গাইড | ডিম্বাশয়ের জার্ম সেল টিউমার: উপসর্গ, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা
ডিম্বাশয়ের জার্ম সেল টিউমার নারীর ডিম্বাশয়ে বেড়ে ওঠে। বেশিরভাগই ক্ষতিকর নয় এবং ক্যানসারও নয়। ম্যালিগন্যান্ট জার্ম সেল টিউমার বিরল; ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের মধ্যে এগুলোর হার মাত্র 2%। ডিম্বাশয় ডিম্বাণু ও হরমোন তৈরি করে, আর জার্ম সেল টিউমার ডিম্বাণু গঠনকারী কোষে শুরু হয়।
1। ডিম্বাশয়ের জার্ম সেল টিউমারের কারণ
কিছু নারীর ডিম্বাশয়ে জার্ম সেল টিউমার কেন হয়, তা চিকিৎসকেরা জানেন না। স্নায়ুতন্ত্র, প্রজনন অঙ্গ বা মূত্রনালিকে প্রভাবিত করা কিছু জন্মগত সমস্যা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যৌন ক্রোমোজোম বেশি বা কম থাকা-সংক্রান্ত জেনেটিক সমস্যাও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব টিউমার সাধারণত কিশোরী বা তরুণীদের হয় এবং 60-এর বয়সী নারীদের মধ্যে কম দেখা যায়।
2। উপসর্গ
ডিম্বাশয়ের জার্ম সেল টিউমার শুরুতে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে, কারণ টিউমার ছড়িয়ে পড়ার পরেই প্রায়ই উপসর্গ দেখা দেয়। উপসর্গের মধ্যে থাকতে পারে:
শরীরের অন্য কোথাও না ফুলে পেট ফোলা
পেটে ব্যথা, চাপ বা ভারী লাগা
মেনোপজের পর যোনিপথে রক্তপাত
এসব উপসর্গের অন্য কারণও থাকতে পারে, তবে দেখা দিলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
3। রোগনির্ণয়
চিকিৎসক আপনার স্বাস্থ্য ও উপসর্গ সম্পর্কে জানতে চাইবেন এবং পেট ফোলা বা কোনো গাঁট আছে কি না পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষার মধ্যে থাকতে পারে:
পেলভিক পরীক্ষা: স্পেকুলাম ব্যবহার করে জরায়ুমুখ দেখা হয় এবং স্পর্শের মাধ্যমে জরায়ু ও ডিম্বাশয় পরীক্ষা করা হয়।
রক্ত পরীক্ষা: কিছু ক্যানসার রক্তে টিউমার মার্কার ছাড়ে, যা রোগনির্ণয়ে সহায়তা করতে পারে।
CT স্ক্যান: ডিম্বাশয় ও অন্যান্য অঙ্গের বিস্তারিত এক্স-রে পরীক্ষা।
MRI স্ক্যান: শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে ডিম্বাশয় ও অন্যান্য অঙ্গের ছবি তৈরি করা হয়।
ল্যাপারোটমি: পেটে চেরা দিয়ে চিকিৎসক ক্যানসারের লক্ষণ খুঁজে দেখতে পারেন এবং অণুবীক্ষণিক পরীক্ষার (বায়োপসি) জন্য অল্প টিস্যু সংগ্রহ করতে পারেন।
4। চিকিৎসা
টিউমারটি ক্ষতিকর না হলে চিকিৎসক ও রোগী তাৎক্ষণিক চিকিৎসার বদলে সক্রিয় পর্যবেক্ষণ বেছে নিতে পারেন। প্রধানত তিন ধরনের চিকিৎসা রয়েছে:
অস্ত্রোপচার: টিউমারটি ক্যানসার না হলে ডিম্বাশয়ের শুধু আক্রান্ত অংশ অপসারণ করা হতে পারে। ক্যানসার হলে যতটা সম্ভব ক্যানসারযুক্ত টিস্যু অপসারণ করাই লক্ষ্য। পদ্ধতিটি টিউমারের আকারের ওপর নির্ভর করে।
সালপিঙ্গো-ওওফোরেক্টমি: একটি বা উভয় ডিম্বাশয় এবং ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণ।
টোটাল হিস্টেরেক্টমি: ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব, জরায়ু ও জরায়ুমুখ অপসারণ।
কেমোথেরাপি: মুখে খাওয়া বা শিরায় দেওয়া ওষুধ ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে বা তাদের বৃদ্ধি বন্ধ করে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর কেমোথেরাপি দেওয়া হতে পারে।
রেডিওথেরাপি: উচ্চশক্তির এক্স-রে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে বা তাদের বৃদ্ধি বন্ধ করে। এটি এককভাবে বা অস্ত্রোপচারের পর ব্যবহার করা হতে পারে।
টিউমারটি ম্যালিগন্যান্ট হলে ব্যথা, মানসিক কষ্ট ও অন্যান্য উদ্বেগ সামলাতে প্যালিয়েটিভ কেয়ারও গুরুত্বপূর্ণ। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নতুন চিকিৎসার সুযোগ থাকতে পারে; অংশগ্রহণ উপযুক্ত কি না, রোগীরা চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করতে পারেন।
চিকিৎসার পর গর্ভধারণ
জার্ম সেল টিউমারের চিকিৎসার পর গর্ভধারণের সক্ষমতা অস্ত্রোপচারের ওপর নির্ভর করে। শুধু একটি ডিম্বাশয় ও ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণ করা হলে সাধারণত গর্ভধারণ সম্ভব থাকে। উভয় ডিম্বাশয় অপসারণ করতে হলে পরবর্তী ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের (IVF) জন্য আগে ডিম্বাণু হিমায়িত করে রাখা যেতে পারে। উভয় ডিম্বাশয় ও জরায়ু অপসারণ করা হলে গর্ভধারণ সম্ভব নয়। তাই অস্ত্রোপচারের আগে ভবিষ্যৎ গর্ভধারণের পরিকল্পনা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত, যাতে চিকিৎসায় তা বিবেচনায় নেওয়া যায়।
গাইড | ডিম্বাশয়ের জার্ম সেল টিউমার: উপসর্গ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
গাইড | ডিম্বাশয়ের জার্ম সেল টিউমার: উপসর্গ, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা
ডিম্বাশয়ের জার্ম সেল টিউমার নারীর ডিম্বাশয়ে বেড়ে ওঠে। বেশিরভাগই ক্ষতিকর নয় এবং ক্যানসারও নয়। ম্যালিগন্যান্ট জার্ম সেল টিউমার বিরল; ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের মধ্যে এগুলোর হার মাত্র 2%। ডিম্বাশয় ডিম্বাণু ও হরমোন তৈরি করে, আর জার্ম সেল টিউমার ডিম্বাণু গঠনকারী কোষে শুরু হয়।
1। ডিম্বাশয়ের জার্ম সেল টিউমারের কারণ
কিছু নারীর ডিম্বাশয়ে জার্ম সেল টিউমার কেন হয়, তা চিকিৎসকেরা জানেন না। স্নায়ুতন্ত্র, প্রজনন অঙ্গ বা মূত্রনালিকে প্রভাবিত করা কিছু জন্মগত সমস্যা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যৌন ক্রোমোজোম বেশি বা কম থাকা-সংক্রান্ত জেনেটিক সমস্যাও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব টিউমার সাধারণত কিশোরী বা তরুণীদের হয় এবং 60-এর বয়সী নারীদের মধ্যে কম দেখা যায়।
2। উপসর্গ
ডিম্বাশয়ের জার্ম সেল টিউমার শুরুতে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে, কারণ টিউমার ছড়িয়ে পড়ার পরেই প্রায়ই উপসর্গ দেখা দেয়। উপসর্গের মধ্যে থাকতে পারে:
শরীরের অন্য কোথাও না ফুলে পেট ফোলা
পেটে ব্যথা, চাপ বা ভারী লাগা
মেনোপজের পর যোনিপথে রক্তপাত
এসব উপসর্গের অন্য কারণও থাকতে পারে, তবে দেখা দিলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
3। রোগনির্ণয়
চিকিৎসক আপনার স্বাস্থ্য ও উপসর্গ সম্পর্কে জানতে চাইবেন এবং পেট ফোলা বা কোনো গাঁট আছে কি না পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষার মধ্যে থাকতে পারে:
পেলভিক পরীক্ষা: স্পেকুলাম ব্যবহার করে জরায়ুমুখ দেখা হয় এবং স্পর্শের মাধ্যমে জরায়ু ও ডিম্বাশয় পরীক্ষা করা হয়।
রক্ত পরীক্ষা: কিছু ক্যানসার রক্তে টিউমার মার্কার ছাড়ে, যা রোগনির্ণয়ে সহায়তা করতে পারে।
CT স্ক্যান: ডিম্বাশয় ও অন্যান্য অঙ্গের বিস্তারিত এক্স-রে পরীক্ষা।
MRI স্ক্যান: শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে ডিম্বাশয় ও অন্যান্য অঙ্গের ছবি তৈরি করা হয়।
ল্যাপারোটমি: পেটে চেরা দিয়ে চিকিৎসক ক্যানসারের লক্ষণ খুঁজে দেখতে পারেন এবং অণুবীক্ষণিক পরীক্ষার (বায়োপসি) জন্য অল্প টিস্যু সংগ্রহ করতে পারেন।
4। চিকিৎসা
টিউমারটি ক্ষতিকর না হলে চিকিৎসক ও রোগী তাৎক্ষণিক চিকিৎসার বদলে সক্রিয় পর্যবেক্ষণ বেছে নিতে পারেন। প্রধানত তিন ধরনের চিকিৎসা রয়েছে:
অস্ত্রোপচার: টিউমারটি ক্যানসার না হলে ডিম্বাশয়ের শুধু আক্রান্ত অংশ অপসারণ করা হতে পারে। ক্যানসার হলে যতটা সম্ভব ক্যানসারযুক্ত টিস্যু অপসারণ করাই লক্ষ্য। পদ্ধতিটি টিউমারের আকারের ওপর নির্ভর করে।
সালপিঙ্গো-ওওফোরেক্টমি: একটি বা উভয় ডিম্বাশয় এবং ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণ।
টোটাল হিস্টেরেক্টমি: ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব, জরায়ু ও জরায়ুমুখ অপসারণ।
কেমোথেরাপি: মুখে খাওয়া বা শিরায় দেওয়া ওষুধ ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে বা তাদের বৃদ্ধি বন্ধ করে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর কেমোথেরাপি দেওয়া হতে পারে।
রেডিওথেরাপি: উচ্চশক্তির এক্স-রে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে বা তাদের বৃদ্ধি বন্ধ করে। এটি এককভাবে বা অস্ত্রোপচারের পর ব্যবহার করা হতে পারে।
টিউমারটি ম্যালিগন্যান্ট হলে ব্যথা, মানসিক কষ্ট ও অন্যান্য উদ্বেগ সামলাতে প্যালিয়েটিভ কেয়ারও গুরুত্বপূর্ণ। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নতুন চিকিৎসার সুযোগ থাকতে পারে; অংশগ্রহণ উপযুক্ত কি না, রোগীরা চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করতে পারেন।
চিকিৎসার পর গর্ভধারণ
জার্ম সেল টিউমারের চিকিৎসার পর গর্ভধারণের সক্ষমতা অস্ত্রোপচারের ওপর নির্ভর করে। শুধু একটি ডিম্বাশয় ও ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণ করা হলে সাধারণত গর্ভধারণ সম্ভব থাকে। উভয় ডিম্বাশয় অপসারণ করতে হলে পরবর্তী ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের (IVF) জন্য আগে ডিম্বাণু হিমায়িত করে রাখা যেতে পারে। উভয় ডিম্বাশয় ও জরায়ু অপসারণ করা হলে গর্ভধারণ সম্ভব নয়। তাই অস্ত্রোপচারের আগে ভবিষ্যৎ গর্ভধারণের পরিকল্পনা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত, যাতে চিকিৎসায় তা বিবেচনায় নেওয়া যায়।
উৎস:
অনলাইনে সংগৃহীত