সংবাদ | অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাদ্য মায়ের দুধের গুণমান এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে
ফাস্ট ফুড, চিনিযুক্ত পানীয় ও ভাজা খাবার আধুনিক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এই ‘পশ্চিমা খাদ্যাভ্যাস’ স্তন্যদানকে সূক্ষ্মভাবে ব্যাহত করতে পারে এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অল্প সময়ের জন্যও অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত ফাস্ট ফুড খেলে স্তন্যগ্রন্থির বিকাশ প্রভাবিত হতে পারে এবং মায়ের দুধের পুষ্টিমান কমতে পারে, যা নবজাতকের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণাটি Acta Physiologica-তে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকেরা মানুষের খাদ্যাভ্যাসের মডেল তৈরি করতে পরীক্ষাগারের ইঁদুর ব্যবহার করেন এবং গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় অতিরিক্ত চর্বি ও চিনিযুক্ত খাদ্য ইঁদুরের ওপর কী প্রভাব ফেলে তা পরীক্ষা করেন। পরীক্ষাগোষ্ঠী গর্ভধারণের আগে তিন সপ্তাহ, গর্ভাবস্থায় তিন সপ্তাহ এবং সন্তান জন্মের পর অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত পেলেট ও মিষ্টি কনডেন্সড মিল্ক খায়। বার্গার, ফ্রাই ও চিনিযুক্ত পানীয়ের মতো প্রচলিত ফাস্ট ফুডের অনুকরণে এই খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা হয়েছিল।
ফলাফলে দেখা যায়:
স্তন্যগ্রন্থির বিকাশ ব্যাহত হয় এবং দুধে প্রোটিনের পরিমাণ কমে যায়, ফলে শাবকদের পুষ্টি গ্রহণে প্রভাব পড়ে।
নবজাতকের বেঁচে থাকার হার কমে যায় এবং বিশেষ করে স্তন্যদানের সময় মৃত্যুহার বেড়ে যায়।
মায়েদের ওজন স্বাভাবিক থাকলেও শরীরে চর্বির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং ফ্যাটি লিভারের মতো বিপাকীয় সমস্যা দেখা দেয়, যা পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্লাসেন্টার বিকাশ ব্যাহত হয় এবং ভ্রূণের পুষ্টি সরবরাহ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। ভ্রূণের ওজন সামান্যই বদলালেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
"অনেক নারী মনে করতে পারেন, ওজন স্বাভাবিক থাকলে খাদ্যাভ্যাস গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানে প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু গবেষণাটি দেখায়, ওজন অস্বাভাবিক না হলেও শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা ভ্রূণের বিকাশ ও মায়ের দুধের গুণমানে প্রভাব ফেলতে পারে।"
—অধ্যাপক Amanda Sferruzzi-Perri, St John's College, University of Cambridge
লুকানো স্বাস্থ্যঝুঁকি: মায়ের খাদ্যাভ্যাস সন্তানের সারাজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে
বিশ্বজুড়ে অর্ধেকেরও বেশি নারী গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভোগেন, এবং অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাদ্য গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত স্বাস্থ্যসমস্যার একটি বড় কারণ হয়ে উঠছে। আগের গবেষণাগুলো মূলত দীর্ঘমেয়াদি স্থূলতার প্রজননগত প্রভাব নিয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল। এই গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প সময়ের জন্যও অতিরিক্ত চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ স্তন্যদানের সময় মায়ের দুধের গুণমান প্রভাবিত করতে এবং নবজাতকের বেঁচে থাকার হার কমাতে পারে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব প্রভাব বাইরে থেকে বোঝা নাও যেতে পারে। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় অনেক নারীকে সুস্থ দেখালেও তাদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে বা ফ্যাটি লিভার হতে পারে, যা স্তন্যগ্রন্থির বিকাশ ও দুধ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।
"অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য শুধু মায়ের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে না, সন্তানের স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।"
—অধ্যাপক Amanda Sferruzzi-Perri
স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম বেশি হওয়ায় নিম্নআয়ের পরিবারগুলো বড় বাধার মুখে
মা ও নবজাতকের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অপরিহার্য হলেও আর্থিক চাপ প্রায়ই খাদ্যাভ্যাস উন্নত করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সস্তা, অন্যদিকে তাজা সবজি ও উচ্চমানের প্রোটিন সাধারণত বেশি দামী। তাই সীমিত সামর্থ্যের পরিবারগুলো ফাস্ট ফুডের ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে এবং কম পুষ্টি ও বেশি ক্যালরিযুক্ত খাদ্যাভ্যাসে আটকে যেতে পারে।
"জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো চিনি ও চর্বিযুক্ত, কম পুষ্টিকর খাবারের ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে। এতে শুধু মা নয়, সন্তানের সারাজীবনের স্বাস্থ্যেরও প্রভাব পড়তে পারে।"
—অধ্যাপক Amanda Sferruzzi-Perri
গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, সরকারের ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উচিত স্বাস্থ্যকর খাবারের সুযোগ বাড়ানো এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের পুষ্টিশিক্ষা জোরদার করা, যাতে তারা নিজেদের ও সন্তানদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে পারেন।
গর্ভধারণের আগে, গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানের সময় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
মায়ের দুধের গুণমান বজায় রাখতে বিজ্ঞানীরা গর্ভধারণের আগে, গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানের সময় নারীদের নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করার পরামর্শ দেন:
অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার কমান এবং ফাস্ট ফুড, ভাজা খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় সীমিত করুন।
স্তন্যগ্রন্থির বিকাশ ও মায়ের দুধের পুষ্টিমান বজায় রাখতে চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডিম ও ডালজাতীয় খাবার থেকে উচ্চমানের প্রোটিন গ্রহণ বাড়ান।
ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশের জন্য বিভিন্ন ধরনের তাজা ফল ও সবজি খান।
ওজন স্বাভাবিক থাকলেও ফ্যাটি লিভারের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে শরীরের চর্বির পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করুন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং লিভারের কার্যকারিতা, রক্তে গ্লুকোজ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন।
"সুস্থ মা সুস্থ পরবর্তী প্রজন্মের ভিত্তি। গর্ভাবস্থার আগে ও স্তন্যদানের সময় নারীর খাদ্যাভ্যাস শুধু তার নিজের স্বাস্থ্যে নয়, সম্ভাব্যভাবে সন্তানের সারাজীবনের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে।"
—অধ্যাপক Amanda Sferruzzi-Perri
উপসংহার: গর্ভাবস্থার খাদ্যাভ্যাস মা ও শিশুর স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে
ফাস্ট ফুডের সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাদ্য মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অল্প সময়ের জন্যও অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড গ্রহণ মায়ের দুধের গুণমান কমাতে, শিশুর স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিজ্ঞানীরা নারীদের গর্ভধারণের আগে, গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানের সময় খাদ্যের গুণমানের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে উৎসাহিত করছেন। তারা মাতৃ-পুষ্টিবিষয়ক শিক্ষা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
সংবাদ | অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার বুকের দুধের গুণমান এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে
সংবাদ | অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাদ্য মায়ের দুধের গুণমান এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে
ফাস্ট ফুড, চিনিযুক্ত পানীয় ও ভাজা খাবার আধুনিক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এই ‘পশ্চিমা খাদ্যাভ্যাস’ স্তন্যদানকে সূক্ষ্মভাবে ব্যাহত করতে পারে এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অল্প সময়ের জন্যও অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত ফাস্ট ফুড খেলে স্তন্যগ্রন্থির বিকাশ প্রভাবিত হতে পারে এবং মায়ের দুধের পুষ্টিমান কমতে পারে, যা নবজাতকের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণাটি Acta Physiologica-তে প্রকাশিত হয়েছে।
ফাস্ট ফুডের খাদ্যাভ্যাস মায়ের দুধের গুণমানকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
গবেষকেরা মানুষের খাদ্যাভ্যাসের মডেল তৈরি করতে পরীক্ষাগারের ইঁদুর ব্যবহার করেন এবং গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় অতিরিক্ত চর্বি ও চিনিযুক্ত খাদ্য ইঁদুরের ওপর কী প্রভাব ফেলে তা পরীক্ষা করেন। পরীক্ষাগোষ্ঠী গর্ভধারণের আগে তিন সপ্তাহ, গর্ভাবস্থায় তিন সপ্তাহ এবং সন্তান জন্মের পর অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত পেলেট ও মিষ্টি কনডেন্সড মিল্ক খায়। বার্গার, ফ্রাই ও চিনিযুক্ত পানীয়ের মতো প্রচলিত ফাস্ট ফুডের অনুকরণে এই খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা হয়েছিল।
ফলাফলে দেখা যায়:
স্তন্যগ্রন্থির বিকাশ ব্যাহত হয় এবং দুধে প্রোটিনের পরিমাণ কমে যায়, ফলে শাবকদের পুষ্টি গ্রহণে প্রভাব পড়ে।
নবজাতকের বেঁচে থাকার হার কমে যায় এবং বিশেষ করে স্তন্যদানের সময় মৃত্যুহার বেড়ে যায়।
মায়েদের ওজন স্বাভাবিক থাকলেও শরীরে চর্বির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং ফ্যাটি লিভারের মতো বিপাকীয় সমস্যা দেখা দেয়, যা পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্লাসেন্টার বিকাশ ব্যাহত হয় এবং ভ্রূণের পুষ্টি সরবরাহ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। ভ্রূণের ওজন সামান্যই বদলালেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
"অনেক নারী মনে করতে পারেন, ওজন স্বাভাবিক থাকলে খাদ্যাভ্যাস গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানে প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু গবেষণাটি দেখায়, ওজন অস্বাভাবিক না হলেও শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা ভ্রূণের বিকাশ ও মায়ের দুধের গুণমানে প্রভাব ফেলতে পারে।"
—অধ্যাপক Amanda Sferruzzi-Perri, St John's College, University of Cambridge
লুকানো স্বাস্থ্যঝুঁকি: মায়ের খাদ্যাভ্যাস সন্তানের সারাজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে
বিশ্বজুড়ে অর্ধেকেরও বেশি নারী গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভোগেন, এবং অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাদ্য গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত স্বাস্থ্যসমস্যার একটি বড় কারণ হয়ে উঠছে। আগের গবেষণাগুলো মূলত দীর্ঘমেয়াদি স্থূলতার প্রজননগত প্রভাব নিয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল। এই গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প সময়ের জন্যও অতিরিক্ত চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ স্তন্যদানের সময় মায়ের দুধের গুণমান প্রভাবিত করতে এবং নবজাতকের বেঁচে থাকার হার কমাতে পারে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব প্রভাব বাইরে থেকে বোঝা নাও যেতে পারে। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় অনেক নারীকে সুস্থ দেখালেও তাদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে বা ফ্যাটি লিভার হতে পারে, যা স্তন্যগ্রন্থির বিকাশ ও দুধ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।
"অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য শুধু মায়ের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে না, সন্তানের স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।"
—অধ্যাপক Amanda Sferruzzi-Perri
স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম বেশি হওয়ায় নিম্নআয়ের পরিবারগুলো বড় বাধার মুখে
মা ও নবজাতকের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অপরিহার্য হলেও আর্থিক চাপ প্রায়ই খাদ্যাভ্যাস উন্নত করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সস্তা, অন্যদিকে তাজা সবজি ও উচ্চমানের প্রোটিন সাধারণত বেশি দামী। তাই সীমিত সামর্থ্যের পরিবারগুলো ফাস্ট ফুডের ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে এবং কম পুষ্টি ও বেশি ক্যালরিযুক্ত খাদ্যাভ্যাসে আটকে যেতে পারে।
"জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো চিনি ও চর্বিযুক্ত, কম পুষ্টিকর খাবারের ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে। এতে শুধু মা নয়, সন্তানের সারাজীবনের স্বাস্থ্যেরও প্রভাব পড়তে পারে।"
—অধ্যাপক Amanda Sferruzzi-Perri
গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, সরকারের ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উচিত স্বাস্থ্যকর খাবারের সুযোগ বাড়ানো এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের পুষ্টিশিক্ষা জোরদার করা, যাতে তারা নিজেদের ও সন্তানদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে পারেন।
গর্ভধারণের আগে, গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানের সময় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
মায়ের দুধের গুণমান বজায় রাখতে বিজ্ঞানীরা গর্ভধারণের আগে, গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানের সময় নারীদের নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করার পরামর্শ দেন:
অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার কমান এবং ফাস্ট ফুড, ভাজা খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় সীমিত করুন।
স্তন্যগ্রন্থির বিকাশ ও মায়ের দুধের পুষ্টিমান বজায় রাখতে চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডিম ও ডালজাতীয় খাবার থেকে উচ্চমানের প্রোটিন গ্রহণ বাড়ান।
ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশের জন্য বিভিন্ন ধরনের তাজা ফল ও সবজি খান।
ওজন স্বাভাবিক থাকলেও ফ্যাটি লিভারের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে শরীরের চর্বির পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করুন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং লিভারের কার্যকারিতা, রক্তে গ্লুকোজ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন।
"সুস্থ মা সুস্থ পরবর্তী প্রজন্মের ভিত্তি। গর্ভাবস্থার আগে ও স্তন্যদানের সময় নারীর খাদ্যাভ্যাস শুধু তার নিজের স্বাস্থ্যে নয়, সম্ভাব্যভাবে সন্তানের সারাজীবনের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে।"
—অধ্যাপক Amanda Sferruzzi-Perri
উপসংহার: গর্ভাবস্থার খাদ্যাভ্যাস মা ও শিশুর স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে
ফাস্ট ফুডের সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাদ্য মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অল্প সময়ের জন্যও অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড গ্রহণ মায়ের দুধের গুণমান কমাতে, শিশুর স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিজ্ঞানীরা নারীদের গর্ভধারণের আগে, গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানের সময় খাদ্যের গুণমানের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে উৎসাহিত করছেন। তারা মাতৃ-পুষ্টিবিষয়ক শিক্ষা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত