গাইড | প্রসবের সময় কোমরের ব্যথা: একটি আড়াল থাকা চ্যালেঞ্জ ও সামলানোর উপায়
অনেক নারীর প্রসবের সময় কোমরের নিচে তীব্র ব্যথা হয়, যাকে প্রসবকালীন কোমরব্যথা বলা হয়। এটি সরাসরি মা বা শিশুর জন্য বিপজ্জনক না হলেও প্রসবকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। কারণ এবং প্রতিরোধ বা উপশমের উপায় জানা থাকলে গর্ভবতী নারীরা প্রস্তুত হতে পারেন।
প্রসবকালীন কোমরব্যথা কী?
প্রসবকালীন কোমরব্যথা হলো প্রসবের সময় কোমরের নিচে তীব্র ব্যথা। সংকোচনের মাঝেও এটি থাকতে পারে এবং সংকোচনের সময় বেড়ে যেতে পারে, কখনও একটানা মুচড়ে ধরার মতো ব্যথাসহ। গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় 15%-32% শতাংশ নারীর প্রসবের আগে কোমরের নিচে ব্যথা হয় এবং 5%-8% শতাংশের পুরো প্রসবকালজুড়ে প্রসবকালীন কোমরব্যথা থাকে।
প্রসবকালীন কোমরব্যথার কারণ কী?
প্রধান কারণ হলো জরায়ুতে ভ্রূণের অবস্থান।
অক্সিপিটো-পশ্চাৎ অবস্থান: ভ্রূণ মায়ের পেটের দিকে মুখ করে থাকলে তার মাথা সরাসরি মায়ের লেজের হাড়ে চাপ দিতে পারে এবং কোমরব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
শ্রোণির গঠন: মায়ের শ্রোণির আকার ও গঠন ভ্রূণের নড়াচড়া সীমিত করে কোমরব্যথার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পেশি ও লিগামেন্ট: শ্রোণির শক্ত বা দুর্বল পেশি ও লিগামেন্ট ভ্রূণকে জন্মের উপযোগী অবস্থানে যেতে বাধা দিতে পারে।
দেহভঙ্গি: খারাপ দেহভঙ্গিতে শ্রোণি সামনে বা পেছনে হেলে যেতে পারে এবং কোমরব্যথার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, মাসিকের সময় নিয়মিত কোমরব্যথা হওয়া নারীদের ভ্রূণের অবস্থান নির্বিশেষে প্রসবকালীন কোমরব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
প্রসবকালীন কোমরব্যথা কি ভ্রূণের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে?
প্রসবকালীন কোমরব্যথা নিজে সরাসরি ভ্রূণের ক্ষতি করে না, তবে ভ্রূণের অনুকূল নয় এমন অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হলে হতে পারে:
দীর্ঘ প্রসব ও মায়ের ক্লান্তি;
ফোর্সেপ বা ভ্যাকুয়াম-সহায়তায় প্রসবের প্রয়োজন;
এপিসিওটমি বা সিজারিয়ান প্রসবের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া।
বেশিরভাগ ভ্রূণ প্রসবের সময় স্বাভাবিকভাবে ভালো অবস্থানে ঘুরে যায় অথবা চিকিৎসক দল তাকে ঘুরতে সহায়তা করতে পারে।
প্রসবকালীন কোমরব্যথা প্রতিরোধের উপায়
সব সময় এটি এড়ানো যায় না, তবে নিচের পদক্ষেপগুলো সম্ভাবনা কমাতে পারে:
গর্ভাবস্থায় সক্রিয় থাকা: প্রতিদিন ব্যায়ামের বল ব্যবহার করুন বা মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করুন, যাতে ভ্রূণ অনুকূল অবস্থানে থাকে।
সঠিকভাবে বসা: গভীর সোফা ও রিক্লাইনার এড়িয়ে নিতম্বের চেয়ে হাঁটু নিচু রেখে বসুন।
প্রসবপূর্ব যত্ন: চিরোপ্র্যাকটিক চিকিৎসা বা প্রসবপূর্ব ম্যাসাজ শ্রোণির সামঞ্জস্য উন্নত করতে পারে।
প্রসবের সময় অবস্থান বদলানো: চিৎ হয়ে শোয়া এড়িয়ে কাত হয়ে বা হেলানো অবস্থান চেষ্টা করুন।
দাঁড়ানো ও নড়াচড়া: সম্ভব হলে প্রসবের সময় হাঁটুন, বসুন বা লাঞ্জ করুন; মাধ্যাকর্ষণ ভ্রূণকে ঘুরতে সাহায্য করতে পারে।
প্রসবকালীন কোমরব্যথা উপশমের উপায়
প্রসবের সময় নিচের উপায়গুলো সহায়ক হতে পারে:
কোমরের নিচে গরম বা ঠান্ডা সেঁক;
ম্যাসাজ বা চাপ দিয়ে মালিশ;
কুসুম গরম পানিতে গোসল বা শাওয়ার;
টেনিস বল বা রোলার দিয়ে চাপ;
উষ্ণ চাল ভরা মোজার মতো হিট প্যাক;
এপিডুরালসহ ব্যথানাশক ওষুধ।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
গর্ভবতী নারীদের প্রসবের সময় ভ্রূণের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসক দলের সঙ্গে উদ্বেগের বিষয়গুলো আলোচনা করা উচিত। উপযুক্ত যত্ন ও প্রসবের কৌশল অধিকাংশ নারীকে নিরাপদে সন্তান প্রসব করতে সহায়তা করতে পারে।
গাইড | প্রসবের সময় কোমরের ব্যথা: একটি আড়াল থাকা চ্যালেঞ্জ ও সামলানোর উপায়
গাইড | প্রসবের সময় কোমরের ব্যথা: একটি আড়াল থাকা চ্যালেঞ্জ ও সামলানোর উপায়
অনেক নারীর প্রসবের সময় কোমরের নিচে তীব্র ব্যথা হয়, যাকে প্রসবকালীন কোমরব্যথা বলা হয়। এটি সরাসরি মা বা শিশুর জন্য বিপজ্জনক না হলেও প্রসবকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। কারণ এবং প্রতিরোধ বা উপশমের উপায় জানা থাকলে গর্ভবতী নারীরা প্রস্তুত হতে পারেন।
প্রসবকালীন কোমরব্যথা কী?
প্রসবকালীন কোমরব্যথা হলো প্রসবের সময় কোমরের নিচে তীব্র ব্যথা। সংকোচনের মাঝেও এটি থাকতে পারে এবং সংকোচনের সময় বেড়ে যেতে পারে, কখনও একটানা মুচড়ে ধরার মতো ব্যথাসহ। গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় 15%-32% শতাংশ নারীর প্রসবের আগে কোমরের নিচে ব্যথা হয় এবং 5%-8% শতাংশের পুরো প্রসবকালজুড়ে প্রসবকালীন কোমরব্যথা থাকে।
প্রসবকালীন কোমরব্যথার কারণ কী?
প্রধান কারণ হলো জরায়ুতে ভ্রূণের অবস্থান।
অক্সিপিটো-পশ্চাৎ অবস্থান: ভ্রূণ মায়ের পেটের দিকে মুখ করে থাকলে তার মাথা সরাসরি মায়ের লেজের হাড়ে চাপ দিতে পারে এবং কোমরব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
শ্রোণির গঠন: মায়ের শ্রোণির আকার ও গঠন ভ্রূণের নড়াচড়া সীমিত করে কোমরব্যথার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পেশি ও লিগামেন্ট: শ্রোণির শক্ত বা দুর্বল পেশি ও লিগামেন্ট ভ্রূণকে জন্মের উপযোগী অবস্থানে যেতে বাধা দিতে পারে।
দেহভঙ্গি: খারাপ দেহভঙ্গিতে শ্রোণি সামনে বা পেছনে হেলে যেতে পারে এবং কোমরব্যথার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, মাসিকের সময় নিয়মিত কোমরব্যথা হওয়া নারীদের ভ্রূণের অবস্থান নির্বিশেষে প্রসবকালীন কোমরব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
প্রসবকালীন কোমরব্যথা কি ভ্রূণের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে?
প্রসবকালীন কোমরব্যথা নিজে সরাসরি ভ্রূণের ক্ষতি করে না, তবে ভ্রূণের অনুকূল নয় এমন অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হলে হতে পারে:
দীর্ঘ প্রসব ও মায়ের ক্লান্তি;
ফোর্সেপ বা ভ্যাকুয়াম-সহায়তায় প্রসবের প্রয়োজন;
এপিসিওটমি বা সিজারিয়ান প্রসবের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া।
বেশিরভাগ ভ্রূণ প্রসবের সময় স্বাভাবিকভাবে ভালো অবস্থানে ঘুরে যায় অথবা চিকিৎসক দল তাকে ঘুরতে সহায়তা করতে পারে।
প্রসবকালীন কোমরব্যথা প্রতিরোধের উপায়
সব সময় এটি এড়ানো যায় না, তবে নিচের পদক্ষেপগুলো সম্ভাবনা কমাতে পারে:
গর্ভাবস্থায় সক্রিয় থাকা: প্রতিদিন ব্যায়ামের বল ব্যবহার করুন বা মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করুন, যাতে ভ্রূণ অনুকূল অবস্থানে থাকে।
সঠিকভাবে বসা: গভীর সোফা ও রিক্লাইনার এড়িয়ে নিতম্বের চেয়ে হাঁটু নিচু রেখে বসুন।
প্রসবপূর্ব যত্ন: চিরোপ্র্যাকটিক চিকিৎসা বা প্রসবপূর্ব ম্যাসাজ শ্রোণির সামঞ্জস্য উন্নত করতে পারে।
প্রসবের সময় অবস্থান বদলানো: চিৎ হয়ে শোয়া এড়িয়ে কাত হয়ে বা হেলানো অবস্থান চেষ্টা করুন।
দাঁড়ানো ও নড়াচড়া: সম্ভব হলে প্রসবের সময় হাঁটুন, বসুন বা লাঞ্জ করুন; মাধ্যাকর্ষণ ভ্রূণকে ঘুরতে সাহায্য করতে পারে।
প্রসবকালীন কোমরব্যথা উপশমের উপায়
প্রসবের সময় নিচের উপায়গুলো সহায়ক হতে পারে:
কোমরের নিচে গরম বা ঠান্ডা সেঁক;
ম্যাসাজ বা চাপ দিয়ে মালিশ;
কুসুম গরম পানিতে গোসল বা শাওয়ার;
টেনিস বল বা রোলার দিয়ে চাপ;
উষ্ণ চাল ভরা মোজার মতো হিট প্যাক;
এপিডুরালসহ ব্যথানাশক ওষুধ।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
গর্ভবতী নারীদের প্রসবের সময় ভ্রূণের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসক দলের সঙ্গে উদ্বেগের বিষয়গুলো আলোচনা করা উচিত। উপযুক্ত যত্ন ও প্রসবের কৌশল অধিকাংশ নারীকে নিরাপদে সন্তান প্রসব করতে সহায়তা করতে পারে।
উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত