প্রায় অর্ধেক গর্ভবতী নারীর পায়ের উপরিভাগের শিরা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়, যাকে ভেরিকোজ ভেইন বলা হয়। এসব শিরায় একমুখী ভালভ থাকে, যা মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে রক্তকে হৃদ্যন্ত্রে ফিরতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় শিরাগুলো প্রশস্ত হয় এবং বেড়ে ওঠা জরায়ু বড় রক্তনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, ফলে পায়ের শিরায় রক্ত জমে থাকে।
গর্ভাবস্থায় ভেরিকোজ ভেইনের কারণ
ভেরিকোজ ভেইন প্রায়ই বংশগত হয়, তাই আপনার মায়েরও এটি থাকতে পারে। গর্ভাবস্থায় রক্তের পরিমাণ 20% পর্যন্ত বাড়তে পারে, কিন্তু রক্তনালির সংখ্যা বাড়ে না, ফলে রক্তসঞ্চালন তন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। প্রোজেস্টেরনের মতো হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে শ্রোণির লিগামেন্ট এবং শিরার দেয়ালের কোষ শিথিল হয়, ফলে রক্তের ওপরের দিকে প্রবাহিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শিরায় চাপ বেড়ে গেলে ভালভের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে এবং ভেরিকোজ ভেইন আরও খারাপ হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ভেরিকোজ ভেইনের উপসর্গ
ভেরিকোজ ভেইন সাধারণত পায়ের ভেতরের দিকে বা কাফের পেছনে আঁকাবাঁকা, ফুলে ওঠা নীল বা বেগুনি শিরা হিসেবে দেখা যায়। উপসর্গের মধ্যে পা বা গোড়ালিতে সামান্য ফোলা, পায়ে ব্যথা, ধুকপুকানি, ভারী লাগা এবং টান ধরা থাকতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে শিরার অকার্যকারিতার কারণে ত্বক ক্ষয়ে যাওয়া, ফ্লেবাইটিস বা রক্ত জমাট বাঁধতে পারে।
চিকিৎসা ও উপশম
কমপ্রেশন স্টকিংস ভেরিকোজ ভেইনের উপসর্গ কমানোর কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এগুলো বিভিন্ন ধরন, কমপ্রেশনের মাত্রা ও মাপে পাওয়া যায়। 20 থেকে 30 mmHg মাত্রার মাঝারি থেকে উচ্চ কমপ্রেশনের স্টকিংস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিছু গর্ভবতী নারী ঘোড়ার চেস্টনাট নির্যাসযুক্ত পণ্য ব্যবহার করেছেন, কিন্তু প্রক্রিয়াজাত না করা ফুল, পাতা ও বীজ বিষাক্ত এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা গর্ভাবস্থায় এগুলো এড়াতে বলেন। প্রসবের পর সাধারণত ভেরিকোজ ভেইন নিজে থেকেই কমে যায়, তাই গর্ভাবস্থায় অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয় না।
ভেরিকোজ ভেইন প্রতিরোধের পরামর্শ
প্রতিরোধের মধ্যে পা উঁচু করে রাখা, চিকিৎসকের অনুমোদন নিয়ে কম তীব্রতার ব্যায়াম করা, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা এড়ানো এবং নিয়মিত পা নাড়াচাড়া করা অন্তর্ভুক্ত। বাঁ দিকে কাত হয়ে ঘুমালে ডান পাশে থাকা নিম্নতর ভেনা কাভার ওপর চাপ কমতে পারে। মাতৃত্বকালীন সাপোর্ট স্টকিংসও উপকারী হতে পারে। লবণ কম খাওয়া, বেশি পানি পান করা, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে বেশি আঁশ খাওয়া এবং উঁচু হিল এড়ানো রক্তসঞ্চালনে সহায়তা করতে পারে।
হেমোরয়েড ও ভেরিকোজ ভেইন
মলদ্বারের চারপাশেও ভেরিকোজ ভেইন হতে পারে, যাকে হেমোরয়েড বলা হয়। অভ্যন্তরীণ হেমোরয়েডের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হলো রক্তপাত। অন্যদিকে, বাহ্যিক হেমোরয়েডে পায়খানা মোছার সময় বা চাপ দিলে ব্যথা ও রক্তপাত হতে পারে। গর্ভাবস্থার আগে অতিরিক্ত ওজন থাকা বা প্রসবের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হেমোরয়েড আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং জীবনযাত্রার মানে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রসবের পর সেরে ওঠা
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রসবের 3 মাসের মধ্যে ভেরিকোজ ভেইন অদৃশ্য হয়ে যায়। প্রসবের পরও লালচে ভাব, ফোলা, স্পর্শে ব্যথা বা রক্তপাত থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
জ্ঞান | গর্ভাবস্থায় পায়ের ভেরিকোস ভেইন: ব্যথা ও অস্বস্তি কমানোর উপায়
গাইড | গর্ভাবস্থায় ভেরিকোজ ভেইন: ব্যথা ও অস্বস্তি কীভাবে কমানো যায়?
ভেরিকোজ ভেইন কী?
প্রায় অর্ধেক গর্ভবতী নারীর পায়ের উপরিভাগের শিরা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়, যাকে ভেরিকোজ ভেইন বলা হয়। এসব শিরায় একমুখী ভালভ থাকে, যা মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে রক্তকে হৃদ্যন্ত্রে ফিরতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় শিরাগুলো প্রশস্ত হয় এবং বেড়ে ওঠা জরায়ু বড় রক্তনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, ফলে পায়ের শিরায় রক্ত জমে থাকে।
গর্ভাবস্থায় ভেরিকোজ ভেইনের কারণ
ভেরিকোজ ভেইন প্রায়ই বংশগত হয়, তাই আপনার মায়েরও এটি থাকতে পারে। গর্ভাবস্থায় রক্তের পরিমাণ 20% পর্যন্ত বাড়তে পারে, কিন্তু রক্তনালির সংখ্যা বাড়ে না, ফলে রক্তসঞ্চালন তন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। প্রোজেস্টেরনের মতো হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে শ্রোণির লিগামেন্ট এবং শিরার দেয়ালের কোষ শিথিল হয়, ফলে রক্তের ওপরের দিকে প্রবাহিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শিরায় চাপ বেড়ে গেলে ভালভের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে এবং ভেরিকোজ ভেইন আরও খারাপ হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ভেরিকোজ ভেইনের উপসর্গ
ভেরিকোজ ভেইন সাধারণত পায়ের ভেতরের দিকে বা কাফের পেছনে আঁকাবাঁকা, ফুলে ওঠা নীল বা বেগুনি শিরা হিসেবে দেখা যায়। উপসর্গের মধ্যে পা বা গোড়ালিতে সামান্য ফোলা, পায়ে ব্যথা, ধুকপুকানি, ভারী লাগা এবং টান ধরা থাকতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে শিরার অকার্যকারিতার কারণে ত্বক ক্ষয়ে যাওয়া, ফ্লেবাইটিস বা রক্ত জমাট বাঁধতে পারে।
চিকিৎসা ও উপশম
কমপ্রেশন স্টকিংস ভেরিকোজ ভেইনের উপসর্গ কমানোর কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এগুলো বিভিন্ন ধরন, কমপ্রেশনের মাত্রা ও মাপে পাওয়া যায়। 20 থেকে 30 mmHg মাত্রার মাঝারি থেকে উচ্চ কমপ্রেশনের স্টকিংস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিছু গর্ভবতী নারী ঘোড়ার চেস্টনাট নির্যাসযুক্ত পণ্য ব্যবহার করেছেন, কিন্তু প্রক্রিয়াজাত না করা ফুল, পাতা ও বীজ বিষাক্ত এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা গর্ভাবস্থায় এগুলো এড়াতে বলেন। প্রসবের পর সাধারণত ভেরিকোজ ভেইন নিজে থেকেই কমে যায়, তাই গর্ভাবস্থায় অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয় না।
ভেরিকোজ ভেইন প্রতিরোধের পরামর্শ
প্রতিরোধের মধ্যে পা উঁচু করে রাখা, চিকিৎসকের অনুমোদন নিয়ে কম তীব্রতার ব্যায়াম করা, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা এড়ানো এবং নিয়মিত পা নাড়াচাড়া করা অন্তর্ভুক্ত। বাঁ দিকে কাত হয়ে ঘুমালে ডান পাশে থাকা নিম্নতর ভেনা কাভার ওপর চাপ কমতে পারে। মাতৃত্বকালীন সাপোর্ট স্টকিংসও উপকারী হতে পারে। লবণ কম খাওয়া, বেশি পানি পান করা, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে বেশি আঁশ খাওয়া এবং উঁচু হিল এড়ানো রক্তসঞ্চালনে সহায়তা করতে পারে।
হেমোরয়েড ও ভেরিকোজ ভেইন
মলদ্বারের চারপাশেও ভেরিকোজ ভেইন হতে পারে, যাকে হেমোরয়েড বলা হয়। অভ্যন্তরীণ হেমোরয়েডের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হলো রক্তপাত। অন্যদিকে, বাহ্যিক হেমোরয়েডে পায়খানা মোছার সময় বা চাপ দিলে ব্যথা ও রক্তপাত হতে পারে। গর্ভাবস্থার আগে অতিরিক্ত ওজন থাকা বা প্রসবের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হেমোরয়েড আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং জীবনযাত্রার মানে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রসবের পর সেরে ওঠা
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রসবের 3 মাসের মধ্যে ভেরিকোজ ভেইন অদৃশ্য হয়ে যায়। প্রসবের পরও লালচে ভাব, ফোলা, স্পর্শে ব্যথা বা রক্তপাত থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
উৎস:
অনলাইনে সংগৃহীত