জ্ঞান | নুচাল কর্ড: একটি সাধারণ প্রসূতিবিষয়ক অবস্থা, যা খুব কম ক্ষেত্রেই ক্ষতি করে
নুচাল কর্ড কী?
জরায়ুর ভেতরে ভ্রূণের নাভিরজ্জু এক বা একাধিকবার গলায় পেঁচিয়ে গেলে তাকে নুচাল কর্ড বলা হয়। নাভিরজ্জু নমনীয়, নলাকৃতি একটি গঠন, যা ভ্রূণের কাছে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয় এবং বর্জ্য অপসারণ করে। এতে দুটি ধমনি ও একটি শিরা থাকে, যা হোয়ার্থনের জেলি নামের পদার্থ দ্বারা সুরক্ষিত।
নুচাল কর্ড দুই ধরনের:
টাইপ এ নুচাল কর্ড (আনলকড): কর্ডটি অবাধে নড়াচড়া করতে পারে এবং সাধারণত নিজে থেকেই খুলে যায়।
টাইপ বি নুচাল কর্ড (লকড): কর্ডটি বেশি শক্ত করে পেঁচানো থাকে এবং নিজে থেকে খোলার সম্ভাবনা কম।
নুচাল কর্ডের কারণ
জরায়ুর ভেতরে ভ্রূণের নড়াচড়াই নুচাল কর্ডের প্রধান কারণ। অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ:
অ্যামনিওটিক তরল বেশি থাকা: ভ্রূণের নড়াচড়ার জন্য বেশি জায়গা তৈরি হয়;
নাভিরজ্জু দীর্ঘ হওয়া: ভ্রূণের শরীরের চারপাশে পেঁচিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
গর্ভাবস্থা এগোনোর সঙ্গে নুচাল কর্ডের সম্ভাবনা বাড়ে। 20 সপ্তাহে প্রায় 6% ভ্রূণের নুচাল কর্ড থাকে, যা 42 সপ্তাহে বেড়ে 29% হয়।
পুরুষ ভ্রূণের ক্ষেত্রে নুচাল কর্ড বেশি দেখা যায়, তবে মায়ের বয়স ও জাতিগত পরিচয় এর প্রকোপে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না।
ঝুঁকি ও সম্ভাব্য জটিলতা
নুচাল কর্ড সাধারণত ভ্রূণের ক্ষতি করে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে এসব জটিলতা সম্পর্কিত হতে পারে:
নাভিরজ্জুতে গিঁট;
ভ্রূণের বৃদ্ধি বিলম্বিত হওয়া;
অ্যামনিওটিক তরল কমে যাওয়া;
ভ্রূণের নড়াচড়া কমে যাওয়া;
গর্ভকাল দীর্ঘায়িত হওয়া;
জরায়ুর ভেতরে ভ্রূণের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া (IUGR);
রক্তাল্পতা বা রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া;
মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস;
মৃত সন্তান প্রসব।
কর্ডটি খুব শক্ত হলে টাইট নুচাল কর্ড সিনড্রোম (tCAN) হতে পারে। এর লক্ষণের মধ্যে ঘাড়, মুখ ও চোখে রক্তের দাগ, ঘাড়ে ঘষা লেগে ক্ষত এবং মুখের ত্বক বেগুনি-লাল হয়ে যাওয়া রয়েছে।
নুচাল কর্ড কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
প্রসবপূর্ব আল্ট্রাসাউন্ডে কখনও নুচাল কর্ড শনাক্ত করা যায়, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রসবের সময় এটি নির্ণয় হয়। এটি সাধারণ ঘটনা হওয়ায় প্রসবের সময় চিকিৎসকেরা নিয়মিত গলায় কর্ড পেঁচানো আছে কি না পরীক্ষা করেন।
নুচাল কর্ডের ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হয়?
বর্তমানে নুচাল কর্ডের কোনো প্রসবপূর্ব চিকিৎসা নেই। প্রসবের আগে এটি শনাক্ত হলে ভ্রূণের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রসব চলাকালে চিকিৎসক ভ্রূণের হৃদস্পন্দন আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
প্রসবের সময় বেশিরভাগ নুচাল কর্ড ঢিলা থাকে এবং শিশুর মাথার ওপর দিয়ে সহজেই সরিয়ে নেওয়া যায়। কর্ডটি খুব শক্ত হলে প্লাসেন্টার ক্ষতি এড়াতে শিশুকে পুরোপুরি প্রসব করানোর আগে চিকিৎসক সেটি ক্ল্যাম্প করে কেটে দিতে পারেন।
নুচাল কর্ডের কারণে ভ্রূণের হৃদস্পন্দন কমে গেলে কর্ডের ওপর চাপ কমাতে চিকিৎসক রোগীকে অবস্থান বদলাতে বলতে পারেন এবং অতিরিক্ত অক্সিজেন বা শিরাপথে তরল দিতে পারেন। হৃদস্পন্দনের উন্নতি না হলে জরায়ুর সংকোচন ধীর করতে ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে, অথবা সিজারিয়ান প্রসবের প্রয়োজন হতে পারে।
নুচাল কর্ড নিয়ে কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?
নুচাল কর্ড সাধারণ ঘটনা এবং সাধারণত ভ্রূণের স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে না। গবেষণায় দেখা যায়, এতে কম Apgar স্কোর, বিকাশজনিত সমস্যা বা মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না। উদ্বেগ থাকলে পেশাদারি পরামর্শ ও সহায়তার জন্য গর্ভবতী নারীদের প্রসবের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।
জ্ঞান | নাভিরজ্জু জড়িয়ে থাকা: একটি সাধারণ প্রসূতিবিষয়ক অবস্থা, যা খুব কম ক্ষেত্রেই ক্ষতি করে
জ্ঞান | নুচাল কর্ড: একটি সাধারণ প্রসূতিবিষয়ক অবস্থা, যা খুব কম ক্ষেত্রেই ক্ষতি করে
নুচাল কর্ড কী?
জরায়ুর ভেতরে ভ্রূণের নাভিরজ্জু এক বা একাধিকবার গলায় পেঁচিয়ে গেলে তাকে নুচাল কর্ড বলা হয়। নাভিরজ্জু নমনীয়, নলাকৃতি একটি গঠন, যা ভ্রূণের কাছে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয় এবং বর্জ্য অপসারণ করে। এতে দুটি ধমনি ও একটি শিরা থাকে, যা হোয়ার্থনের জেলি নামের পদার্থ দ্বারা সুরক্ষিত।
নুচাল কর্ড দুই ধরনের:
টাইপ এ নুচাল কর্ড (আনলকড): কর্ডটি অবাধে নড়াচড়া করতে পারে এবং সাধারণত নিজে থেকেই খুলে যায়।
টাইপ বি নুচাল কর্ড (লকড): কর্ডটি বেশি শক্ত করে পেঁচানো থাকে এবং নিজে থেকে খোলার সম্ভাবনা কম।
নুচাল কর্ডের কারণ
জরায়ুর ভেতরে ভ্রূণের নড়াচড়াই নুচাল কর্ডের প্রধান কারণ। অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ:
অ্যামনিওটিক তরল বেশি থাকা: ভ্রূণের নড়াচড়ার জন্য বেশি জায়গা তৈরি হয়;
নাভিরজ্জু দীর্ঘ হওয়া: ভ্রূণের শরীরের চারপাশে পেঁচিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
গর্ভাবস্থা এগোনোর সঙ্গে নুচাল কর্ডের সম্ভাবনা বাড়ে। 20 সপ্তাহে প্রায় 6% ভ্রূণের নুচাল কর্ড থাকে, যা 42 সপ্তাহে বেড়ে 29% হয়।
পুরুষ ভ্রূণের ক্ষেত্রে নুচাল কর্ড বেশি দেখা যায়, তবে মায়ের বয়স ও জাতিগত পরিচয় এর প্রকোপে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না।
ঝুঁকি ও সম্ভাব্য জটিলতা
নুচাল কর্ড সাধারণত ভ্রূণের ক্ষতি করে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে এসব জটিলতা সম্পর্কিত হতে পারে:
নাভিরজ্জুতে গিঁট;
ভ্রূণের বৃদ্ধি বিলম্বিত হওয়া;
অ্যামনিওটিক তরল কমে যাওয়া;
ভ্রূণের নড়াচড়া কমে যাওয়া;
গর্ভকাল দীর্ঘায়িত হওয়া;
জরায়ুর ভেতরে ভ্রূণের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া (IUGR);
রক্তাল্পতা বা রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া;
মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস;
মৃত সন্তান প্রসব।
কর্ডটি খুব শক্ত হলে টাইট নুচাল কর্ড সিনড্রোম (tCAN) হতে পারে। এর লক্ষণের মধ্যে ঘাড়, মুখ ও চোখে রক্তের দাগ, ঘাড়ে ঘষা লেগে ক্ষত এবং মুখের ত্বক বেগুনি-লাল হয়ে যাওয়া রয়েছে।
নুচাল কর্ড কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
প্রসবপূর্ব আল্ট্রাসাউন্ডে কখনও নুচাল কর্ড শনাক্ত করা যায়, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রসবের সময় এটি নির্ণয় হয়। এটি সাধারণ ঘটনা হওয়ায় প্রসবের সময় চিকিৎসকেরা নিয়মিত গলায় কর্ড পেঁচানো আছে কি না পরীক্ষা করেন।
নুচাল কর্ডের ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হয়?
বর্তমানে নুচাল কর্ডের কোনো প্রসবপূর্ব চিকিৎসা নেই। প্রসবের আগে এটি শনাক্ত হলে ভ্রূণের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রসব চলাকালে চিকিৎসক ভ্রূণের হৃদস্পন্দন আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
প্রসবের সময় বেশিরভাগ নুচাল কর্ড ঢিলা থাকে এবং শিশুর মাথার ওপর দিয়ে সহজেই সরিয়ে নেওয়া যায়। কর্ডটি খুব শক্ত হলে প্লাসেন্টার ক্ষতি এড়াতে শিশুকে পুরোপুরি প্রসব করানোর আগে চিকিৎসক সেটি ক্ল্যাম্প করে কেটে দিতে পারেন।
নুচাল কর্ডের কারণে ভ্রূণের হৃদস্পন্দন কমে গেলে কর্ডের ওপর চাপ কমাতে চিকিৎসক রোগীকে অবস্থান বদলাতে বলতে পারেন এবং অতিরিক্ত অক্সিজেন বা শিরাপথে তরল দিতে পারেন। হৃদস্পন্দনের উন্নতি না হলে জরায়ুর সংকোচন ধীর করতে ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে, অথবা সিজারিয়ান প্রসবের প্রয়োজন হতে পারে।
নুচাল কর্ড নিয়ে কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?
নুচাল কর্ড সাধারণ ঘটনা এবং সাধারণত ভ্রূণের স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে না। গবেষণায় দেখা যায়, এতে কম Apgar স্কোর, বিকাশজনিত সমস্যা বা মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না। উদ্বেগ থাকলে পেশাদারি পরামর্শ ও সহায়তার জন্য গর্ভবতী নারীদের প্রসবের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।
উৎস:
অনলাইনে সংগৃহীত