটিক অবস্থা মূল্যায়ন করা যায়।
গর্ভাবস্থায় সিফিলিস পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ। সিফিলিস শনাক্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শিশুর মধ্যে সংক্রমণ কমাতে পারে। গর্ভবতী নারীরা খিঁচুনিরোধী ওষুধ গ্রহণ করলে সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।
উৎস:
অনলাইনে সংগৃহীত