প্রত্যেক মায়ের স্তন্যদানের অভিজ্ঞতা অনন্য। কোনো এক সময় মা নিজের স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বা মানসিক কারণে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আপনি ও আপনার শিশুর জন্য বুকের দুধ ছাড়ানোই সেরা সিদ্ধান্ত মনে হলে, ধীরে ধীরে দুধ উৎপাদন কমিয়ে শেষে বন্ধ করার কয়েকটি উপায় রয়েছে।
স্তন্যদান বন্ধ হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। দুধ শুকিয়ে যেতে কত সময় লাগবে, তা শিশুর বয়স ও মায়ের দুধের সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এই প্রক্রিয়ায় কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসও লাগতে পারে।
সম্ভব হলে মা ও শিশুর শারীরিক ও মানসিক চাপ কমাতে বিশেষজ্ঞরা ধীরে ধীরে বুকের দুধ ছাড়ানোর পরামর্শ দেন। তবে স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ, কাজের সময়সূচি বা অন্য ব্যক্তিগত কারণে কিছু মাকে দ্রুত বা হঠাৎ বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করতে হতে পারে। কারণ যাই হোক, দুধ উৎপাদন কমানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পদ্ধতি 1: বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করুন
সবচেয়ে সরাসরি পদ্ধতি হলো ধীরে ধীরে খাওয়ানো বন্ধ করা। শিশুর চোষার উদ্দীপনা না থাকলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই স্তন্যদান-সহায়ক হরমোন কমিয়ে দেয় এবং ধীরে ধীরে দুধ উৎপাদন বন্ধ করে। সুপারিশকৃত পদক্ষেপগুলো হলো:
ভালো সমর্থন দেয় এমন ব্রা পরুন
বুকের দুধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ধীরে ধীরে খাওয়ানোর সংখ্যা কমান
স্তন ফুলে যাওয়া ও ব্যথা কমাতে বরফের প্যাকের মতো ঠান্ডা সেঁক ব্যবহার করুন
প্রয়োজনে ভারীভাব কমাতে হাতে অল্প দুধ বের করে নিন
পদ্ধতি 2: স্তন্যদান দমনে ভেষজ ব্যবহার করুন
কিছু ভেষজ দুধ উৎপাদন কমাতে পারে বলে মনে করা হয়, যেমন:
সেজ চা: শুকনো সেজ পাতার 1 থেকে 3 গ্রাম দিয়ে চা তৈরি করুন
জুঁই ফুল: স্তনে জুঁই ফুল রাখুন
চেস্টবেরি (Sauzgatillo): মুখে সেবন করুন
পার্সলি: খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন
পেপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল: বুকের দুধ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পরেই শুধু ত্বকে লাগান; অন্যথায় শিশুর বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে
যেকোনো ভেষজ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং শিশুর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বা আচরণগত পরিবর্তন সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।
পদ্ধতি 3: বাঁধাকপির পাতা ব্যবহার করুন
ঠান্ডা বাঁধাকপির পাতা স্তন ফুলে যাওয়া ও অস্বস্তি কমাতে পারে। ব্যবহারের নিয়ম:
সবুজ বাঁধাকপির পাতা ধুয়ে ফ্রিজে রাখুন
ঠান্ডা পাতাগুলো ব্রার ভেতরে স্তনের সঙ্গে সরাসরি লাগিয়ে রাখুন
প্রতি কয়েক ঘণ্টা পর তাজা পাতা দিয়ে বদলে দিন
পদ্ধতি 4: ইস্ট্রোজেনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করুন
ইস্ট্রোজেনযুক্ত সম্মিলিত মুখে খাওয়ার গর্ভনিরোধক দুধ উৎপাদন দমনে সাহায্য করতে পারে। ব্যবহারের এক সপ্তাহ পর অধিকাংশ নারী দুধের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া লক্ষ্য করেন।
দ্রষ্টব্য: এই পদ্ধতি কেবল চিকিৎসকের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করুন।
পদ্ধতি 5: সর্দির ওষুধ Sudafed (Pseudoephedrine) ব্যবহার করুন
Sudafed একটি প্রচলিত ওভার-দ্য-কাউন্টার নাক বন্ধভাব কমানোর ওষুধ। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি দুধের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। উদ্বেগ ও অনিদ্রার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে চিকিৎসকের পরামর্শে সতর্কতার সঙ্গে এটি ব্যবহার করতে হবে।
পদ্ধতি 6: ভিটামিন B সেবন করুন
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীর এখনও স্তন্যদান শুরু হয়নি, তাদের দুধ উৎপাদন দমনে B ভিটামিন সাহায্য করতে পারে। নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করতে ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
কখন পেশাদার সহায়তা নেবেন?
বুকের দুধ ছাড়ানোর সময় সামান্য অস্বস্তি স্বাভাবিক। তীব্র ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী স্তনস্ফীতি, জ্বর বা অন্য গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসক বা স্তন্যদান পরামর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
হঠাৎ বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করলে বিশেষভাবে এসব ঝুঁকি বাড়তে পারে:
দুধনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া: লক্ষণের মধ্যে স্তনে ব্যথা, উষ্ণতা বা নির্দিষ্ট স্থানে লালচে ভাব ও ফোলা রয়েছে। হালকা ম্যাসাজ এবং পালাক্রমে গরম ও ঠান্ডা সেঁক উপকারী হতে পারে
মাস্টাইটিস: প্রায়ই বন্ধ দুধনালির কারণে হয়; লক্ষণের মধ্যে লালচে ভাব, ফোলা, জ্বর ও ফ্লুর মতো উপসর্গ রয়েছে। সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা প্রয়োজন হয়
অবস্থা খারাপ হওয়া ঠেকাতে এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গাইড | নিরাপদভাবে বুকের দুধ ছাড়ানো: দুধ উৎপাদন কমানোর বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
গাইড | নিরাপদভাবে বুকের দুধ ছাড়ানো: দুধ উৎপাদন কমানোর বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
প্রত্যেক মায়ের স্তন্যদানের অভিজ্ঞতা অনন্য। কোনো এক সময় মা নিজের স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বা মানসিক কারণে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আপনি ও আপনার শিশুর জন্য বুকের দুধ ছাড়ানোই সেরা সিদ্ধান্ত মনে হলে, ধীরে ধীরে দুধ উৎপাদন কমিয়ে শেষে বন্ধ করার কয়েকটি উপায় রয়েছে।
স্তন্যদান বন্ধ হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। দুধ শুকিয়ে যেতে কত সময় লাগবে, তা শিশুর বয়স ও মায়ের দুধের সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এই প্রক্রিয়ায় কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসও লাগতে পারে।
সম্ভব হলে মা ও শিশুর শারীরিক ও মানসিক চাপ কমাতে বিশেষজ্ঞরা ধীরে ধীরে বুকের দুধ ছাড়ানোর পরামর্শ দেন। তবে স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ, কাজের সময়সূচি বা অন্য ব্যক্তিগত কারণে কিছু মাকে দ্রুত বা হঠাৎ বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করতে হতে পারে। কারণ যাই হোক, দুধ উৎপাদন কমানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পদ্ধতি 1: বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করুন
সবচেয়ে সরাসরি পদ্ধতি হলো ধীরে ধীরে খাওয়ানো বন্ধ করা। শিশুর চোষার উদ্দীপনা না থাকলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই স্তন্যদান-সহায়ক হরমোন কমিয়ে দেয় এবং ধীরে ধীরে দুধ উৎপাদন বন্ধ করে। সুপারিশকৃত পদক্ষেপগুলো হলো:
ভালো সমর্থন দেয় এমন ব্রা পরুন
বুকের দুধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ধীরে ধীরে খাওয়ানোর সংখ্যা কমান
স্তন ফুলে যাওয়া ও ব্যথা কমাতে বরফের প্যাকের মতো ঠান্ডা সেঁক ব্যবহার করুন
প্রয়োজনে ভারীভাব কমাতে হাতে অল্প দুধ বের করে নিন
পদ্ধতি 2: স্তন্যদান দমনে ভেষজ ব্যবহার করুন
কিছু ভেষজ দুধ উৎপাদন কমাতে পারে বলে মনে করা হয়, যেমন:
সেজ চা: শুকনো সেজ পাতার 1 থেকে 3 গ্রাম দিয়ে চা তৈরি করুন
জুঁই ফুল: স্তনে জুঁই ফুল রাখুন
চেস্টবেরি (Sauzgatillo): মুখে সেবন করুন
পার্সলি: খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন
পেপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল: বুকের দুধ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পরেই শুধু ত্বকে লাগান; অন্যথায় শিশুর বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে
যেকোনো ভেষজ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং শিশুর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বা আচরণগত পরিবর্তন সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।
পদ্ধতি 3: বাঁধাকপির পাতা ব্যবহার করুন
ঠান্ডা বাঁধাকপির পাতা স্তন ফুলে যাওয়া ও অস্বস্তি কমাতে পারে। ব্যবহারের নিয়ম:
সবুজ বাঁধাকপির পাতা ধুয়ে ফ্রিজে রাখুন
ঠান্ডা পাতাগুলো ব্রার ভেতরে স্তনের সঙ্গে সরাসরি লাগিয়ে রাখুন
প্রতি কয়েক ঘণ্টা পর তাজা পাতা দিয়ে বদলে দিন
পদ্ধতি 4: ইস্ট্রোজেনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করুন
ইস্ট্রোজেনযুক্ত সম্মিলিত মুখে খাওয়ার গর্ভনিরোধক দুধ উৎপাদন দমনে সাহায্য করতে পারে। ব্যবহারের এক সপ্তাহ পর অধিকাংশ নারী দুধের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া লক্ষ্য করেন।
দ্রষ্টব্য: এই পদ্ধতি কেবল চিকিৎসকের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করুন।
পদ্ধতি 5: সর্দির ওষুধ Sudafed (Pseudoephedrine) ব্যবহার করুন
Sudafed একটি প্রচলিত ওভার-দ্য-কাউন্টার নাক বন্ধভাব কমানোর ওষুধ। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি দুধের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। উদ্বেগ ও অনিদ্রার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে চিকিৎসকের পরামর্শে সতর্কতার সঙ্গে এটি ব্যবহার করতে হবে।
পদ্ধতি 6: ভিটামিন B সেবন করুন
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীর এখনও স্তন্যদান শুরু হয়নি, তাদের দুধ উৎপাদন দমনে B ভিটামিন সাহায্য করতে পারে। নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করতে ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
কখন পেশাদার সহায়তা নেবেন?
বুকের দুধ ছাড়ানোর সময় সামান্য অস্বস্তি স্বাভাবিক। তীব্র ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী স্তনস্ফীতি, জ্বর বা অন্য গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসক বা স্তন্যদান পরামর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
হঠাৎ বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করলে বিশেষভাবে এসব ঝুঁকি বাড়তে পারে:
দুধনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া: লক্ষণের মধ্যে স্তনে ব্যথা, উষ্ণতা বা নির্দিষ্ট স্থানে লালচে ভাব ও ফোলা রয়েছে। হালকা ম্যাসাজ এবং পালাক্রমে গরম ও ঠান্ডা সেঁক উপকারী হতে পারে
মাস্টাইটিস: প্রায়ই বন্ধ দুধনালির কারণে হয়; লক্ষণের মধ্যে লালচে ভাব, ফোলা, জ্বর ও ফ্লুর মতো উপসর্গ রয়েছে। সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা প্রয়োজন হয়
অবস্থা খারাপ হওয়া ঠেকাতে এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
উৎস:
অনলাইন সূত্র থেকে সংকলিত