গাইড | স্তন্যপান করানোর সময় কি অ্যালকোহল পান করা যায়? বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা
নতুন শিশুকে স্বাগত জানানো যেমন আনন্দের, তেমনি এতে মায়েদের শারীরিক ও জীবনযাপনে অনেক পরিবর্তন আসে। এই সময় কিছু মা ভাবতে পারেন, মাঝে মাঝে পানীয় উপভোগ করা যাবে কি না। গর্ভাবস্থায় অ্যালকোহল ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে—এটি জানা থাকলেও, স্তন্যপান করানোর সময় পরিমিত অ্যালকোহল পান—দিনে সর্বোচ্চ এক পানীয়—শিশুর ক্ষতি করে, এমন চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। সম্ভাব্য ঝুঁকি ও তা কমানোর উপায় বিবেচনা করে সাধারণত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
অ্যালকোহল ও স্তন্যপান
মা অ্যালকোহল পান করলে তা বুকের দুধে প্রবেশ করে। পান করার 30-60 মিনিট পর সাধারণত এর মাত্রা সর্বোচ্চ হয় এবং 2-3 ঘণ্টা, কখনো তারও বেশি সময়, দুধে থাকে। মায়ের ওজন, কতটা ও কত দ্রুত তিনি পান করেন এবং তিনি কিছু খেয়েছেন কি না—এসবের ওপর ঘনত্ব অনেকটাই নির্ভর করে।
অ্যালকোহলের মাত্রাকে প্রভাবিতকারী বিষয়
শিশুর বয়স: নবজাতকের যকৃত পুরোপুরি বিকশিত নয় এবং অ্যালকোহল ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেক হারে অ্যালকোহল প্রক্রিয়াজাত করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই ক্ষমতা উন্নত হয়।
মায়ের ওজন: যাদের শরীরের ওজন বেশি, তারা সাধারণত অ্যালকোহল দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করেন, তাই এর প্রভাব কম তীব্র হতে পারে।
পানের পরিমাণ: মা যতটা অ্যালকোহল পান করেন, শিশুর কাছে পৌঁছানো অ্যালকোহলের পরিমাণে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। বেশি অ্যালকোহল প্রক্রিয়াজাত হতে বেশি সময় নেয় এবং বুকের দুধে বেশি সময় থাকে।
স্তন্যপানের সম্ভাব্য পরিণতি
অ্যালকোহল বিভিন্নভাবে স্তন্যপানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যেমন:
দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া: অতিরিক্ত পান করলে স্তনগ্রন্থির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে, দুধের সরবরাহ কমতে পারে এবং দুধ নামার প্রতিক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
শিশুর স্বাস্থ্যের ঝুঁকি: অ্যালকোহলযুক্ত বুকের দুধ পান করলে হতে পারে:
ঘন ঘন কান্না
বেশি অস্থিরতা
দুধ পান কমে যাওয়া
ওজন বাড়া ব্যাহত হওয়া
র্যাপিড আই মুভমেন্ট (REM) ঘুম বেড়ে যাওয়া, যে সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বেশি থাকে
ঘুমের ব্যাঘাত, যেমন কম সময় ঘুমানো বা ঘন ঘন জেগে ওঠা
গুরুতর ক্ষেত্রে শিশুর হতে পারে:
বৃদ্ধি বিলম্বিত হওয়া
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যকারিতা কমে যাওয়া
মোটর বিকাশ বিলম্বিত হওয়া
জ্ঞানীয় বিকাশ ব্যাহত হওয়া
বিমূর্ত যুক্তি করার ক্ষমতা কমে যাওয়া, যা স্কুলে পড়ার বয়সে সমস্যা সমাধানে প্রভাব ফেলতে পারে
স্তন্যপান করানোর সময় মাঝে মাঝে পানীয় কি নিরাপদ?
নবজাতক ধীরে অ্যালকোহল বিপাক করে। সম্ভব হলে শিশুর বয়স অন্তত 8 সপ্তাহ না হওয়া পর্যন্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। মাঝে মাঝে পান করার সিদ্ধান্ত নিলে এই সতর্কতাগুলো বিবেচনা করুন:
পান করার আগে শিশুকে খাওয়ান: অ্যালকোহল পান করার আগে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান।
আগে দুধ বের করে সংরক্ষণ করুন: পরে ব্যবহারের জন্য পান করার আগে বুকের দুধ বের করে সংরক্ষণ করুন।
অ্যালকোহল সীমিত রাখুন: একবারে একটির বেশি পানীয় পান করবেন না।
পান করার পর অপেক্ষা করুন: স্তন্যপান করানোর আগে অন্তত 2 ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।
পান করার সময় খাবার খান: পানীয়ের সঙ্গে খাবার বা জুস নিন।
দুধ উৎপাদনে অ্যালকোহলের প্রভাব
অনেক মাকে বলা হয়, বিয়ার বা অন্যান্য অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় দুধের সরবরাহ বাড়ায়। আসলে অ্যালকোহল দুধ উৎপাদন কমাতে পারে, কারণ এটি অক্সিটোসিন দমন করে; দুধ নামার জন্য এই হরমোনটি গুরুত্বপূর্ণ। যত বেশি অ্যালকোহল পান করা হয়, প্রভাবও তত বেশি হয়।
পান করার পর দুধ বের করলে অ্যালকোহল দূর হয় না
কিছু মা পান করার পর দুধ বের করে ফেলে দেন। এতে বুকের দুধে অ্যালকোহলের মাত্রা কমে না। মায়ের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা কমলেই কেবল দুধে এর মাত্রা কমে। পান করার পর কোনো মা অসুস্থ বোধ করলে বা অ্যালকোহল পুরোপুরি বিপাক না হলে, তার স্তন্যপান করানো এড়ানো উচিত।
অন্যান্য পরামর্শ ও বিকল্প
স্তন্যপান করানোর সময় পান করবেন কি না, তা প্রতিটি মায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবারের প্রয়োজনের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অ্যালকোহলমুক্ত মকটেল বা অন্যান্য আনন্দদায়ক পানীয় ভালো বিকল্প হতে পারে।
স্তন্যপান করানো ও নবজাতকের যত্ন নেওয়া আনন্দদায়ক হলেও চ্যালেঞ্জিং। মায়েদের প্রয়োজন হলে সাহায্য নেওয়া, নিজের জন্য সময় রাখা এবং আনন্দের মুহূর্ত খুঁজে নেওয়ার কথা মনে রাখা উচিত।
গাইড | স্তন্যপান করানোর সময় মদ্যপান কি নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা
গাইড | স্তন্যপান করানোর সময় কি অ্যালকোহল পান করা যায়? বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা
নতুন শিশুকে স্বাগত জানানো যেমন আনন্দের, তেমনি এতে মায়েদের শারীরিক ও জীবনযাপনে অনেক পরিবর্তন আসে। এই সময় কিছু মা ভাবতে পারেন, মাঝে মাঝে পানীয় উপভোগ করা যাবে কি না। গর্ভাবস্থায় অ্যালকোহল ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে—এটি জানা থাকলেও, স্তন্যপান করানোর সময় পরিমিত অ্যালকোহল পান—দিনে সর্বোচ্চ এক পানীয়—শিশুর ক্ষতি করে, এমন চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। সম্ভাব্য ঝুঁকি ও তা কমানোর উপায় বিবেচনা করে সাধারণত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
অ্যালকোহল ও স্তন্যপান
মা অ্যালকোহল পান করলে তা বুকের দুধে প্রবেশ করে। পান করার 30-60 মিনিট পর সাধারণত এর মাত্রা সর্বোচ্চ হয় এবং 2-3 ঘণ্টা, কখনো তারও বেশি সময়, দুধে থাকে। মায়ের ওজন, কতটা ও কত দ্রুত তিনি পান করেন এবং তিনি কিছু খেয়েছেন কি না—এসবের ওপর ঘনত্ব অনেকটাই নির্ভর করে।
অ্যালকোহলের মাত্রাকে প্রভাবিতকারী বিষয়
শিশুর বয়স: নবজাতকের যকৃত পুরোপুরি বিকশিত নয় এবং অ্যালকোহল ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেক হারে অ্যালকোহল প্রক্রিয়াজাত করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই ক্ষমতা উন্নত হয়।
মায়ের ওজন: যাদের শরীরের ওজন বেশি, তারা সাধারণত অ্যালকোহল দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করেন, তাই এর প্রভাব কম তীব্র হতে পারে।
পানের পরিমাণ: মা যতটা অ্যালকোহল পান করেন, শিশুর কাছে পৌঁছানো অ্যালকোহলের পরিমাণে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। বেশি অ্যালকোহল প্রক্রিয়াজাত হতে বেশি সময় নেয় এবং বুকের দুধে বেশি সময় থাকে।
স্তন্যপানের সম্ভাব্য পরিণতি
অ্যালকোহল বিভিন্নভাবে স্তন্যপানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যেমন:
দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া: অতিরিক্ত পান করলে স্তনগ্রন্থির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে, দুধের সরবরাহ কমতে পারে এবং দুধ নামার প্রতিক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
শিশুর স্বাস্থ্যের ঝুঁকি: অ্যালকোহলযুক্ত বুকের দুধ পান করলে হতে পারে:
ঘন ঘন কান্না
বেশি অস্থিরতা
দুধ পান কমে যাওয়া
ওজন বাড়া ব্যাহত হওয়া
র্যাপিড আই মুভমেন্ট (REM) ঘুম বেড়ে যাওয়া, যে সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বেশি থাকে
ঘুমের ব্যাঘাত, যেমন কম সময় ঘুমানো বা ঘন ঘন জেগে ওঠা
গুরুতর ক্ষেত্রে শিশুর হতে পারে:
বৃদ্ধি বিলম্বিত হওয়া
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যকারিতা কমে যাওয়া
মোটর বিকাশ বিলম্বিত হওয়া
জ্ঞানীয় বিকাশ ব্যাহত হওয়া
বিমূর্ত যুক্তি করার ক্ষমতা কমে যাওয়া, যা স্কুলে পড়ার বয়সে সমস্যা সমাধানে প্রভাব ফেলতে পারে
স্তন্যপান করানোর সময় মাঝে মাঝে পানীয় কি নিরাপদ?
নবজাতক ধীরে অ্যালকোহল বিপাক করে। সম্ভব হলে শিশুর বয়স অন্তত 8 সপ্তাহ না হওয়া পর্যন্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। মাঝে মাঝে পান করার সিদ্ধান্ত নিলে এই সতর্কতাগুলো বিবেচনা করুন:
পান করার আগে শিশুকে খাওয়ান: অ্যালকোহল পান করার আগে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান।
আগে দুধ বের করে সংরক্ষণ করুন: পরে ব্যবহারের জন্য পান করার আগে বুকের দুধ বের করে সংরক্ষণ করুন।
অ্যালকোহল সীমিত রাখুন: একবারে একটির বেশি পানীয় পান করবেন না।
পান করার পর অপেক্ষা করুন: স্তন্যপান করানোর আগে অন্তত 2 ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।
পান করার সময় খাবার খান: পানীয়ের সঙ্গে খাবার বা জুস নিন।
দুধ উৎপাদনে অ্যালকোহলের প্রভাব
অনেক মাকে বলা হয়, বিয়ার বা অন্যান্য অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় দুধের সরবরাহ বাড়ায়। আসলে অ্যালকোহল দুধ উৎপাদন কমাতে পারে, কারণ এটি অক্সিটোসিন দমন করে; দুধ নামার জন্য এই হরমোনটি গুরুত্বপূর্ণ। যত বেশি অ্যালকোহল পান করা হয়, প্রভাবও তত বেশি হয়।
পান করার পর দুধ বের করলে অ্যালকোহল দূর হয় না
কিছু মা পান করার পর দুধ বের করে ফেলে দেন। এতে বুকের দুধে অ্যালকোহলের মাত্রা কমে না। মায়ের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা কমলেই কেবল দুধে এর মাত্রা কমে। পান করার পর কোনো মা অসুস্থ বোধ করলে বা অ্যালকোহল পুরোপুরি বিপাক না হলে, তার স্তন্যপান করানো এড়ানো উচিত।
অন্যান্য পরামর্শ ও বিকল্প
স্তন্যপান করানোর সময় পান করবেন কি না, তা প্রতিটি মায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবারের প্রয়োজনের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অ্যালকোহলমুক্ত মকটেল বা অন্যান্য আনন্দদায়ক পানীয় ভালো বিকল্প হতে পারে।
স্তন্যপান করানো ও নবজাতকের যত্ন নেওয়া আনন্দদায়ক হলেও চ্যালেঞ্জিং। মায়েদের প্রয়োজন হলে সাহায্য নেওয়া, নিজের জন্য সময় রাখা এবং আনন্দের মুহূর্ত খুঁজে নেওয়ার কথা মনে রাখা উচিত।
উৎস:
অনলাইনে সংগৃহীত