সংবাদ | পুরুষের উর্বরতার ওপর স্থূলতার নেতিবাচক প্রভাব উপেক্ষা করা যায় না
Aspects of Molecular Medicine জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা নিবন্ধে পুরুষের প্রজননতন্ত্রের ওপর স্থূলতার প্রভাব সম্পর্কিত বর্তমান প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের পুরুষ-বন্ধ্যাত্বে অবদান রাখা আণবিক প্রক্রিয়াগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
পটভূমি ও ভূমিকা
বিশ্বজুড়ে পুরুষের বন্ধ্যাত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে স্থূলতাকে বিবেচনা করা হয়। গর্ভকাল থেকেই অতিরিক্ত ওজন অণ্ডকোষের বিকাশ ও কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। সাম্প্রতিক প্রমাণে আরও দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের শুক্রাণুর বিভিন্ন সূচক স্থূলতার কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে একশ কোটির বেশি মানুষ স্থূলতায় ভুগছেন। বিশ্বব্যাপী স্থূলতার হার বাড়তে থাকায় স্থূলতা ও পুরুষের প্রজননজনিত অক্ষমতার সম্পর্ক সঠিকভাবে বোঝা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুরুষের বন্ধ্যাত্বে স্থূলতার প্রভাব
30 kg/m² বা তার বেশি বডি মাস ইনডেক্স (BMI)-কে স্থূলতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। পুরুষদের শরীরে চর্বির পরিমাণ 25%-এর বেশি এবং নারীদের 30%-এর বেশি হলেও তাকে স্থূলতা বলা হয়, যদিও স্থূলতা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এগুলোর সঙ্গে BMI-এর সম্পর্ক প্রায়ই দুর্বল।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূল পুরুষ সঙ্গী থাকা দম্পতিদের মধ্যে পুরুষের স্থূলতা বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। তবে প্রচলিত শুক্রাণু-সূচকের ওপর স্থূলতার সরাসরি প্রভাব নিয়ে গবেষণার ফল মিশ্র বা পরস্পরবিরোধী। কিছু গবেষণায় দেখা যায়, স্থূলতা শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন ও গতিশীলতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না; অন্যদিকে কিছু মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্থূলতা মোট শুক্রাণু সংখ্যা, শুক্রাণুর ঘনত্ব, বীর্যের পরিমাণ, শুক্রাণুর জীবনীশক্তি এবং মোট শুক্রাণু গতিশীলতা কমায়।
সাম্প্রতিক একটি মেটা-বিশ্লেষণ গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূলতা মোট শুক্রাণু সংখ্যা, শুক্রাণুর ঘনত্ব এবং অগ্রগামী ও মোট শুক্রাণু গতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। এছাড়া স্থূলতা হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজম সৃষ্টি করে সামগ্রিক শুক্রাণুর মানকে প্রভাবিত করে, অর্থাৎ পুরুষ যৌন হরমোনের উৎপাদন কমে যায়।
স্থূলতাজনিত পুরুষ-বন্ধ্যাত্বের প্রক্রিয়া
স্থূলতাজনিত হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজম অতিরিক্ত ভিসেরাল চর্বির কারণে হতে পারে। হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজমে অ্যাডিপোসাইটের মাধ্যমে টেস্টোস্টেরন 17-বিটা-ইস্ট্রাডিওলে অতিরিক্ত রূপান্তর ঘটে, যা যকৃত থেকে যৌন হরমোন-বাইন্ডিং গ্লোবিউলিনের নিঃসরণ আরও বাড়ায়। এই প্রোটিন টেস্টোস্টেরনের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে এর জৈবিক কার্যকারিতা কমাতে পারে। এছাড়া টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলেও শরীরে চর্বি জমা বাড়ে।
টেস্টোস্টেরনের নিম্নমাত্রা সার্টোলি কোষ ও স্পার্মাটোগোনিয়াল স্টেম কোষের বিস্তার ও বিভেদে বাধা দেয়, ফলে শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হয়। রক্তে ইস্ট্রোজেনের উচ্চমাত্রা ল্যাকটেটের নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত করে পুরুষের প্রজননতন্ত্রকে আরও প্রভাবিত করতে পারে; ল্যাকটেট জননকোষের জন্য অপরিহার্য উপাদান। এটি রক্ত-অণ্ডকোষ বাধার অখণ্ডতাও নষ্ট করতে পারে।
উপসংহার
সারসংক্ষেপে, এই গবেষণায় স্থূলতা, অতিরিক্ত ওজন ও কমে যাওয়া শুক্রাণুর মানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে; দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির স্থূলতায় আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক বিশেষভাবে স্পষ্ট। শুক্রাণুর মান ও পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য উন্নত করতে স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখার গুরুত্ব এসব ফলাফলে জোরালোভাবে উঠে এসেছে। ভবিষ্যৎ গবেষণায় আরও বিস্তৃত সূচক ব্যবহার করে পুরুষের প্রজননে স্থূলতার প্রভাব পরীক্ষা করা উচিত।
সংবাদ | পুরুষের উর্বরতার ওপর স্থূলতার নেতিবাচক প্রভাব উপেক্ষা করা যায় না
সংবাদ | পুরুষের উর্বরতার ওপর স্থূলতার নেতিবাচক প্রভাব উপেক্ষা করা যায় না
Aspects of Molecular Medicine জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা নিবন্ধে পুরুষের প্রজননতন্ত্রের ওপর স্থূলতার প্রভাব সম্পর্কিত বর্তমান প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের পুরুষ-বন্ধ্যাত্বে অবদান রাখা আণবিক প্রক্রিয়াগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
পটভূমি ও ভূমিকা
বিশ্বজুড়ে পুরুষের বন্ধ্যাত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে স্থূলতাকে বিবেচনা করা হয়। গর্ভকাল থেকেই অতিরিক্ত ওজন অণ্ডকোষের বিকাশ ও কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। সাম্প্রতিক প্রমাণে আরও দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের শুক্রাণুর বিভিন্ন সূচক স্থূলতার কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে একশ কোটির বেশি মানুষ স্থূলতায় ভুগছেন। বিশ্বব্যাপী স্থূলতার হার বাড়তে থাকায় স্থূলতা ও পুরুষের প্রজননজনিত অক্ষমতার সম্পর্ক সঠিকভাবে বোঝা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুরুষের বন্ধ্যাত্বে স্থূলতার প্রভাব
30 kg/m² বা তার বেশি বডি মাস ইনডেক্স (BMI)-কে স্থূলতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। পুরুষদের শরীরে চর্বির পরিমাণ 25%-এর বেশি এবং নারীদের 30%-এর বেশি হলেও তাকে স্থূলতা বলা হয়, যদিও স্থূলতা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এগুলোর সঙ্গে BMI-এর সম্পর্ক প্রায়ই দুর্বল।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূল পুরুষ সঙ্গী থাকা দম্পতিদের মধ্যে পুরুষের স্থূলতা বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। তবে প্রচলিত শুক্রাণু-সূচকের ওপর স্থূলতার সরাসরি প্রভাব নিয়ে গবেষণার ফল মিশ্র বা পরস্পরবিরোধী। কিছু গবেষণায় দেখা যায়, স্থূলতা শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন ও গতিশীলতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না; অন্যদিকে কিছু মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্থূলতা মোট শুক্রাণু সংখ্যা, শুক্রাণুর ঘনত্ব, বীর্যের পরিমাণ, শুক্রাণুর জীবনীশক্তি এবং মোট শুক্রাণু গতিশীলতা কমায়।
সাম্প্রতিক একটি মেটা-বিশ্লেষণ গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূলতা মোট শুক্রাণু সংখ্যা, শুক্রাণুর ঘনত্ব এবং অগ্রগামী ও মোট শুক্রাণু গতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। এছাড়া স্থূলতা হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজম সৃষ্টি করে সামগ্রিক শুক্রাণুর মানকে প্রভাবিত করে, অর্থাৎ পুরুষ যৌন হরমোনের উৎপাদন কমে যায়।
স্থূলতাজনিত পুরুষ-বন্ধ্যাত্বের প্রক্রিয়া
স্থূলতাজনিত হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজম অতিরিক্ত ভিসেরাল চর্বির কারণে হতে পারে। হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজমে অ্যাডিপোসাইটের মাধ্যমে টেস্টোস্টেরন 17-বিটা-ইস্ট্রাডিওলে অতিরিক্ত রূপান্তর ঘটে, যা যকৃত থেকে যৌন হরমোন-বাইন্ডিং গ্লোবিউলিনের নিঃসরণ আরও বাড়ায়। এই প্রোটিন টেস্টোস্টেরনের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে এর জৈবিক কার্যকারিতা কমাতে পারে। এছাড়া টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলেও শরীরে চর্বি জমা বাড়ে।
টেস্টোস্টেরনের নিম্নমাত্রা সার্টোলি কোষ ও স্পার্মাটোগোনিয়াল স্টেম কোষের বিস্তার ও বিভেদে বাধা দেয়, ফলে শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হয়। রক্তে ইস্ট্রোজেনের উচ্চমাত্রা ল্যাকটেটের নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত করে পুরুষের প্রজননতন্ত্রকে আরও প্রভাবিত করতে পারে; ল্যাকটেট জননকোষের জন্য অপরিহার্য উপাদান। এটি রক্ত-অণ্ডকোষ বাধার অখণ্ডতাও নষ্ট করতে পারে।
উপসংহার
সারসংক্ষেপে, এই গবেষণায় স্থূলতা, অতিরিক্ত ওজন ও কমে যাওয়া শুক্রাণুর মানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে; দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির স্থূলতায় আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক বিশেষভাবে স্পষ্ট। শুক্রাণুর মান ও পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য উন্নত করতে স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখার গুরুত্ব এসব ফলাফলে জোরালোভাবে উঠে এসেছে। ভবিষ্যৎ গবেষণায় আরও বিস্তৃত সূচক ব্যবহার করে পুরুষের প্রজননে স্থূলতার প্রভাব পরীক্ষা করা উচিত।
সংবাদের উৎস:
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত