গাইড | গর্ভাবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা ভ্রূণের বিকাশে কীভাবে প্রভাব ফেলে?
সন্তান প্রত্যাশী বাবা-মায়ের কাছে গর্ভাবস্থা প্রায়ই ইতিবাচক আবেগের সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, আগে এমন ইতিহাস থাকুক বা না থাকুক, অনেক সন্তান প্রত্যাশী মা গর্ভাবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় ভোগেন। প্রায় 20% গর্ভবতী নারীর উদ্বেগ বা বিষণ্নতার উপসর্গ দেখা যায়।
গর্ভাবস্থার কারণে কিছু নারী অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ওষুধ বা অন্যান্য মনোরোগের ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। এতে বিদ্যমান সমস্যা আরও খারাপ হতে পারে বা নতুন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ক্রমবর্ধমান গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য শুধু মায়ের ওপরই নয়, বিকাশমান শিশুর ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
ভ্রূণের ওপর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব
আগের গবেষণায় মূলত গর্ভাবস্থার পর বাবা-মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হতো। এতে দেখা গেছে, বাবা-মায়ের বিষণ্নতা বা উদ্বেগ অবহেলার কারণ হতে পারে এবং শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য সরাসরি ভ্রূণের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্ট্রেস: প্রাণীর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ট্রেস হরমোনের সংস্পর্শে থাকা ভ্রূণের অ্যামিগডালায় বেশি সক্রিয়তা থাকে। অ্যামিগডালা মস্তিষ্কের এমন একটি অঞ্চল, যা আবেগীয় প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এর অর্থ জন্মের পর উদ্বেগের মাত্রা বেশি হতে পারে।
উদ্বেগ ও বিষণ্নতা: এক গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্বেগে ভোগা গর্ভবতী নারীরা চাপযুক্ত কাজ করার সময় ভ্রূণের হৃদস্পন্দন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আগের এক গবেষণায় দেখা যায়, বিষণ্নতায় ভোগা গর্ভবতী নারীদের শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী মস্তিষ্কের অঞ্চলে সক্রিয়তা কম থাকে।
কম জন্ম-ওজন: কিছু গবেষণায় দেখা যায়, গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতায় ভোগা মায়েদের শিশুর জন্ম-ওজন কম হওয়ার প্রবণতা থাকে। উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভোগা গর্ভবতী নারীদের ধূমপান, অ্যালকোহল পান বা অন্যান্য পদার্থ ব্যবহারের সম্ভাবনাও বেশি, যা ভ্রূণের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
সামাজিক কারণ এবং মা ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য
বাবা-মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য শিশুদের প্রভাবিত করতে পারে, তবে এর অর্থ এই নয় যে বাবা-মায়েরাই শিশুদের প্রতিটি মানসিক সমস্যার সরাসরি কারণ। কিছু মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সামাজিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গর্ভাবস্থায় স্ট্রেস ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার সামাজিক কারণগুলো মোকাবিলা করলে শিশুদের স্বাস্থ্যের ফলাফল উন্নত হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় কি মনোরোগের ওষুধ ব্যবহার করা যায়?
উত্তরটি ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন। U.S. FDA গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের জন্য কোনো মনোরোগের ওষুধকে বিশেষভাবে অনুমোদন দেয়নি। এর অর্থ এই নয় যে ওষুধগুলো অনিরাপদ; বরং FDA-র অনুমোদনের জন্য সেগুলো যথেষ্টভাবে গবেষণা করা হয়নি। প্রসবকালীন মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে দক্ষ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে কিছু ওষুধ নিরাপদ হতে পারে।
অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট: অনেক গবেষণায় দেখা যায়, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট গর্ভাবস্থায় নিরাপদ। উদাহরণস্বরূপ, প্রচলিত অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট Prozac-এর সংস্পর্শে আসা শিশুদের জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বেড়েছে—এমন প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া যায়নি। অন্যান্য সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিইউপটেক ইনহিবিটর (SSRIs)-ও নিরাপদ হতে পারে। তবে, গবেষণায় জন্মগত হৃদ্যন্ত্রের ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাওয়ায় paroxetine (Paxil) সাধারণত গর্ভাবস্থায় সুপারিশ করা হয় না।
প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ: অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের সংস্পর্শে আসা কিছু শিশুর জন্মের পর প্রথম দুই সপ্তাহে কাঁপুনি, খেতে অসুবিধা, খিটখিটে ভাব ও দ্রুত শ্বাস নেওয়ার মতো প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ সাধারণত চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়।
অন্যান্য মনোরোগের ওষুধ: মুড স্ট্যাবিলাইজার ও কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ হতে পারে। তবে, জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় valproate (Depakene) গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলা উচিত। চিকিৎসকেরা প্রজননক্ষম নারীদের প্রায়ই এই ওষুধ এড়াতে পরামর্শ দেন।
গর্ভাবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য সামলানো
মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা গর্ভাবস্থার আগে থেকেই থাকুক বা পরে মেজাজের পরিবর্তন শুরু হোক, সহায়তা পাওয়া যায়। সাধারণ কিছু কৌশল হলো:
মনোবিজ্ঞানী বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া
পরিবার, বন্ধু বা ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলা
যোগব্যায়াম, ধ্যান বা ব্যায়াম করার চেষ্টা করা
গর্ভাবস্থায় দুশ্চিন্তা, মন খারাপ ও উদ্বেগ সাধারণ আবেগীয় প্রতিক্রিয়া। তবে মন খারাপ বা উদ্বেগ ঘন ঘন হলে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে সহায়তা পাওয়া যায়। আশপাশের মানুষের সহায়তা নিন এবং আরও সহায়তা ও দিকনির্দেশনার জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
গাইড | গর্ভাবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা ভ্রূণের বিকাশে কীভাবে প্রভাব ফেলে?
গাইড | গর্ভাবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা ভ্রূণের বিকাশে কীভাবে প্রভাব ফেলে?
সন্তান প্রত্যাশী বাবা-মায়ের কাছে গর্ভাবস্থা প্রায়ই ইতিবাচক আবেগের সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, আগে এমন ইতিহাস থাকুক বা না থাকুক, অনেক সন্তান প্রত্যাশী মা গর্ভাবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় ভোগেন। প্রায় 20% গর্ভবতী নারীর উদ্বেগ বা বিষণ্নতার উপসর্গ দেখা যায়।
গর্ভাবস্থার কারণে কিছু নারী অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ওষুধ বা অন্যান্য মনোরোগের ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। এতে বিদ্যমান সমস্যা আরও খারাপ হতে পারে বা নতুন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ক্রমবর্ধমান গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য শুধু মায়ের ওপরই নয়, বিকাশমান শিশুর ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
ভ্রূণের ওপর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব
আগের গবেষণায় মূলত গর্ভাবস্থার পর বাবা-মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হতো। এতে দেখা গেছে, বাবা-মায়ের বিষণ্নতা বা উদ্বেগ অবহেলার কারণ হতে পারে এবং শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য সরাসরি ভ্রূণের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্ট্রেস: প্রাণীর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ট্রেস হরমোনের সংস্পর্শে থাকা ভ্রূণের অ্যামিগডালায় বেশি সক্রিয়তা থাকে। অ্যামিগডালা মস্তিষ্কের এমন একটি অঞ্চল, যা আবেগীয় প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এর অর্থ জন্মের পর উদ্বেগের মাত্রা বেশি হতে পারে।
উদ্বেগ ও বিষণ্নতা: এক গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্বেগে ভোগা গর্ভবতী নারীরা চাপযুক্ত কাজ করার সময় ভ্রূণের হৃদস্পন্দন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আগের এক গবেষণায় দেখা যায়, বিষণ্নতায় ভোগা গর্ভবতী নারীদের শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী মস্তিষ্কের অঞ্চলে সক্রিয়তা কম থাকে।
কম জন্ম-ওজন: কিছু গবেষণায় দেখা যায়, গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতায় ভোগা মায়েদের শিশুর জন্ম-ওজন কম হওয়ার প্রবণতা থাকে। উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভোগা গর্ভবতী নারীদের ধূমপান, অ্যালকোহল পান বা অন্যান্য পদার্থ ব্যবহারের সম্ভাবনাও বেশি, যা ভ্রূণের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
সামাজিক কারণ এবং মা ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য
বাবা-মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য শিশুদের প্রভাবিত করতে পারে, তবে এর অর্থ এই নয় যে বাবা-মায়েরাই শিশুদের প্রতিটি মানসিক সমস্যার সরাসরি কারণ। কিছু মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সামাজিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গর্ভাবস্থায় স্ট্রেস ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার সামাজিক কারণগুলো মোকাবিলা করলে শিশুদের স্বাস্থ্যের ফলাফল উন্নত হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় কি মনোরোগের ওষুধ ব্যবহার করা যায়?
উত্তরটি ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন। U.S. FDA গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের জন্য কোনো মনোরোগের ওষুধকে বিশেষভাবে অনুমোদন দেয়নি। এর অর্থ এই নয় যে ওষুধগুলো অনিরাপদ; বরং FDA-র অনুমোদনের জন্য সেগুলো যথেষ্টভাবে গবেষণা করা হয়নি। প্রসবকালীন মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে দক্ষ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে কিছু ওষুধ নিরাপদ হতে পারে।
অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট: অনেক গবেষণায় দেখা যায়, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট গর্ভাবস্থায় নিরাপদ। উদাহরণস্বরূপ, প্রচলিত অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট Prozac-এর সংস্পর্শে আসা শিশুদের জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বেড়েছে—এমন প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া যায়নি। অন্যান্য সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিইউপটেক ইনহিবিটর (SSRIs)-ও নিরাপদ হতে পারে। তবে, গবেষণায় জন্মগত হৃদ্যন্ত্রের ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাওয়ায় paroxetine (Paxil) সাধারণত গর্ভাবস্থায় সুপারিশ করা হয় না।
প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ: অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের সংস্পর্শে আসা কিছু শিশুর জন্মের পর প্রথম দুই সপ্তাহে কাঁপুনি, খেতে অসুবিধা, খিটখিটে ভাব ও দ্রুত শ্বাস নেওয়ার মতো প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ সাধারণত চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়।
অন্যান্য মনোরোগের ওষুধ: মুড স্ট্যাবিলাইজার ও কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ হতে পারে। তবে, জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় valproate (Depakene) গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলা উচিত। চিকিৎসকেরা প্রজননক্ষম নারীদের প্রায়ই এই ওষুধ এড়াতে পরামর্শ দেন।
গর্ভাবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য সামলানো
মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা গর্ভাবস্থার আগে থেকেই থাকুক বা পরে মেজাজের পরিবর্তন শুরু হোক, সহায়তা পাওয়া যায়। সাধারণ কিছু কৌশল হলো:
মনোবিজ্ঞানী বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া
পরিবার, বন্ধু বা ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলা
যোগব্যায়াম, ধ্যান বা ব্যায়াম করার চেষ্টা করা
গর্ভাবস্থায় দুশ্চিন্তা, মন খারাপ ও উদ্বেগ সাধারণ আবেগীয় প্রতিক্রিয়া। তবে মন খারাপ বা উদ্বেগ ঘন ঘন হলে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে সহায়তা পাওয়া যায়। আশপাশের মানুষের সহায়তা নিন এবং আরও সহায়তা ও দিকনির্দেশনার জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
উৎস:
অনলাইনে সংগৃহীত