গাইড | প্রসববেদনার সময় কি খাওয়া যায়? সর্বশেষ গবেষণা কী বলছে
দীর্ঘ প্রসববেদনার সময় গর্ভবতী নারীদের বড় ধরনের শারীরিক চাপের পাশাপাশি খাবার গ্রহণে নানা বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয়। চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে প্রসববেদনার সময় খাওয়া ও পান করার নিয়ম ধীরে ধীরে নমনীয় হয়েছে, ফলে রোগীদের বিকল্প বেড়েছে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যানেস্থেশিয়ার উন্নতির ফলে প্রসববেদনার সময় খাওয়া বা পান করার ঝুঁকি অনেক কমেছে। বিশেষ করে কম ঝুঁকির গর্ভাবস্থায় পরিমিত খাবার গ্রহণ শক্তি বজায় রাখতে এবং প্রসবের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। ফুসফুসে খাবার ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কায় একসময় খাবার ও পানীয় কঠোরভাবে সীমিত রাখা হতো, তবে এখন এসব নিয়ম শিথিল করা হচ্ছে।
পটভূমি: প্রসববেদনার সময় খাওয়া কেন সীমিত ছিল
1940-এর দশকে এই বিধিনিষেধ শুরু হয়, যখন চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করতেন যে সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়ার অধীনে থাকা গর্ভবতী নারীদের খাবার ফুসফুসে ঢুকে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। ঝুঁকি কমাতে প্রসবরত রোগীদের সাধারণত বরফের টুকরো বা পানিতে সীমাবদ্ধ রাখা হতো। অ্যানেস্থেশিয়ার উন্নতি, বিশেষ করে এপিডিউরাল ও স্পাইনাল অ্যানেস্থেশিয়ার মতো আঞ্চলিক অ্যানেস্থেশিয়ার ব্যাপক ব্যবহারের ফলে সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়ার প্রয়োজন কমেছে এবং খাবার ফুসফুসে ঢোকার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
আধুনিক গবেষণা: পরিমিত খাবার গ্রহণের পক্ষে প্রমাণ
আমেরিকান সোসাইটি অব অ্যানেস্থেশিওলজিস্টস প্রকাশিত 2015 সালের একটি গবেষণায় জানানো হয়েছে, সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়ার ব্যবহার কমে যাওয়ায় প্রসবের সময় খাবার ফুসফুসে ঢোকার ঘটনা অত্যন্ত বিরল হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে সুস্থ ও কম ঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে। তাই আরও বেশি হাসপাতাল প্রসববেদনার সময় খাওয়ার বিধিনিষেধ শিথিল করেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, প্রসববেদনার সময় পরিমিত খাবার ও তরল গ্রহণের অনুমতি দিলে জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে না; বরং প্রসবের সময় কমতে এবং আরাম বাড়তে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বরফের টুকরোয় সীমিত থাকা রোগীদের তুলনায় খাওয়ার অনুমতি পাওয়া রোগীদের অপরিকল্পিত সিজারিয়ান প্রসব কম হয়েছে এবং প্রসবের জন্য তাদের শক্তিও বেশি ছিল।
প্রসববেদনার সময় খাবার ও পানীয়
আপনার গর্ভাবস্থা কম ঝুঁকির হলে চিকিৎসক পরিমিত খাবার ও তরল গ্রহণের অনুমতি দিতে পারেন। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নিন, যেমন:
পানি
চা
স্বচ্ছ স্যুপ
গ্যাসযুক্ত পানি
প্রসবের প্রাথমিক পর্যায়ে ফল বা টোস্টের মতো হালকা খাবারও অল্প পরিমাণে খেতে পারেন। পেটে অস্বস্তি কমাতে তীব্র স্বাদের ও বেশি চর্বিযুক্ত খাবার, যেমন মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য, সাধারণত এড়িয়ে চলা ভালো।
কখন খাওয়া উপযুক্ত নাও হতে পারে
উচ্চ ঝুঁকির গর্ভাবস্থায় বা জরুরি সিজারিয়ান প্রসবের প্রয়োজন হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা সাধারণত উপবাসের পরামর্শ দেন। এর মধ্যে পরিকল্পিত সিজারিয়ান প্রসব, আগের সিজারিয়ান প্রসব, একাধিক ভ্রূণের গর্ভাবস্থা বা গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত স্বাস্থ্যসমস্যা থাকা রোগীরা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন। এসব পরিস্থিতিতে খাওয়া অস্ত্রোপচার বা সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়া-সম্পর্কিত ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই চিকিৎসকের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ অপরিহার্য
আপনার জন্য প্রসববেদনার সময় খাওয়া উপযুক্ত কি না তা নির্ধারণ করতে প্রসব পরিকল্পনা তৈরির সময় চিকিৎসকের সঙ্গে খাবার ও পানীয় নিয়ে আলোচনা করুন। হাসপাতালের নীতি ভিন্ন হতে পারে, তাই আগে থেকেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম জেনে নিন।
আপনার পরিস্থিতির উপযোগী প্রসব পরিকল্পনা তৈরিতে চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করলে প্রসব আরও স্বচ্ছন্দ ও আরামদায়ক হতে পারে।
গাইড | প্রসববেদনার সময় কি খাওয়া যায়? সর্বশেষ গবেষণা কী বলছে
গাইড | প্রসববেদনার সময় কি খাওয়া যায়? সর্বশেষ গবেষণা কী বলছে
দীর্ঘ প্রসববেদনার সময় গর্ভবতী নারীদের বড় ধরনের শারীরিক চাপের পাশাপাশি খাবার গ্রহণে নানা বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয়। চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে প্রসববেদনার সময় খাওয়া ও পান করার নিয়ম ধীরে ধীরে নমনীয় হয়েছে, ফলে রোগীদের বিকল্প বেড়েছে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যানেস্থেশিয়ার উন্নতির ফলে প্রসববেদনার সময় খাওয়া বা পান করার ঝুঁকি অনেক কমেছে। বিশেষ করে কম ঝুঁকির গর্ভাবস্থায় পরিমিত খাবার গ্রহণ শক্তি বজায় রাখতে এবং প্রসবের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। ফুসফুসে খাবার ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কায় একসময় খাবার ও পানীয় কঠোরভাবে সীমিত রাখা হতো, তবে এখন এসব নিয়ম শিথিল করা হচ্ছে।
পটভূমি: প্রসববেদনার সময় খাওয়া কেন সীমিত ছিল
1940-এর দশকে এই বিধিনিষেধ শুরু হয়, যখন চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করতেন যে সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়ার অধীনে থাকা গর্ভবতী নারীদের খাবার ফুসফুসে ঢুকে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। ঝুঁকি কমাতে প্রসবরত রোগীদের সাধারণত বরফের টুকরো বা পানিতে সীমাবদ্ধ রাখা হতো। অ্যানেস্থেশিয়ার উন্নতি, বিশেষ করে এপিডিউরাল ও স্পাইনাল অ্যানেস্থেশিয়ার মতো আঞ্চলিক অ্যানেস্থেশিয়ার ব্যাপক ব্যবহারের ফলে সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়ার প্রয়োজন কমেছে এবং খাবার ফুসফুসে ঢোকার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
আধুনিক গবেষণা: পরিমিত খাবার গ্রহণের পক্ষে প্রমাণ
আমেরিকান সোসাইটি অব অ্যানেস্থেশিওলজিস্টস প্রকাশিত 2015 সালের একটি গবেষণায় জানানো হয়েছে, সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়ার ব্যবহার কমে যাওয়ায় প্রসবের সময় খাবার ফুসফুসে ঢোকার ঘটনা অত্যন্ত বিরল হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে সুস্থ ও কম ঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে। তাই আরও বেশি হাসপাতাল প্রসববেদনার সময় খাওয়ার বিধিনিষেধ শিথিল করেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, প্রসববেদনার সময় পরিমিত খাবার ও তরল গ্রহণের অনুমতি দিলে জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে না; বরং প্রসবের সময় কমতে এবং আরাম বাড়তে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বরফের টুকরোয় সীমিত থাকা রোগীদের তুলনায় খাওয়ার অনুমতি পাওয়া রোগীদের অপরিকল্পিত সিজারিয়ান প্রসব কম হয়েছে এবং প্রসবের জন্য তাদের শক্তিও বেশি ছিল।
প্রসববেদনার সময় খাবার ও পানীয়
আপনার গর্ভাবস্থা কম ঝুঁকির হলে চিকিৎসক পরিমিত খাবার ও তরল গ্রহণের অনুমতি দিতে পারেন। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নিন, যেমন:
পানি
চা
স্বচ্ছ স্যুপ
গ্যাসযুক্ত পানি
প্রসবের প্রাথমিক পর্যায়ে ফল বা টোস্টের মতো হালকা খাবারও অল্প পরিমাণে খেতে পারেন। পেটে অস্বস্তি কমাতে তীব্র স্বাদের ও বেশি চর্বিযুক্ত খাবার, যেমন মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য, সাধারণত এড়িয়ে চলা ভালো।
কখন খাওয়া উপযুক্ত নাও হতে পারে
উচ্চ ঝুঁকির গর্ভাবস্থায় বা জরুরি সিজারিয়ান প্রসবের প্রয়োজন হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা সাধারণত উপবাসের পরামর্শ দেন। এর মধ্যে পরিকল্পিত সিজারিয়ান প্রসব, আগের সিজারিয়ান প্রসব, একাধিক ভ্রূণের গর্ভাবস্থা বা গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত স্বাস্থ্যসমস্যা থাকা রোগীরা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন। এসব পরিস্থিতিতে খাওয়া অস্ত্রোপচার বা সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়া-সম্পর্কিত ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই চিকিৎসকের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ অপরিহার্য
আপনার জন্য প্রসববেদনার সময় খাওয়া উপযুক্ত কি না তা নির্ধারণ করতে প্রসব পরিকল্পনা তৈরির সময় চিকিৎসকের সঙ্গে খাবার ও পানীয় নিয়ে আলোচনা করুন। হাসপাতালের নীতি ভিন্ন হতে পারে, তাই আগে থেকেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম জেনে নিন।
আপনার পরিস্থিতির উপযোগী প্রসব পরিকল্পনা তৈরিতে চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করলে প্রসব আরও স্বচ্ছন্দ ও আরামদায়ক হতে পারে।
উৎস:
অনলাইন উৎস থেকে সংকলিত