স্বাস্থ্য নির্দেশিকা | বন্ধ্যাত্ব তার দোষ নয়: 20% ক্ষেত্রে একমাত্র কারণ পুরুষ সঙ্গী
বন্ধ্যাত্বকে প্রায়ই নারীর সমস্যা মনে করা হয়, কিন্তু আসলে তা নয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত 20% দম্পতির ক্ষেত্রে একমাত্র কারণ পুরুষ সঙ্গী। তাই পুরুষ-সংক্রান্ত কারণ গর্ভধারণে অসুবিধার জন্য দায়ী হতে পারে, অথবা এটিই একমাত্র কারণ হতে পারে।
পুরুষের বন্ধ্যাত্ব শনাক্ত করা ও চিকিৎসা করা সহায়ক প্রজননের অপরিহার্য অংশ। দ্রুত পরীক্ষা করলে সঙ্গীকে অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ ও খরচ থেকে রক্ষা করা যায়, সম্ভাব্য কারণগুলো দ্রুত সংকুচিত করা যায় এবং সময়মতো লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া যায়।
পুরুষের বন্ধ্যাত্বে প্রথম পদক্ষেপ: পরীক্ষা করান
যেসব পুরুষের প্রজননক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ আছে, তাদের ইউরোলজিস্টের মূল্যায়ন দিয়ে শুরু করা উচিত। চিকিৎসক সাধারণত নিয়মিত বীর্য বিশ্লেষণের পরামর্শ দেন। নমুনা দেওয়া অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, তবে পরীক্ষাটি সহজ, নিরাপদ, বহুল ব্যবহৃত ও কার্যকর—তাই পুরুষের প্রজননক্ষমতা মূল্যায়নের এটি প্রথম পদক্ষেপ।
বীর্য বিশ্লেষণে প্রধানত মূল্যায়ন করা হয়:
শুক্রাণুর সংখ্যা: শুক্রাণুর সংখ্যা কি কম (অলিগোস্পার্মিয়া)?
শুক্রাণুর গতিশীলতা: শুক্রাণু কি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করে?
শুক্রাণুর আকৃতি: আকৃতি কি অস্বাভাবিক?
শুক্রাণু কি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত (অ্যাজুস্পার্মিয়া)?
প্রথম বীর্য বিশ্লেষণ স্বাভাবিক হলে ফল নিশ্চিত করতে চিকিৎসক আবার পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। সাধারণত দুটি স্বাভাবিক ফল পুরুষের প্রজননক্ষমতায় কোনো স্পষ্ট দুর্বলতা নেই বলে নির্দেশ করে। অস্বাভাবিক ফলাফলে রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা বা অন্যান্য বিশেষায়িত মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।
অস্বাভাবিক বীর্য পরীক্ষার ফলাফলের কারণ জটিল হতে পারে
বীর্য বিশ্লেষণের খারাপ ফলাফল সবসময় শুধু শুক্রাণুর সমস্যাকে নির্দেশ করে না। এগুলো অন্তর্নিহিত বিভিন্ন রোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে:
পুরুষের বন্ধ্যাত্বের সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সংক্রমণ: ক্ল্যামাইডিয়া ও গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রজননব্যবস্থায় প্রদাহ বা গঠনগত ক্ষতি করতে পারে। দ্রুত চিকিৎসায় প্রজননক্ষমতা ফিরে আসতে পারে।
শারীরিক গঠনগত অস্বাভাবিকতা বা আঘাত: ভাস ডিফারেন্সের জন্মগত বাধা বা অণ্ডকোষে আঘাতের কিছুটা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়।
রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন: বীর্যপাতের সময় বীর্য উল্টো দিকে মূত্রথলিতে চলে যায়। এটি ডায়াবেটিস, কিছু ওষুধ বা মূত্রথলি/প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
জিনগত অবস্থা: সিস্টিক ফাইব্রোসিস ও ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা বিরল হলেও পরীক্ষা করা উচিত।
অটোইমিউন অবস্থা: রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা ভুল করে শুক্রাণুকে বিদেশি হিসেবে শনাক্ত করে আক্রমণ করে।
হরমোনের অস্বাভাবিকতা: হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারি গ্রন্থি বা থাইরয়েড হরমোন-সম্পর্কিত রোগ প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
যৌন অক্ষমতা: ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা অকাল বীর্যপাত যৌনক্রিয়া ও গর্ভধারণের সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ভ্যারিকোসিল (Varicocele): অণ্ডথলির প্রসারিত শিরা স্থানীয় তাপমাত্রা ও রক্তপ্রবাহে প্রভাব ফেলে এবং বন্ধ্যাত্ব মূল্যায়নকারী পুরুষদের মধ্যে এটি সাধারণ।
গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ভ্যারিকোসিল সর্বোচ্চ 15% পুরুষের এবং বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত পুরুষদের সর্বোচ্চ 40%-এর মধ্যে দেখা যায়। অস্ত্রোপচার প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে এখনও মতভেদ আছে।
জীবনযাপন ও পরিবেশগত কারণও শুক্রাণুর ক্ষতি করতে পারে
চিকিৎসাজনিত কারণের পাশাপাশি জীবনযাপন ও পরিবেশগত সংস্পর্শ শুক্রাণুর মানে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে:
মানসিক চাপ ও স্থূলতা: এগুলো অন্তঃস্রাবী ব্যবস্থার অকার্যকারিতা ঘটাতে পারে;
মাদক ও অন্যান্য পদার্থ: মারিজুয়ানা, কোকেন, স্টেরয়েড, অ্যালকোহল ও সিগারেট শুক্রাণু উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে;
পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থ: কীটনাশক, সিসা, পারদ, তেজস্ক্রিয় পদার্থ ও ভারী ধাতু প্রজননব্যবস্থার ক্ষতি করতে পারে;
তাপের সংস্পর্শ: ঘন ঘন সনা ব্যবহার, গরম পানিতে গোসল, আঁটসাঁট প্যান্ট বা দীর্ঘক্ষণ সাইকেল চালালে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে সাময়িকভাবে শুক্রাণু উৎপাদন কমে যেতে পারে।
পুরুষের বন্ধ্যাত্বই শেষ কথা নয়: চিকিৎসার বিকল্প ক্রমেই উন্নত হচ্ছে
বন্ধ্যাত্বের নির্ণয় মানে কোনো বিকল্প নেই—এমন নয়। জীবনযাপনে পরিবর্তন, ওষুধ, ন্যূনতম আক্রমণাত্মক অস্ত্রোপচার এবং উন্নত সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি পিতৃত্বের পথে সহায়তা করতে পারে:
আচরণগত পরিবর্তন: যৌনমিলনের ঘনত্ব পরিবর্তন এবং জিংক ও ফলিক অ্যাসিডের মতো পুষ্টি উপাদান গ্রহণ শুক্রাণুর ঘনত্ব বাড়াতে পারে।
হরমোন থেরাপি: হরমোনের অস্বাভাবিকতা থাকলে চিকিৎসক হরমোন নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ দিতে পারেন।
বীর্যপাতের সমস্যার ওষুধ: সাধারণ সর্দির ওষুধ রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশনের মতো অবস্থায় সহায়তা করতে পারে।
জরায়ুর ভেতর শুক্রাণু প্রবেশ করানো (IUI) বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF): হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার পুরুষ-সংক্রান্ত বন্ধ্যাত্বে এগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন (ICSI): একটি শুক্রাণু সরাসরি ডিম্বাণুতে প্রবেশ করানো হয়, ফলে শুক্রাণুর সংখ্যা খুব কম হলেও নিষেকের চেষ্টা করা যায়।
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শুক্রাণু সংগ্রহ (TESA, MESA, TESE): অ্যাজুস্পার্মিয়ার ক্ষেত্রে IVF-এ ব্যবহারের জন্য অণ্ডকোষ থেকে সরাসরি শুক্রাণু সংগ্রহ করা যেতে পারে।
যদিও ডিম্বাণুর মান ও নারীর বয়সের মতো কারণ ফলাফল সীমিত করতে পারে, অনেক সহায়ক প্রজনন কেন্দ্রে পুরুষ-সংক্রান্ত বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় সাফল্যের হার 65% পর্যন্ত হতে পারে।
বন্ধ্যাত্বকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নারীর সমস্যা মনে করা উচিত নয়। পুরুষের প্রজননক্ষমতারও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও গুরুত্ব প্রাপ্য। নিয়মতান্ত্রিক পরীক্ষা ও বিভিন্ন চিকিৎসার মাধ্যমে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রায়ই মোকাবিলা করা যায়।
স্বাস্থ্য নির্দেশিকা | বন্ধ্যাত্ব তার দোষ নয়: 20% ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গীই একমাত্র কারণ
স্বাস্থ্য নির্দেশিকা | বন্ধ্যাত্ব তার দোষ নয়: 20% ক্ষেত্রে একমাত্র কারণ পুরুষ সঙ্গী
বন্ধ্যাত্বকে প্রায়ই নারীর সমস্যা মনে করা হয়, কিন্তু আসলে তা নয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত 20% দম্পতির ক্ষেত্রে একমাত্র কারণ পুরুষ সঙ্গী। তাই পুরুষ-সংক্রান্ত কারণ গর্ভধারণে অসুবিধার জন্য দায়ী হতে পারে, অথবা এটিই একমাত্র কারণ হতে পারে।
পুরুষের বন্ধ্যাত্ব শনাক্ত করা ও চিকিৎসা করা সহায়ক প্রজননের অপরিহার্য অংশ। দ্রুত পরীক্ষা করলে সঙ্গীকে অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ ও খরচ থেকে রক্ষা করা যায়, সম্ভাব্য কারণগুলো দ্রুত সংকুচিত করা যায় এবং সময়মতো লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া যায়।
পুরুষের বন্ধ্যাত্বে প্রথম পদক্ষেপ: পরীক্ষা করান
যেসব পুরুষের প্রজননক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ আছে, তাদের ইউরোলজিস্টের মূল্যায়ন দিয়ে শুরু করা উচিত। চিকিৎসক সাধারণত নিয়মিত বীর্য বিশ্লেষণের পরামর্শ দেন। নমুনা দেওয়া অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, তবে পরীক্ষাটি সহজ, নিরাপদ, বহুল ব্যবহৃত ও কার্যকর—তাই পুরুষের প্রজননক্ষমতা মূল্যায়নের এটি প্রথম পদক্ষেপ।
বীর্য বিশ্লেষণে প্রধানত মূল্যায়ন করা হয়:
শুক্রাণুর সংখ্যা: শুক্রাণুর সংখ্যা কি কম (অলিগোস্পার্মিয়া)?
শুক্রাণুর গতিশীলতা: শুক্রাণু কি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করে?
শুক্রাণুর আকৃতি: আকৃতি কি অস্বাভাবিক?
শুক্রাণু কি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত (অ্যাজুস্পার্মিয়া)?
প্রথম বীর্য বিশ্লেষণ স্বাভাবিক হলে ফল নিশ্চিত করতে চিকিৎসক আবার পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। সাধারণত দুটি স্বাভাবিক ফল পুরুষের প্রজননক্ষমতায় কোনো স্পষ্ট দুর্বলতা নেই বলে নির্দেশ করে। অস্বাভাবিক ফলাফলে রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা বা অন্যান্য বিশেষায়িত মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।
অস্বাভাবিক বীর্য পরীক্ষার ফলাফলের কারণ জটিল হতে পারে
বীর্য বিশ্লেষণের খারাপ ফলাফল সবসময় শুধু শুক্রাণুর সমস্যাকে নির্দেশ করে না। এগুলো অন্তর্নিহিত বিভিন্ন রোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে:
পুরুষের বন্ধ্যাত্বের সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সংক্রমণ: ক্ল্যামাইডিয়া ও গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রজননব্যবস্থায় প্রদাহ বা গঠনগত ক্ষতি করতে পারে। দ্রুত চিকিৎসায় প্রজননক্ষমতা ফিরে আসতে পারে।
শারীরিক গঠনগত অস্বাভাবিকতা বা আঘাত: ভাস ডিফারেন্সের জন্মগত বাধা বা অণ্ডকোষে আঘাতের কিছুটা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়।
রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন: বীর্যপাতের সময় বীর্য উল্টো দিকে মূত্রথলিতে চলে যায়। এটি ডায়াবেটিস, কিছু ওষুধ বা মূত্রথলি/প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
জিনগত অবস্থা: সিস্টিক ফাইব্রোসিস ও ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা বিরল হলেও পরীক্ষা করা উচিত।
অটোইমিউন অবস্থা: রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা ভুল করে শুক্রাণুকে বিদেশি হিসেবে শনাক্ত করে আক্রমণ করে।
হরমোনের অস্বাভাবিকতা: হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারি গ্রন্থি বা থাইরয়েড হরমোন-সম্পর্কিত রোগ প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
যৌন অক্ষমতা: ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা অকাল বীর্যপাত যৌনক্রিয়া ও গর্ভধারণের সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ভ্যারিকোসিল (Varicocele): অণ্ডথলির প্রসারিত শিরা স্থানীয় তাপমাত্রা ও রক্তপ্রবাহে প্রভাব ফেলে এবং বন্ধ্যাত্ব মূল্যায়নকারী পুরুষদের মধ্যে এটি সাধারণ।
গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ভ্যারিকোসিল সর্বোচ্চ 15% পুরুষের এবং বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত পুরুষদের সর্বোচ্চ 40%-এর মধ্যে দেখা যায়। অস্ত্রোপচার প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে এখনও মতভেদ আছে।
জীবনযাপন ও পরিবেশগত কারণও শুক্রাণুর ক্ষতি করতে পারে
চিকিৎসাজনিত কারণের পাশাপাশি জীবনযাপন ও পরিবেশগত সংস্পর্শ শুক্রাণুর মানে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে:
তীব্র ব্যায়াম: অতিরিক্ত ব্যায়াম হরমোনের মাত্রায় ভারসাম্যহীনতা ঘটাতে পারে;
মানসিক চাপ ও স্থূলতা: এগুলো অন্তঃস্রাবী ব্যবস্থার অকার্যকারিতা ঘটাতে পারে;
মাদক ও অন্যান্য পদার্থ: মারিজুয়ানা, কোকেন, স্টেরয়েড, অ্যালকোহল ও সিগারেট শুক্রাণু উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে;
পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থ: কীটনাশক, সিসা, পারদ, তেজস্ক্রিয় পদার্থ ও ভারী ধাতু প্রজননব্যবস্থার ক্ষতি করতে পারে;
তাপের সংস্পর্শ: ঘন ঘন সনা ব্যবহার, গরম পানিতে গোসল, আঁটসাঁট প্যান্ট বা দীর্ঘক্ষণ সাইকেল চালালে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে সাময়িকভাবে শুক্রাণু উৎপাদন কমে যেতে পারে।
পুরুষের বন্ধ্যাত্বই শেষ কথা নয়: চিকিৎসার বিকল্প ক্রমেই উন্নত হচ্ছে
বন্ধ্যাত্বের নির্ণয় মানে কোনো বিকল্প নেই—এমন নয়। জীবনযাপনে পরিবর্তন, ওষুধ, ন্যূনতম আক্রমণাত্মক অস্ত্রোপচার এবং উন্নত সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি পিতৃত্বের পথে সহায়তা করতে পারে:
আচরণগত পরিবর্তন: যৌনমিলনের ঘনত্ব পরিবর্তন এবং জিংক ও ফলিক অ্যাসিডের মতো পুষ্টি উপাদান গ্রহণ শুক্রাণুর ঘনত্ব বাড়াতে পারে।
হরমোন থেরাপি: হরমোনের অস্বাভাবিকতা থাকলে চিকিৎসক হরমোন নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ দিতে পারেন।
বীর্যপাতের সমস্যার ওষুধ: সাধারণ সর্দির ওষুধ রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশনের মতো অবস্থায় সহায়তা করতে পারে।
জরায়ুর ভেতর শুক্রাণু প্রবেশ করানো (IUI) বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF): হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার পুরুষ-সংক্রান্ত বন্ধ্যাত্বে এগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন (ICSI): একটি শুক্রাণু সরাসরি ডিম্বাণুতে প্রবেশ করানো হয়, ফলে শুক্রাণুর সংখ্যা খুব কম হলেও নিষেকের চেষ্টা করা যায়।
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শুক্রাণু সংগ্রহ (TESA, MESA, TESE): অ্যাজুস্পার্মিয়ার ক্ষেত্রে IVF-এ ব্যবহারের জন্য অণ্ডকোষ থেকে সরাসরি শুক্রাণু সংগ্রহ করা যেতে পারে।
যদিও ডিম্বাণুর মান ও নারীর বয়সের মতো কারণ ফলাফল সীমিত করতে পারে, অনেক সহায়ক প্রজনন কেন্দ্রে পুরুষ-সংক্রান্ত বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় সাফল্যের হার 65% পর্যন্ত হতে পারে।
বন্ধ্যাত্বকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নারীর সমস্যা মনে করা উচিত নয়। পুরুষের প্রজননক্ষমতারও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও গুরুত্ব প্রাপ্য। নিয়মতান্ত্রিক পরীক্ষা ও বিভিন্ন চিকিৎসার মাধ্যমে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রায়ই মোকাবিলা করা যায়।
তথ্যের উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত