জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পরামর্শ
শিশু বেড়ে উঠলে গর্ভবতী শরীরে পরিবর্তন আসে—আর পিঠের ব্যথা তার অন্যতম সাধারণ ও বিরক্তিকর প্রভাব। ‘গর্ভাবস্থায় নারীর শরীর ক্রমাগত বদলাতে থাকে, আর মেরুদণ্ডও এর ব্যতিক্রম নয়,’ বলেছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের Cedars-Sinai Spine Center-এর অর্থোপেডিক সার্জারির অধ্যাপক ও স্পাইন ট্রমা সার্জারির পরিচালক ডা. Neel Anand।
মাধ্যাকর্ষণের কেন্দ্র সামনে সরে গেলে শরীর স্বতঃস্ফূর্তভাবে পেছনে হেলে যায়, এতে কোমরের স্বাভাবিক বাঁক বেড়ে গর্ভাবস্থাজনিত পিঠের ব্যথা হতে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, গর্ভাবস্থায় 50% থেকে 70% শতাংশ নারী কোনো না কোনো মাত্রায় পিঠের ব্যথায় ভোগেন। এই অস্বস্তি উপশম ছাড়া সহ্য করতে হবে না। ডা. Anand কয়েকটি সহজ ও কার্যকর পদ্ধতির পরামর্শ দেন।
পিঠের ব্যথা কমাতে দৈনন্দিন পাঁচটি পরামর্শ:
দাঁড়ানোর সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখুন
‘সোজা হয়ে দাঁড়ান’ কথাটি পরিচিত শোনালেও গর্ভাবস্থার শেষ দিকে তা ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে। পিঠের পেশি প্রশিক্ষণের জন্য ডা. Anand একটি সহজ ব্যায়ামের পরামর্শ দেন: উরুর ওপর হাত রেখে এবং কাঁধ শিথিল করে চেয়ারে বসুন। কাঁধ পেছনে টেনে কাঁধের পাটাগুলো একসঙ্গে চেপে ধরুন, 5 সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর শিথিল করুন। ভঙ্গি উন্নত ও কোমরের ওপর চাপ কমাতে দিনে তিন থেকে চারবার পুনরাবৃত্তি করুন।
পরিমিত ব্যায়াম করুন—বিশেষ করে সাঁতার, হাঁটা বা স্থির সাইকেল ব্যবহার
‘গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো ব্যায়াম,’ বলেছেন ডা. Anand। ‘এটি পেশি শক্তিশালী করে এবং নমনীয়তা বাড়ায়, ফলে মেরুদণ্ড শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।’ সাঁতার, হাঁটা ও স্থির সাইকেল চালানো কম-ধাক্কার ব্যায়াম, যা সাধারণত গর্ভাবস্থায় উপযোগী।
উঁচু হিল এড়িয়ে সহায়ক জুতা বেছে নিন
ডা. Anand উল্লেখ করেন, কম সহায়তাযুক্ত বা উঁচু হিলের জুতা শ্রোণির সঠিক অবস্থান বদলে পিঠের ব্যথা সৃষ্টি বা বাড়াতে পারে, এমনকি গর্ভাবস্থার বাইরেও। প্রসবের পর অন্তত কিছুদিন পর্যন্ত ভালো কুশনিং ও আর্চ সাপোর্টযুক্ত সমতল জুতা বা স্নিকার্স বেছে নিন।
বালিশের অবস্থান বদলে ঘুমের ভঙ্গি উন্নত করুন
গর্ভাবস্থায় পছন্দনীয় ঘুমের ভঙ্গি হলো কাত হয়ে শোয়া এবং কোমরের ওপর চাপ কমাতে হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখা। ওপরের পিঠে ব্যথা হলে দুই বাহুর মাঝে বালিশ রাখুন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে পেটের নিচে বালিশ রাখলে সহায়তা মিলতে পারে। ‘কিছু গর্ভবতী রোগী পিঠ, পা ও পেট শিথিল করতে পুরো শরীরের বালিশ পছন্দ করেন,’ বলেছেন ডা. Anand।
দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন
গর্ভাবস্থার অধিকাংশ পিঠের ব্যথায় বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে ডা. Anand জোর দিয়ে বলেন: ‘নিজের শরীরের কথা শুনুন। কিছু ভুল মনে হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে দ্বিধা করবেন না।’ চিকিৎসক কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন, যা প্রসবের পর সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা কমাতে তিনটি স্ট্রেচ:
প্রসবপূর্ব যোগব্যায়ামের ক্লাসে যাওয়ার সময় না থাকলেও বাড়িতে এই তিনটি সহজ ব্যায়াম করতে পারেন, যেগুলো ডা. Anand দৃঢ়ভাবে সুপারিশ করেন:
বিড়াল ভঙ্গির স্ট্রেচ
হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে পিঠ বাঁকিয়ে পেট ভেতরে টেনে নিন। 10 থেকে 20 সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর শিথিল করুন। পুরো পিঠের জড়তা কমাতে 10 বার পুনরাবৃত্তি করুন।
দাঁড়িয়ে শ্রোণি কাত করা
দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে এবং পা কাঁধ-সমান দূরত্বে রেখে দাঁড়ান। কোমরের নিচের অংশ আলতো করে দেয়ালের দিকে চাপুন, কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর শিথিল করুন। কোমরের নিচের অংশ শক্তিশালী করতে 10 বার পুনরাবৃত্তি করুন।
ফিটনেস বল স্ট্রেচ
দেয়ালের সামনে রাখা ফিটনেস বলের সঙ্গে পিঠ ঠেকিয়ে মেঝেতে বসুন। হাঁটু ভাঁজ করে পা মেঝেতে সমতল রাখুন এবং কোমরে হাত রাখুন। ধীরে ধীরে কোমরের নিচের অংশ বলের দিকে চাপুন, 10 থেকে 20 সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর শুরুর অবস্থায় ফিরুন। 10 বার পুনরাবৃত্তি করুন।
সারাংশ:
গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা সবসময় এড়ানো যায় না, তবে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, উপযুক্ত ব্যায়াম এবং সহায়ক ঘুমের ভঙ্গি অস্বস্তি কমাতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথা হলে মা ও ভ্রূণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত চিকিৎসা নিন।
জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পরামর্শ
জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পরামর্শ
শিশু বেড়ে উঠলে গর্ভবতী শরীরে পরিবর্তন আসে—আর পিঠের ব্যথা তার অন্যতম সাধারণ ও বিরক্তিকর প্রভাব। ‘গর্ভাবস্থায় নারীর শরীর ক্রমাগত বদলাতে থাকে, আর মেরুদণ্ডও এর ব্যতিক্রম নয়,’ বলেছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের Cedars-Sinai Spine Center-এর অর্থোপেডিক সার্জারির অধ্যাপক ও স্পাইন ট্রমা সার্জারির পরিচালক ডা. Neel Anand।
মাধ্যাকর্ষণের কেন্দ্র সামনে সরে গেলে শরীর স্বতঃস্ফূর্তভাবে পেছনে হেলে যায়, এতে কোমরের স্বাভাবিক বাঁক বেড়ে গর্ভাবস্থাজনিত পিঠের ব্যথা হতে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, গর্ভাবস্থায় 50% থেকে 70% শতাংশ নারী কোনো না কোনো মাত্রায় পিঠের ব্যথায় ভোগেন। এই অস্বস্তি উপশম ছাড়া সহ্য করতে হবে না। ডা. Anand কয়েকটি সহজ ও কার্যকর পদ্ধতির পরামর্শ দেন।
পিঠের ব্যথা কমাতে দৈনন্দিন পাঁচটি পরামর্শ:
দাঁড়ানোর সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখুন
‘সোজা হয়ে দাঁড়ান’ কথাটি পরিচিত শোনালেও গর্ভাবস্থার শেষ দিকে তা ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে। পিঠের পেশি প্রশিক্ষণের জন্য ডা. Anand একটি সহজ ব্যায়ামের পরামর্শ দেন: উরুর ওপর হাত রেখে এবং কাঁধ শিথিল করে চেয়ারে বসুন। কাঁধ পেছনে টেনে কাঁধের পাটাগুলো একসঙ্গে চেপে ধরুন, 5 সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর শিথিল করুন। ভঙ্গি উন্নত ও কোমরের ওপর চাপ কমাতে দিনে তিন থেকে চারবার পুনরাবৃত্তি করুন।
পরিমিত ব্যায়াম করুন—বিশেষ করে সাঁতার, হাঁটা বা স্থির সাইকেল ব্যবহার
‘গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো ব্যায়াম,’ বলেছেন ডা. Anand। ‘এটি পেশি শক্তিশালী করে এবং নমনীয়তা বাড়ায়, ফলে মেরুদণ্ড শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।’ সাঁতার, হাঁটা ও স্থির সাইকেল চালানো কম-ধাক্কার ব্যায়াম, যা সাধারণত গর্ভাবস্থায় উপযোগী।
উঁচু হিল এড়িয়ে সহায়ক জুতা বেছে নিন
ডা. Anand উল্লেখ করেন, কম সহায়তাযুক্ত বা উঁচু হিলের জুতা শ্রোণির সঠিক অবস্থান বদলে পিঠের ব্যথা সৃষ্টি বা বাড়াতে পারে, এমনকি গর্ভাবস্থার বাইরেও। প্রসবের পর অন্তত কিছুদিন পর্যন্ত ভালো কুশনিং ও আর্চ সাপোর্টযুক্ত সমতল জুতা বা স্নিকার্স বেছে নিন।
বালিশের অবস্থান বদলে ঘুমের ভঙ্গি উন্নত করুন
গর্ভাবস্থায় পছন্দনীয় ঘুমের ভঙ্গি হলো কাত হয়ে শোয়া এবং কোমরের ওপর চাপ কমাতে হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখা। ওপরের পিঠে ব্যথা হলে দুই বাহুর মাঝে বালিশ রাখুন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে পেটের নিচে বালিশ রাখলে সহায়তা মিলতে পারে। ‘কিছু গর্ভবতী রোগী পিঠ, পা ও পেট শিথিল করতে পুরো শরীরের বালিশ পছন্দ করেন,’ বলেছেন ডা. Anand।
দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন
গর্ভাবস্থার অধিকাংশ পিঠের ব্যথায় বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে ডা. Anand জোর দিয়ে বলেন: ‘নিজের শরীরের কথা শুনুন। কিছু ভুল মনে হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে দ্বিধা করবেন না।’ চিকিৎসক কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন, যা প্রসবের পর সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা কমাতে তিনটি স্ট্রেচ:
প্রসবপূর্ব যোগব্যায়ামের ক্লাসে যাওয়ার সময় না থাকলেও বাড়িতে এই তিনটি সহজ ব্যায়াম করতে পারেন, যেগুলো ডা. Anand দৃঢ়ভাবে সুপারিশ করেন:
বিড়াল ভঙ্গির স্ট্রেচ
হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে পিঠ বাঁকিয়ে পেট ভেতরে টেনে নিন। 10 থেকে 20 সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর শিথিল করুন। পুরো পিঠের জড়তা কমাতে 10 বার পুনরাবৃত্তি করুন।
দাঁড়িয়ে শ্রোণি কাত করা
দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে এবং পা কাঁধ-সমান দূরত্বে রেখে দাঁড়ান। কোমরের নিচের অংশ আলতো করে দেয়ালের দিকে চাপুন, কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর শিথিল করুন। কোমরের নিচের অংশ শক্তিশালী করতে 10 বার পুনরাবৃত্তি করুন।
ফিটনেস বল স্ট্রেচ
দেয়ালের সামনে রাখা ফিটনেস বলের সঙ্গে পিঠ ঠেকিয়ে মেঝেতে বসুন। হাঁটু ভাঁজ করে পা মেঝেতে সমতল রাখুন এবং কোমরে হাত রাখুন। ধীরে ধীরে কোমরের নিচের অংশ বলের দিকে চাপুন, 10 থেকে 20 সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর শুরুর অবস্থায় ফিরুন। 10 বার পুনরাবৃত্তি করুন।
সারাংশ:
গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা সবসময় এড়ানো যায় না, তবে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, উপযুক্ত ব্যায়াম এবং সহায়ক ঘুমের ভঙ্গি অস্বস্তি কমাতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথা হলে মা ও ভ্রূণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত চিকিৎসা নিন।
প্রতিবেদনের উৎস:
অনলাইন থেকে সংগৃহীত