জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো: যা জানা দরকার
অনেক মায়ের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো একই সময়ে চলতে পারে, তবে এতে নানা প্রশ্ন ওঠে। বুকের দুধ খাওয়ানো গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে বলে মনে করা হলেও, দুধ খাওয়ানোর সময়ও মা গর্ভবতী হতে পারেন। তাই বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া গর্ভবতী মায়েদের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও ঝুঁকি সম্পর্কে জানা উচিত।
বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কি ডিম্বস্ফোটন হয়?
বেশিরভাগ নারীর প্রসবের পর ছয় সপ্তাহের মধ্যে ডিম্বস্ফোটন হয় না এবং বুকের দুধ খাওয়ানো ডিম্বস্ফোটন বিলম্বিত করতে পারে। সময়টি মা কত ঘন ঘন শিশুকে দুধ খাওয়ান তার ওপর নির্ভর করে। ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ালে কয়েক মাস, এমনকি এক বছর পর্যন্ত ডিম্বস্ফোটন বিলম্বিত হতে পারে। এটি প্রাকৃতিক, স্বল্পমেয়াদি গর্ভনিরোধের একটি পদ্ধতি হতে পারে, তবে কেবল একচেটিয়া ও ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ালে কার্যকর। দিনে দুধ খাওয়ানোর মধ্যবর্তী বিরতি চার ঘণ্টার কম এবং রাতে ছয় ঘণ্টার কম হওয়া উচিত।
বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ হলে প্রসবের তিন সপ্তাহ পরও ডিম্বস্ফোটন শুরু হতে পারে, ফলে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া কি নিরাপদ?
অনেকে আশঙ্কা করেন, গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ালে ভ্রূণের ক্ষতি হতে পারে। গবেষণা বলছে, জটিলতাহীন গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া নিরাপদ এবং মা, ভ্রূণ বা দুধপানকারী শিশুর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে না। তবু মায়ের পর্যাপ্ত পুষ্টিকর ক্যালরি ও তরল গ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত।
বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কিছু পরিবর্তন হতে পারে এবং দুধপানকারী শিশু বুকের দুধে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারে:
জরায়ুর সংকোচন: বুকের দুধ খাওয়ালে অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয়, যা দুধ প্রবাহে সহায়তা করে এবং হালকা জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে। জটিলতাহীন গর্ভাবস্থায় সাধারণত এটি উদ্বেগের কারণ নয়, তবে উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থায় চিকিৎসক বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার পরামর্শ দিতে পারেন।
বুকের দুধে পরিবর্তন: গর্ভাবস্থায় বুকের দুধের গঠন, পরিমাণ, ঘনত্ব ও স্বাদ বদলাতে পারে। স্বাদ নোনতা হতে পারে এবং গর্ভাবস্থা এগোনোর সঙ্গে দুধের পরিমাণ কমতে পারে, ফলে বড় শিশুটি স্বাভাবিকভাবেই কম দুধ খেতে চাইতে পারে।
শারীরিক অস্বস্তি: গর্ভাবস্থার শুরুতে মায়ের স্তনবৃন্ত সংবেদনশীল ও স্তনে ব্যথা হতে পারে। মর্নিং সিকনেসে খাবার ও তরল গ্রহণ কমে গেলে দুধ খাওয়ানোর সময় অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ালে শারীরিক ও পুষ্টিগত চাহিদা বাড়তে পারে, যা ভ্রূণের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে—যেমন প্লাসেন্টায় রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া, ভ্রূণের ধীর বৃদ্ধি, কম জন্ম-ওজন, গর্ভপাত বা মৃত সন্তান প্রসব।
কখন বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা উচিত?
নিচের পরিস্থিতিতে চিকিৎসক গর্ভবতী মাকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে বড় শিশুকে ধীরে ধীরে দুধ ছাড়ানোর পরামর্শ দিতে পারেন:
গর্ভাবস্থার শুরুতে বেদনাদায়ক উপসর্গ
গর্ভপাতের ইতিহাস
আগের গর্ভাবস্থায় রক্তপাত
আগে সময়ের আগে প্রসব
বর্তমান গর্ভাবস্থায় সময়ের আগে প্রসবের ঝুঁকি
গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ
গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করুন:
স্তনের অস্বস্তি কমাতে ব্যথা উপশমের ব্যবস্থা বা উষ্ণ সেঁক ব্যবহার করুন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় ক্লান্তি হলে।
ঘরের কাজ বা শিশুর যত্নে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিন।
পানিশূন্যতা রোধে কফি ও এনার্জি ড্রিংক এড়িয়ে চলুন।
বমিভাব কমাতে ও দুধের সরবরাহ বজায় রাখতে নিয়মিত খাবার ও পানীয় গ্রহণ করুন।
প্রয়োজনে নিরাপদ, চিনি-বিহীন পানীয় দিয়ে শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখুন।
মা ও শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে এমন স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
আরামদায়কভাবে দুধ খাওয়ানোর জন্য বড় শিশুর অবস্থান বদলান।
নবজাতক আসার পর বুকের দুধ খাওয়ানো
নবজাতক জন্মের পর মা বড় শিশুকেও দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে পারেন, যাকে ট্যান্ডেম নার্সিং বলা হয়। এ সময় বুকের দুধ ঘন ও হলুদ হয়ে যায় এবং নবজাতকের উপযোগী পুষ্টি ও ক্যালরি থাকে। তবে এতে বড় শিশুর ডায়রিয়া হতে পারে।
দুধ ছাড়ানো হলো শিশুকে অন্যান্য খাবারে অভ্যস্ত করার প্রক্রিয়া। প্রস্তুত হলে বড় শিশুকে ধীরে ধীরে দুধ ছাড়ানো যায়; গর্ভাবস্থাজনিত পরিবর্তনও স্বাভাবিকভাবে শিশুর বুকের দুধের আকাঙ্ক্ষা কমাতে পারে।
অন্যান্য বিবেচনা
গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে চিকিৎসক বা স্তন্যদান পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করলে মা ও ভ্রূণের জন্য সিদ্ধান্তটি নিরাপদ কি না নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ও পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরামর্শ পাওয়া যায়।
গাইড | গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো: যা জানা দরকার
জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো: যা জানা দরকার
অনেক মায়ের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো একই সময়ে চলতে পারে, তবে এতে নানা প্রশ্ন ওঠে। বুকের দুধ খাওয়ানো গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে বলে মনে করা হলেও, দুধ খাওয়ানোর সময়ও মা গর্ভবতী হতে পারেন। তাই বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া গর্ভবতী মায়েদের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও ঝুঁকি সম্পর্কে জানা উচিত।
বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কি ডিম্বস্ফোটন হয়?
বেশিরভাগ নারীর প্রসবের পর ছয় সপ্তাহের মধ্যে ডিম্বস্ফোটন হয় না এবং বুকের দুধ খাওয়ানো ডিম্বস্ফোটন বিলম্বিত করতে পারে। সময়টি মা কত ঘন ঘন শিশুকে দুধ খাওয়ান তার ওপর নির্ভর করে। ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ালে কয়েক মাস, এমনকি এক বছর পর্যন্ত ডিম্বস্ফোটন বিলম্বিত হতে পারে। এটি প্রাকৃতিক, স্বল্পমেয়াদি গর্ভনিরোধের একটি পদ্ধতি হতে পারে, তবে কেবল একচেটিয়া ও ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ালে কার্যকর। দিনে দুধ খাওয়ানোর মধ্যবর্তী বিরতি চার ঘণ্টার কম এবং রাতে ছয় ঘণ্টার কম হওয়া উচিত।
বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ হলে প্রসবের তিন সপ্তাহ পরও ডিম্বস্ফোটন শুরু হতে পারে, ফলে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া কি নিরাপদ?
অনেকে আশঙ্কা করেন, গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ালে ভ্রূণের ক্ষতি হতে পারে। গবেষণা বলছে, জটিলতাহীন গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া নিরাপদ এবং মা, ভ্রূণ বা দুধপানকারী শিশুর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে না। তবু মায়ের পর্যাপ্ত পুষ্টিকর ক্যালরি ও তরল গ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত।
বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কিছু পরিবর্তন হতে পারে এবং দুধপানকারী শিশু বুকের দুধে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারে:
জরায়ুর সংকোচন: বুকের দুধ খাওয়ালে অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয়, যা দুধ প্রবাহে সহায়তা করে এবং হালকা জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে। জটিলতাহীন গর্ভাবস্থায় সাধারণত এটি উদ্বেগের কারণ নয়, তবে উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থায় চিকিৎসক বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার পরামর্শ দিতে পারেন।
বুকের দুধে পরিবর্তন: গর্ভাবস্থায় বুকের দুধের গঠন, পরিমাণ, ঘনত্ব ও স্বাদ বদলাতে পারে। স্বাদ নোনতা হতে পারে এবং গর্ভাবস্থা এগোনোর সঙ্গে দুধের পরিমাণ কমতে পারে, ফলে বড় শিশুটি স্বাভাবিকভাবেই কম দুধ খেতে চাইতে পারে।
শারীরিক অস্বস্তি: গর্ভাবস্থার শুরুতে মায়ের স্তনবৃন্ত সংবেদনশীল ও স্তনে ব্যথা হতে পারে। মর্নিং সিকনেসে খাবার ও তরল গ্রহণ কমে গেলে দুধ খাওয়ানোর সময় অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ালে শারীরিক ও পুষ্টিগত চাহিদা বাড়তে পারে, যা ভ্রূণের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে—যেমন প্লাসেন্টায় রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া, ভ্রূণের ধীর বৃদ্ধি, কম জন্ম-ওজন, গর্ভপাত বা মৃত সন্তান প্রসব।
কখন বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা উচিত?
নিচের পরিস্থিতিতে চিকিৎসক গর্ভবতী মাকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে বড় শিশুকে ধীরে ধীরে দুধ ছাড়ানোর পরামর্শ দিতে পারেন:
গর্ভাবস্থার শুরুতে বেদনাদায়ক উপসর্গ
গর্ভপাতের ইতিহাস
আগের গর্ভাবস্থায় রক্তপাত
আগে সময়ের আগে প্রসব
বর্তমান গর্ভাবস্থায় সময়ের আগে প্রসবের ঝুঁকি
গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ
গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করুন:
স্তনের অস্বস্তি কমাতে ব্যথা উপশমের ব্যবস্থা বা উষ্ণ সেঁক ব্যবহার করুন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় ক্লান্তি হলে।
ঘরের কাজ বা শিশুর যত্নে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিন।
পানিশূন্যতা রোধে কফি ও এনার্জি ড্রিংক এড়িয়ে চলুন।
বমিভাব কমাতে ও দুধের সরবরাহ বজায় রাখতে নিয়মিত খাবার ও পানীয় গ্রহণ করুন।
প্রয়োজনে নিরাপদ, চিনি-বিহীন পানীয় দিয়ে শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখুন।
মা ও শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে এমন স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
আরামদায়কভাবে দুধ খাওয়ানোর জন্য বড় শিশুর অবস্থান বদলান।
নবজাতক আসার পর বুকের দুধ খাওয়ানো
নবজাতক জন্মের পর মা বড় শিশুকেও দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে পারেন, যাকে ট্যান্ডেম নার্সিং বলা হয়। এ সময় বুকের দুধ ঘন ও হলুদ হয়ে যায় এবং নবজাতকের উপযোগী পুষ্টি ও ক্যালরি থাকে। তবে এতে বড় শিশুর ডায়রিয়া হতে পারে।
দুধ ছাড়ানো হলো শিশুকে অন্যান্য খাবারে অভ্যস্ত করার প্রক্রিয়া। প্রস্তুত হলে বড় শিশুকে ধীরে ধীরে দুধ ছাড়ানো যায়; গর্ভাবস্থাজনিত পরিবর্তনও স্বাভাবিকভাবে শিশুর বুকের দুধের আকাঙ্ক্ষা কমাতে পারে।
অন্যান্য বিবেচনা
গর্ভাবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে চিকিৎসক বা স্তন্যদান পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করলে মা ও ভ্রূণের জন্য সিদ্ধান্তটি নিরাপদ কি না নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ও পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরামর্শ পাওয়া যায়।
গল্পের উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত